আমাদের সকলের কাছেই স্পষ্ট যে সমাজের কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণীর উন্নয়ন বিনা সমাজের গতি এগিয়ে যেতে পারেনা | অথচ এই দুই শ্রেণী সর্বক্ষেত্রে ব্রাত্য | সময়ের বহমানতায় এদের অবস্থা আরও শোচনীয় | বর্তমানে কৃষকদের আত্নহত্যার পরিমাণ যে হারে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে তা সমস্ত কিছু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় | শ্রমিকদের অবস্থাও কোনো অংশে তাদের থেকে কম খারাপ নয় | অনেক কারখানা তালাবন্ধ আবার অনেকক্ষেত্রে লকআউট | কর্মহীনতায় ,খাবারের অভাবে দিনের পর দিন তাদের জীবন ধুঁকছে ,মরনাপন্ন তাদের অবস্থা | নানা অজুহাতে শ্রমিকদের ছাঁটাই এখন সাধারণ ব্যাপার হয়ে উঠেছে মুনাফালোভী মালিকদের কাছে | এর জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত “হুকুম চাঁদ” এর বর্তমান অবস্থা | নৈহাটির “হুকুমচাঁদ” একসময়ে এশিয়ার বৃহত্তম জুটমিল ছিল | সেখানকার মোট 6 টি মিল মিলিয়ে প্রায় 40 হাজার শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করত | বর্তমানে মালিকপক্ষ “মর্ডানাইজেশনের(আধুনিকরন)” নামে শ্রমিক ছাটাইয়ের ফলে শ্রমিকের সংখ্যা 13 হাজারের আশেপাশে দাঁড়িয়েছে | সময়ের প্রবাহে আধুনিকরন আবশ্যিক কিন্তু আধুনিকরনে ক্ষেত্রে যে প্রোডাকসান বৃদ্ধি হওয়ার কথা তা হবে না উপরন্তু একাধিক মেশিন একজন শ্রমিক কে চালাতে হবে | মেশিন সংখ্যা বাড়লে শ্রমিক সংখ্যাও বৃদ্ধি পাওয়ার কথা কিন্তু ফল সম্পূর্ণ বিপরীত | ঠিকাশ্রমিকরা অন্যতম ভুক্তভুগি ,উপযুক্ত মাইনে পাওয়া তো দূরের কথা বরং কর্মক্ষেত্রে তাদের সর্বদা অনিশ্চয়তার মধ্যে অবস্থান করতে হয় | নানা অজুহাতে 5 টি মিলে আধুনিকরন এর নামে শ্রমিক ছাঁটাই করে অবশিষ্ট মিল টি তে একই অবস্থা করতে গেলে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ্যভাবে বাধা দেয় ফলত পুঁজিবাদী মালিকপক্ষ ও শ্রমিকশ্রেনীর ভুকা পেটের লড়াই এ বন্ধ হয়ে যায় মিল | স্বভাবশতই ইউনিয়নগুলি ফায়দা লোটার জন্য নানা ভাবে চেষ্টা করে এবং বারংবার শ্রমিকদের সমস্যার সৃষ্টি করে | কখনও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করে আবার কখনও নানা ‘টোপ’ ব্যবহার করে | খেটে খাওয়া শ্রমিকশ্রেনী ইউনিয়নগুলির এরকন আচরনে সমস্তকিছু উপলব্ধি করে তাদের ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে সমস্ত শ্রমিক ভাইদের মঞ্চ “মজদুর একতা মঞ্চ” গড়ে তুলে সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় | একই মঞ্চ থেকে স্লোগান ওঠে “হাম না হিন্দু হ্যায় না মুসলিম ,হাম ইনসান হ্যায় সাথী|” সমস্ত শ্রমিক ভাইদের বক্তব্য “যাব তাক হার মজদুরকো কাম নাহি মিলেগা ,তাবতাক কোহিভি মজদুর কামপার নাহি যায়েগা|” পরেরদিন ভাতের টাকা কোথা থেকে আসবে তারা জানেনা এমন পরিস্থিতিতেও তাদের ‘একতা’ শিক্ষনীয় ,শিক্ষনীয় তাদের মানসিকতা যে মানসিকতা শুধুমাত্র নিজের নয় সমস্ত শ্রমিকশ্রেনীর কথা বলতে শেখায় | পেটের তাগিদে তাদের দাবী নগন্য কিন্তু মালিকপক্ষ ব্যস্ত আত্মসাত্ করতে ও শোষনে | নানা ভাবে শ্রমিকরা তাদের দাবী জানালেও মলিকপক্ষ তা নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ | যেখানে আমরা একবেলা না খেতে পারলে অসহ্য যন্ত্রনায় ছটপট করি সেখানে সমাজের হাল যারা ধরে রেখেছে তাদের ম্রিয়মান মুখগুলি দেখলে হয়ত আর যন্ত্রনায় ভেঙে পড়বেননা বরং চিতকার করে বলে উঠবেন “এক মজদুর আগার ভি মারেগা ,ভুকা বাচ্চা সিপাহী বানেগা|”
No comments:
Post a Comment