গত 16 ই ডিসেম্বর 2012 সালে আমরা সকলে এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হই | একটি মেয়েকে যেভাবে চলন্ত বাসের মধ্যে অত্যাচার করা হয় তা কল্পনাতীত | সুস্থ মস্তিষ্কের মানসিকতায় এরকম কোনোভাবেই সম্ভব নয় | অত্যাচারকারী রা প্রথমে মেয়েটির সাথে থাকা বন্ধুটিকে মারধর করে তারপর বন্ধুটির সামনেই 6 জন মিলে গনধর্ষন করে যোনি তে লোহার রড ডুকিয়ে দেয় | মানসিক বিকৃতির চরিতার্থ করার পর তারা মেয়েটি এবং তার বন্ধুকে চলন্ত বাস থেকেই ফেলে দেয় ,পরনে মেয়েটির নূন্যতম কাপড় টুকুও ছিলনা | বন্ধুটি প্রায় 45 মিঃ রাস্তার লোকেদের কাছে মিনতি করতে থাকে তার গায়ে কাপড় দেওয়ার জন্য কিন্তু সকলে নিশ্চুপ অসস্মতি জানায় | সেই মেয়েটিই “নির্ভয়া” যিনি বহু মানুষকে ভাবিয়ে তুলিয়েছিল সর্বোপরি যৌন অত্যাচারের বিরুদ্ধে পিতৃতান্ত্রিক সমাজের বিপক্ষে লড়ার জন্য মনে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল | যে কোনো ধর্ষন ই নির্মম এবং যৌন বিকৃতির আভাস দেয় | কিন্তু একের পর এক যৌন নির্যাতন কখনও কামদুনী ,তাপসী মালিক আবার কখনও 70 বছরের বৃদ্ধা থেকে শুরু করে 2 বছরের শিশু ধীরে ধীরে বুকে যে বারুদের সঞ্চার করেছিল তাতে অগ্নিসংযোগ করে দিল্লির ‘নির্ভয়া|’ সকলেই ফেটে পরতে থাকে এই পাশবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে | যে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ‘মেয়েদের’ পোশাক কে ধর্ষনের কারণ রুপে প্রতিষ্ঠা করে তাদের কাছে শিশু যৌন নির্যাতন প্রশ্ন তোলে এই বক্তব্যর যৌক্তিকতা নিয়ে | যে যৌন বিকৃতির মানসিকতা আমাদের মধ্যে নানা ভাবে স্থান পাচ্ছে তাকে গুরুত্ব দিয়ে নির্মূল না করে অন্য অপ্রয়োজনীয় বিষয় গুলি নিয়ে মাতামাতি করে ধর্ষন মুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয় | ফাঁসি বা সমমানের শাস্তি দিয়ে কী ধর্ষন বন্ধ করা সম্ভব ? যদি সম্ভব হতো তাহলে ধনজ্ঞয়ের ফাঁসির পর ধর্ষন বন্ধ হতো বা আরবের দেশ গুলিতে ধর্ষন মুক্ত সমাজ গড়ে উঠত | বরং শাস্তি এমন হওয়া উচিত যা মানসিকতার বিকাশ করে | যদি তা না হয় সেক্ষেত্রে শাস্তির কোনো গুরুত্ব থাকে না এবং পরবর্তীকালে একই ঘটনা ঘটার সম্ভবনা অনেক বেড়ে যায় | আসলে মানসিকতার পরিবর্তনের দ্বারাই গড়ে তোলা সম্ভব যৌন হেনস্থা বিহীন সমাজ | সর্বোপরি যে রাষ্ট্র নিজেই ধর্ষন করে থাংজাম মনোরম-দের ,প্রতিবাদী ইরম শর্মিলা ছানু কে আজীবন বন্দী করে রাখে সেই ধর্ষকের বিচার করবে কে ? সেই ধর্ষক ই আজ অন্য ধর্ষক দের বিচার করবে কী করে ? উপরন্তু ফাঁসির নামে নিজের দায় ঝেড়ে ফেলতে চায় রাষ্ট্র | তাই ধর্ষন সহ সমস্ত রকম যৌন নির্যাতনের মতো ন্যক্করজনক ঘটনার বিরুদ্ধে যেমন প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে তেমনি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন সচেতন হওয়া |
তাই চলুন সকলে হাতে হাত রেখে সমাজের এই ‘রোগ’ কে উপড়ে ফেলার কাজে অঙ্গীকার বদ্ধ হই ও নির্ভয়া-দের হৃদয় বিদারক মিনতি ‘মা ম্যায় জিনা চাতি হু’ কে বাস্তবে সম্ভব করে তুলি |
Hello Visiter, this is my personal blogging site. The contents are purely my own view on respective topics. Please leave your opinion on my post whenever you visit this page. This will help me to communicate with the thinking of everybody. Thanks !
Tuesday, 2 February 2016
আমার দিদি 'নির্ভয়া'
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment