Tuesday, 2 February 2016

বিজ্ঞানের বিকাশে আমরা নির্ভরশীল হয়ে বিজ্ঞানে আবদ্ধ ...

বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ তা নিয়ে বিস্তৃত মতভেদ রয়েছে এবং ব্যাক্তি বিশেষে এক একজন বিভিন্ন রকম মত পোষন করেন৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে যেভাবে মানুষজন কুসংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাস থেকে বেরিয়ে যুক্তির মাধ্যমে ঘটনাবলী বিবেচনা করছে তা লক্ষ্যনীয়৷ স্বাধীন চিন্তার আলোকে,সমাজে  বিরাজমান ও ঘটমান অনৈতিক ক্রিয়াকলাপের বিরুদ্ধে মানুষ সক্রিয়ভাবে এগিয়ে না এলেও সমষ্যাগুলি সম্বন্ধে বেশ সচেতন৷ উপরন্তু সমাজের নানা সমষ্যা নিয়ে অনেকেই যুক্তিপূর্ন ভাবে সোচ্চার৷ সমাজিক অবক্ষয়গুলি সমস্ত মানুষ কেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমষ্যার সৃষ্টি করে৷ সেই অবক্ষয় দমনে অন্যতম অস্ত্র হিসেবে বহূল ব্যবহৃত হয় বিজ্ঞান এবং যুক্তি৷ বিজ্ঞানের অবদান মানব সভ্যতার ইতিহাসে অবিস্মরনীয় তা বলাবাহুল্য তবে বিজ্ঞানের ফলস্বরুপ মানব সমাজ বিপুল সংকটের সামনে দাড়িয়ে তাও স্পষ্ট৷ শুধুমাত্র বিজ্ঞান কোনো দিনও লিঙ্গবৈষম্য,ধর্মবিভেদ বা অন্যান্য  সমষ্যাগুলি নির্মুল করার পক্ষপাতিত্ত্ব করছে এমনও নয় বরং বিকাশের নামে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে অস্বিত্ব সংকটে ফেলেছে বারংবার৷ সমাজব্যবস্থা উন্নতির নামে বিজ্ঞানের অপপ্রয়োগ করে মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপারে নির্দ্ধিধায় প্রবেশ করছে রাষ্ট্র৷ বিঞ্জানের জয়গানে মেতে পরোক্ষভাবে অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পরা হবে সংকট কে আমন্ত্রন জানানো অর্থাৎ বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বিজ্ঞান কে অন্ধবিশ্বাসের মতো গ্রহন করা হবে অনর্থক৷ সামাজিক সমষ্যা এবং কুসংস্কারগুলি যেমন বিবেচনা করে বিশ্লেষন করা হয় তেমনি প্রয়োজন বিজ্ঞানেরও গ্রহনযোগ্যতা বিবেচনা করা৷ তেজস্ক্রিয় মৌলগুলি থেকে বিদুৎ সরবরাহ বৃদ্ধির নামে প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া কে স্বাগত জানানো মনুষ্যত্ব কে সংকটে ফেলার নিম্মমানের প্রচেষ্টা হবে৷সামাজিক অবক্ষয় দমনে যে যুক্তি এবং বিজ্ঞান কে প্রতিনিয়ত প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে তার শিকড়ে জড়িয়ে গেলে সামাজিক সমষ্যার মত বিজ্ঞানও মানুষের বিপদের কারন হয়ে উঠবে তখন তার ঔষধ সন্ধানে বর্তমানের মতো কালঘাম ছোটাতে হবে৷ কুসংস্কার এবং সামাজিক সমষ্যাগুলি নির্মূল করতে গিয়ে  যাতে বিজ্ঞান এর বিষে জড়িয়ে না পরতে হয় তা খেয়াল রাখতে হবে৷ সমাজ কল্যানে নিয়োজিত মানুষরা আশাকরি এটা নিয়ে ভাববে এবং বুদ্ধিজীবিরা সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসবেন৷

No comments:

Post a Comment