Tuesday, 2 February 2016

'লেডিগোল' -ইরানীয় মহিলা ফুটবলার ও তার লিঙ্গবৈষম্যের দরুন স্বপ্নভঙ্গ

খেলা মানুষের কাছে মুলত ভোগ্যপন্য ও শৌখিন বিষয় হলেও  তার যে বিভিন্ন গুনাবলী রয়েছে তা সম্বন্ধে কারও মতবিরোধ হবে বলে মনে হয় না৷ খেলা মানুষ কে দায়িত্ববান,সততা এবং আরও অনেক গুনাবলী পুরস্কার স্বরুপ প্রদান করে৷ খেলার ক্ষেত্রে জাতীয় দল মূলত উপযুক্ত যোগ্যদের নিয়ে লিঙ্গ নির্বিশেষে গঠন না হওয়া টা  আমাদের প্রকৃত অবস্থার কথা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়৷ তবে লিঙ্গবৈষম্যের ঘোরকলিতে যেখানে মেয়েদের  ধর্ষন এর কারন হিসেব মেয়েদের কাপড় কে দায়ি করা হয় এমন পরিস্থিতিতেও খেলার জগতে 'মহিলাদের' অদম্য লড়ার ক্ষমতা এবং প্রচেষ্টা কে কুর্ণিশ জানাই৷ যে কোনো খেলার ক্ষেত্রেই মনে করা হয়, খেলা সমস্ত মানুষ কে সংকীর্নতার উর্দ্ধে গিয়ে পরস্পরের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপনে সহযোগিতা করে৷ তবে বারংবার নানারকমের সংকীর্নতা বহুক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলেছে৷ ইরানের মহিলা জাতীয় দলের অধিনায়ক তথা  বর্তমানের সেরা ফুটবলার 'নিলোওফার আরডালান' যিনি ফুটবল জগতে গোলঅর্জনের এক অসামান্য ক্ষমতার দরুন "লেডি গোল" নামে পরিচিত তিনি পর্যন্ত লিঙ্গবৈষম্যের চরমতম শিকার৷ ইরান এশিয়ান গেমসের দরুন মালেশিয়া যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল৷ তার পূর্বে লিঙ্গবৈষমের দরুন 'নিলোওফার আরডালান' ওরফে "লেডি গোল"  কে বাধ্য হয়ে দল ছাড়তে হয়েছে৷ তার স্বামী চান না উনি খেলুন কারন উনি 'মহিলা'৷  ইরানের সংবিধানে রয়েছে যদি মহিলার স্বামী চায় তাহলে স্ত্রী কে অন্যত্র যেতে আটকাতে পারে এবং সেই অনৈতিক সংবিধানের অপব্যবহার করে উনি পাসফোর্ট কেড়ে নেন৷  অবশ্যই ইরানীয় দলের কাছে এটি  অত্যন্ত ক্ষতিকর ঘটনা তবে সমাজব্যবস্থার অবনতির মানরেখা কতটা নিন্মরুপ তা স্পষ্ট৷ লক্ষ্যনীয় ব্যাপার হল সমস্ত বুদ্ধিজীবীরা যারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সোচ্চার হন এমনকি গ্রীস হোক কিংবা আমেরিকার বিষয়, তারাও নিশ্চুপ৷ মিডিয়া এবং রাষ্ট্রের ভুমিকা বরাবরই বিভিন্ন দেশে প্রতিকূল তবে যেখানে রাষ্ট্রের সন্মানের বিষয় তখন রাষ্ট্রেরও উচিত ব্যাপার টি  বিবেচনা করা৷ সর্বোপরি সমস্ত দেশের মানুষদেরও এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তার পাশে দাঁড়াতে হবে যাতে আরেকটি প্রতিভাবান মানুষ ধর্মীয় ও লিঙ্গ সংকীর্নতার দরুন হারিয়ে না যায়৷ বিশ্বের আপামর ফুটবলপ্রেমী তথা ফুটবলারদের উচিত এবিষয়ে অগ্রনী ভাবে এগিয়ে আসা৷

No comments:

Post a Comment