Monday, 29 February 2016

স্কুল -নস্টালজিয়া

স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে গেলেও মনের মধ্যে সবসময় কেমন যেন আনচান করে স্কুলের জন্য | প্রথম কত কিছুই না সাক্ষী হয় স্কুলের জীবন | টুকলি করতে গিয়ে ধরা পরে যাওয়া কিংবা শিক্ষকদের নিয়ে মজার নাম বানানো , তাদের নকল করা থেকে শুরু করে প্রথম ব্যর্থ প্রেম , বন্ধুদের সাথে বোকাবোকা ঝগড়া আর পরে দুই বন্ধু কাঁদতে কাঁদতে একসাথে টিফিন খাওয়া  এই অভিজ্ঞতা গুলি  স্কুল জীবন কে মনের গভীরে সংরক্ষণ করে রাখে |জীবনের চরম ব্যস্ততায় যখন হাঁপিয়ে পড়েন ,চিন্তায় জর্জরিত হয়ে যান তখন স্কুল জীবনের এক মুহূর্তই বোধহয় যথেষ্ট হয় ঠোঁটের কোণে হাসি ফোটাতে | স্কুল জীবনের শেষ দিনে আবেগের জলে একে অপরকে জড়িয়ে ধরা ,সকলের মুখ থেকে তিন সত্য বলিয়ে নেওয়া যে সকলে সকলের সাথে যোগাযোগ রাখবে | কিন্তু হায় রে আমাদের পোড়াকপাল , জীবনের কঠিন বাস্তবের মাটি সকল কে দূরে ,বহু দূরে নিয়ে চলে যায় ,থেকে যায় কেবল কিছু স্মৃতি আর নাম | তারপর হয়তো পরিবারের সাথে রাস্তায় চলতে গিয়ে দেখা হয় পুরানো বন্ধুর সাথে ,এক মুহূর্তে সবকিছু ভুলে গিয়ে মনে পড়ে যায় সেই দিন গুলি | আবার বাস্তবতায় ফিরে আসেন সন্তান বা পরিবারের মানুষের ডাকে আর আপনি এগোতে থাকেন এই বলে “আজ আসি রে ,অন্য একদিন কথা হবে | আজ একটু ব্যস্ত” অন্য আরেকদিন দেখা হয়তো হবে না ,হয়তো এভাবেই অতিবাহিত হয়ে যাবে পুরো জীবনটা | স্কুলের জীবনের যে রস তা বোধহয় আর পুনরাবৃত্তি হয়না | তাই স্কুলের জীবন আবার মনে করতে ,উপভোগ করতে বারে বারে ফিরতে হ “পুনর্মিলন(রি-ইউনিয়ন)” এ |

Tuesday, 2 February 2016

বাংলা তথা ভারতবর্ষের ফুটবল জগত্ বিশ্বদরবারে পৌঁছতে না পারার বিভিন্ন কারণ সমূহ ..

“সব খেলার সেরা তুমি বাঙালীর ফুটবল” এই প্রবাদ প্রবচনটি  বাক্যটি  খুব সহজেই ফুটবলের প্রতি বাঙালিদের টান , ভালোবাসা কে স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তোলে | তবে ভারতবর্ষের মতো এক বিরাট জনবহুল দেশের ক্ষেত্রে ফুটবলের সাথে বাঙালিয়ানা কে শুধুমাত্র জুড়ে দেওয়া অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ হবে কারন দেশের নানা বড়ো অঞ্চল থেকে শুরু করে এমন বহু প্রত্যন্ত অঞ্চল রয়েছে যেখানকার ফুটবলপ্রীতি চোখে পড়ার মতো | এক সময় বিশ্বকাপে খেলার আমন্ত্রণপত্র পেয়েও পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত সামগ্রীর অভাবে সেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারেনি আমাদের দেশ | সময়ের অগ্রসরে এবং ফুটবলের পরিকাঠালো বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের দেশের ফুটবল পরিচিতি যে বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পরার  ক্ষেত্রটি তৈরি হওয়ার কথা ছিল তা না হয়ে বরং তার মানরেখা নিন্মরুপ হতে থাকে যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ভারতীয় ফুটবল দলের বর্তমান অবস্থান | উপযুক্ত রসদ থাকা সত্ত্বেও বিশ্বফুটবলে নিজের ব্যপ্তি বিস্তার করতে না পারার ক্ষেত্রে অসংখ্য ত্রুটি রয়েছে যেগুলির দিকে নজর দেওয়ার দরুন অপর্যাপ্ত রসদ নিয়েও ভারতের চেয়ে অনুন্নত বহুদেশ বিশ্বফুটবলে বিশেষ জায়গা করে নিতে পেরেছে|        
                                               
