Tuesday, 2 February 2016

বই কি সর্বদা নিরপেক্ষ !

বিভিন্ন শিক্ষালয় গুলিতে প্রায়শই ছাত্রছাত্রীদের শুনতে হয় 'বইয়ের থেকে বেশি জানো?' আর ছাত্রছাত্রীরা তখন মাথা চুলকে চুপ হয়ে যায়৷ সত্যিই তো অত মোটা মোটা বই,অত লেখা থাকে, অল্প পড়াই মনে থাকে না আর বইয়ের থেকে বেশি জানবো কি করে!
বই হল জ্ঞানের প্রসারের অন্যতম পন্থা,বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা ভাবনা বইয়ের মাধ্যমে খুব সহজে ছড়িয়ে দেওয়া  সম্ভব৷তাই বই কে হতে হয় তথ্যপূর্ন,যুক্তিপূর্ন,সঠিক ঘটনাবলিযুক্ত, এবং অবশ্যই নিরপেক্ষ৷
বর্তমান পরিস্থিতিতে সমাজব্যবস্থা এবং ক্ষমতার ধারকদের চাপে বইগুলি নিরপেক্ষ নয় তো বটেই বরং তাদের উপযুক্ত অনুকূল তথ্যের দ্বারা পূর্ন করা হয়৷ অনেকক্ষেত্রে দেখাও যায় বইগুলি সঠিক ধারনার ব্যাখ্যা দিতে অক্ষম৷ ইতিহান বইয়ের পাতা  ঘাটলে দেখা যায় তাজমহল কে মমতাজের প্রতি শাহাজাহানের ভালোবাসার  স্মৃতি স্বরুপ সৃষ্টি বলা হয় ৷ প্রকৃতপক্ষে  "মমতাজ" মারা যান ১৪  তম সন্তানের জন্মদেবার সময় ,পরবর্তী কালে শাহাজাহান "মমতাজের বোন" কে বিয়ে করেন৷  এরকম অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরা হয়না যা সকলের মধ্যে ভুল ধারণার সৃষ্টি করে ৷ বর্তমান সময়ে "মগজ ধোলাই" হিসেবে চতুর রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বই কে পথ হিসেবে পছন্দ করেছেন৷ যদি শৈশব থেকে "মগজ ধোলাই" এর ব্যবস্থা করা হয় তাহলে সঠিক সময়ে তাদের পক্ষের সৈনিক পাওয়া অসম্ভব হবে না | রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যখন কেও আসে তখন তার স্বেচ্ছাচারিতা চলে এবং তার প্রশংসা ও ভাবনা সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়া দরুন  বইকে ব্যবহার করা হয়৷ অনেকটা একইভাবে মাদ্রাজাগুলিতে সমস্ত শিশুদের ইসলামের নামে "বিতর্কীত জেহাদি" করার প্রস্তুতি স্বরুপ কুরানের নামে "মগজ ধোলাই" চলে৷ ঠিক তেমনই বর্তমানের তথাকথিত হিন্দুসরকার শৈশব শিক্ষা জগতে রামায়ন,মহাভারত পঠনপাঠনের মাধ্যমে হিন্দুত্বের বীজ বপন করার সংকল্প করেছে৷
সুতরাং এবার যদি কেও বলে বইয়ের থেকে বেশি জানো নাকি !তখন বলবে বই কী সঠিক জানে?

No comments:

Post a Comment