Tuesday, 2 February 2016

আমার দিদি 'নির্ভয়া'

গত 16 ই ডিসেম্বর 2012 সালে আমরা সকলে এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হই | একটি মেয়েকে যেভাবে চলন্ত বাসের মধ্যে অত্যাচার করা হয় তা কল্পনাতীত | সুস্থ মস্তিষ্কের মানসিকতায় এরকম কোনোভাবেই সম্ভব নয় | অত্যাচারকারী রা প্রথমে মেয়েটির সাথে থাকা বন্ধুটিকে মারধর করে তারপর বন্ধুটির সামনেই 6 জন মিলে গনধর্ষন করে যোনি তে লোহার রড ডুকিয়ে দেয় | মানসিক বিকৃতির চরিতার্থ করার পর তারা মেয়েটি এবং তার বন্ধুকে চলন্ত বাস থেকেই ফেলে দেয় ,পরনে মেয়েটির নূন্যতম কাপড় টুকুও ছিলনা | বন্ধুটি প্রায় 45 মিঃ রাস্তার লোকেদের কাছে মিনতি করতে থাকে তার গায়ে কাপড় দেওয়ার জন্য কিন্তু সকলে নিশ্চুপ অসস্মতি জানায় | সেই মেয়েটিই  “নির্ভয়া” যিনি বহু মানুষকে ভাবিয়ে তুলিয়েছিল সর্বোপরি যৌন অত্যাচারের বিরুদ্ধে পিতৃতান্ত্রিক সমাজের বিপক্ষে লড়ার জন্য মনে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল | যে কোনো ধর্ষন ই নির্মম এবং যৌন বিকৃতির আভাস দেয় | কিন্তু একের পর এক যৌন নির্যাতন কখনও কামদুনী ,তাপসী মালিক আবার কখনও 70 বছরের বৃদ্ধা থেকে শুরু করে 2 বছরের শিশু ধীরে ধীরে বুকে যে বারুদের সঞ্চার করেছিল তাতে অগ্নিসংযোগ করে দিল্লির ‘নির্ভয়া|’ সকলেই ফেটে পরতে থাকে এই পাশবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে | যে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ‘মেয়েদের’ পোশাক কে ধর্ষনের কারণ রুপে প্রতিষ্ঠা করে তাদের কাছে শিশু যৌন নির্যাতন প্রশ্ন তোলে এই বক্তব্যর যৌক্তিকতা নিয়ে | যে যৌন বিকৃতির মানসিকতা আমাদের মধ্যে নানা ভাবে স্থান পাচ্ছে তাকে গুরুত্ব দিয়ে নির্মূল না করে অন্য অপ্রয়োজনীয় বিষয় গুলি নিয়ে মাতামাতি করে ধর্ষন মুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয় | ফাঁসি বা সমমানের শাস্তি দিয়ে কী ধর্ষন বন্ধ করা সম্ভব ? যদি সম্ভব হতো তাহলে ধনজ্ঞয়ের ফাঁসির পর ধর্ষন বন্ধ হতো বা আরবের দেশ গুলিতে ধর্ষন মুক্ত সমাজ গড়ে উঠত | বরং  শাস্তি এমন হওয়া উচিত যা মানসিকতার বিকাশ করে | যদি তা না হয় সেক্ষেত্রে শাস্তির কোনো গুরুত্ব থাকে না এবং পরবর্তীকালে একই ঘটনা ঘটার সম্ভবনা অনেক বেড়ে যায় |  আসলে মানসিকতার পরিবর্তনের দ্বারাই গড়ে তোলা সম্ভব যৌন হেনস্থা বিহীন সমাজ | সর্বোপরি যে রাষ্ট্র নিজেই ধর্ষন করে থাংজাম মনোরম-দের ,প্রতিবাদী ইরম শর্মিলা ছানু কে আজীবন বন্দী করে রাখে সেই ধর্ষকের বিচার করবে কে ? সেই ধর্ষক ই আজ অন্য ধর্ষক দের বিচার করবে কী করে ? উপরন্তু ফাঁসির নামে নিজের দায় ঝেড়ে  ফেলতে চায় রাষ্ট্র | তাই ধর্ষন সহ সমস্ত রকম যৌন নির্যাতনের মতো ন্যক্করজনক  ঘটনার বিরুদ্ধে যেমন প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে তেমনি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন সচেতন হওয়া |
তাই চলুন সকলে হাতে হাত রেখে সমাজের এই ‘রোগ’ কে উপড়ে ফেলার কাজে অঙ্গীকার বদ্ধ হই ও নির্ভয়া-দের হৃদয় বিদারক মিনতি ‘মা ম্যায় জিনা চাতি হু’ কে বাস্তবে সম্ভব করে তুলি |

No comments:

Post a Comment