বিদেশী খেলোয়াড় নির্ভরতা ও পর্যাপ্ত যুব একাডেমীর অভাব :-  বিশ্বফুটবলে সফল দেশ গুলির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় প্রাথমিক অবস্থা থেকে শুরু করে ক্লাব ফুটবলে তারা প্রতিনিয়ত সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে গেছে | অনুর্দ্ধ-13 ,অনুর্দ্ধ -15,অনুর্দ্ধ-17 ও পরবর্তী ধাপে ক্লাব ফুটবলে তাদের গুনমান এর উতকৃষ্টতা বৃদ্ধি করা হয় এবং জাতীয় দলের পথ প্রশস্ত করা হয়| তারা ফুটবলারের প্রয়োজনে নিজস্ব দেশের একাডেমী এর উপর নির্ভর করে কিন্তু ভারতের ক্লাব গুলির ক্ষেত্রে বিদেশী নিয়ে ব্যপক হারে মাতামাতি দেখা যায় | ভারতীয় ক্লাবগুলি অত্যন্ত  বিদেশী খেলোয়াড় নির্ভরশীল | খেলার ক্ষেত্রেও দেখা যায় সমস্ত বল বিদেশী খেলেয়াড কে লক্ষ্য করে দেওয়া হয় | ভালোমানের দেশীয় ফুটবলার থাকা  সত্ত্বেও নিন্মমানের বিদেশী ফুটবলার দের অধিক প্রাধান্য দিয়ে আনা হয়  | অবশ্য এর জন্য একটি কারনও রয়েছে যেটি হল উপযুক্ত ‘যুব একাডেমী’ এর অভাব | যে সমস্ত একাডেমী গুলিকে উপস্থাপনা করা হয়ে থাকে তাতে নূন্যতম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলিরও অনেকক্ষেত্রে অভাব দেখা যায় | আবার অনেকক্ষেত্রে যে সমস্ত পরিকাঠামো রয়েছে তার অবস্থাও ভালো নয় এবং এদেশের মাঠ  ও গ্যালারি গুলি তার অন্যতম দৃষ্টান্ত | বেশিরভাগ ক্লাব গুলিই ভালো ফুটবলার তৈরী করার দিকে নজর না দিয়ে তুলনামূলক বেশী দাম দিয়ে ফুটবলার কেনার দিকে বেশী  ঝোঁক দেখা যায় ফলস্বরুপ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় ক্লাব গুলিকে | ভারতীয় অধিকাংশ  ক্লাবগুলির দলগঠনের বাজেট বরাবরই তুলনামূলকভাবে কম উপরন্তু এই ক্লাবগুলি যুব একাডেমীর দিকে বিশেষ নজর দেয় না | তাই  স্পনসর জনিত কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে (যা বারংবার দেখা যায় ) ফুটবলার যেমন কিনতে পারে না আবার যুব একাডেমীর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার দরুন কোনো গুনগতমানের ফুটবলারও সেখান থেকে নিতে পারে না  |  বিদেশের সফল ক্লাবগুলি দেখলেই বোঝা যায় তারা যুব একাডেমী গুলিকে ফুটবলারের উতস হিসেবে ব্যবহার করে | প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রচুর প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে যাদের স্বপ্নে ফুটবল এবং বাস্তবে ইঁট বালি ,চাষের জমি ভাসে | সেই স্বপ্নের টানেই তারা শহরে আসে , টিফিন টুকু তারা পায় না | প্রসঙ্গত , স্বপ্না সর্দারের ,( মহিলা ফুটবলার যিনি কুসুমিতার সঙ্গে একই দলে খেলেন  এবং ন্যশ্যানাল গেমসও খেলেছেন ,সুন্দরবোন গোল্ড কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা )বক্তব্য এরকম “ প্রথম যখন খেলতাম তখন বুট ছিল না , ধার করে খেলতে হতো | এখানে প্রাকটিস করার মাঠ নেই , কোচ নেই তাই বারাসাত যেতে হত ,গাড়ি ভাড়া পেতাম না ,টিফিন ঠিকমতো পেতাম না | ফিরতে অনেক রাত হয়ে যেত এখানে আবার রাতে গাড়ি পাওয়া যায় না পেলেও অনেক টাকা ভাড়া নেয় |”
         
বিদেশী কোচ নির্ভরতা :- বিশ্বফুটবলে সফল দলগুলির রসায়ন ঘাটলে  কোচ নির্বাচনে চটকতা বোঝা যায় | অধিকাংশ দলের সফলতা এসেছে দেশীয় কোচ বা  ওই ধরনের ফুটবল  মহলের সাথে পরিচিত মানুষের হাত ধরেই |  আবার ভারতীয় ফুটবলের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা দেখা যায় | কিন্তু ক্লাবকর্মকর্তারা  আধুনীকরনের নামে বিদেশী খেলোয়াড়দের মতোই  বিদেশী কোচের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত নির্ভর | আবার কোচের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ‘অল্পতেই সন্তুষ্ট’ এবং ‘অল্পসময়েই অসন্তুষ্ট’  মানসিকতা অর্থাত  বছরে একটি ট্রপি পেলেই  সন্তুষ্ট এবং কোনো কারনবশত ট্রপি না পেলে সেখানেই কোচের ইতি যা দলগুলির ক্ষেত্রে ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনে | আবার অনেক ক্ষেত্রে কিছু টুর্নামেন্টের ভিত্তি তে কোচের যোগ্যতা নির্ণয় করা হয় এমন অবস্থার দরুন  বছরে দুই থেকে তিন বার কোচের পরিবর্তন করা হয় যার প্রভাব পড়ে দলের মধ্যে ও খেলায় | প্রতিটি কোচ দলের অবস্থা বুঝে ছক তৈরী করেন এবং দল কে মানিয়ে নেন কিন্তু বারংবার কোচের পরিবর্তন হলে খেলোয়াড় ও কোচ উভয়ই মনিয়ে ওঠার সময় পান না উপরন্তু ছকের পরিবর্তনে দলের সাম্য নষ্ট হয় | হঠকারিতার বদলে দীর্ঘমেয়াদী  কোচব্যবস্থা ও একই দল ধরে রাখার প্রবনতাই পারে দলকে সফলতার হ্মেত্রে এগিয়ে দিতে | প্রসঙ্গত ,বাংলায়  2014 এর পূর্বে আই-লিগ এসেছিল 2003 সালে (তখন জাতীয় লিগ ), স্থানীয়(বাঙালী) সর্বোপরি দেশীয় কোচের মাধ্যমে  |মাঝের এতগুলি  বছরে অসংখ্য বিদেশী কোচ বাংলার ক্লাবগুলির হাল ধরলেও বাংলায় আই-লিগ এনে দিতে পারিনি | আবার এত বছর পরে আই-লিগ এল বাঙালী  তথা দেশীয় কোচের হাত ধরেই |
               
এ .আই .এফ .এফ ,আই .এফ .এ ও ক্লাবকর্তাদের নেতিবাচক মনোভাব , অপেশাদারিত্ব  ও রাজনীতিপ্রীতি :-এ .আই .এফ .এফ , আই .এফ .এ ও বিভিন্ন ক্লাবকর্তাদের অসংখ্য ভুল সিদ্ধান্ত ও অপেশাদার মনোভাব ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি কে নানাভাবে আঘাত করে |  ঐতিহ্যবাহী আই .এফ .এ শিল্ড কে অনুর্দ্ধ 19 এবং ফেডারেশন কাপ বন্ধ করে দেওয়া তারই দৃষ্টান্ত | জাতীয় দলের উন্নতি ও স্বার্থের কথা ভেবে এরকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়  কিন্তু বাস্তবে  তার ফলে কোনোরুপ উন্নতি দেখা যায় নি বরং জাতীয় দলের অবস্থা আরও ক্রমঅবনতি হয়েছে |  জাতীয় দলের উন্নতির কথা  ও ফুটবলারদের বিশ্রামের কথা সামনে রেখে টুর্নামেন্ট গুলিকে বন্ধ করে দেওয়া হলেও এর পিছনে  রয়েছে পুঁজিবাদী  শ্রেণীর ভাবনা | অন্যান্য টুর্নামেন্ট গুলি বন্ধ করে বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় খুব সহজে মানুষদের ঝা চকচকে  পরিপাটি করে তৈরী করা হাজার হাজার কোটি টাকার আই .এস .এল এর দিকে নজর টেনে আনা | সাধারণ মানুষ আনন্দের জন্য যেগুলি পছন্দ করে  সেগুলির অনেকাংশ খেলার মধ্যে ডুকিয়ে শুধুমাত্র খেলা নয় বরং ‘এন্টারটেনমেন্টের’ বস্তু করে তোলা হয় অবশ্য খেলা মাত্রই অনেকে মজার বস্তু হিবেবে দেখে কিন্তু আই .এস .এল কে  মূলত খেলা নয় ‘এন্টারটেনমেন্ট’ হিসেবেই  ব্যবহার  করা হয় | এর ফল দ্রুত ও প্রেক্ষাপট তৈরীর ক্ষেত্রে  অত্যন্ত বিচক্ষনতার পরিচয় পাওয়া যায় |  আই .এফ .এ শিল্ড কে অনুর্দ্ধ 19 করার সময়  নানা নামী দলের ( ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড , রিয়াল মাদ্রদিদ )অনুর্দ্ধ 19  দল কে খেলার জন্য আনা হবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এবং তাতে ভারতীয় ফুটবলের গুণগত মান বৃদ্ধি হবে বলা হয় কিন্তু কিছু লোকাল ক্লাব কে এনে জলভর্তি কাদা মাঠে সেই টুর্নামেন্ট সম্পন্ন করা হয় | দলগঠনের ক্ষেত্রে যেখানে দায়িত্ব পুরোপুরিভাবে কোচের উপর দেওয়া উচিত সেখানে কর্মকর্তারা নিজেদের পছন্দ মতো ফুটবলার সই করিয়ে দল গঠন করেন | অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলির সময় যেখানে তাদের উপস্থিতির প্রয়োজন সেখানে প্রায়শই তারা নিজস্ব ব্যাবসায়িক কাজের জন্য অনুপস্থিত থাকেন | স্পনসর জোগাড় করার ক্ষেত্রেও চরম অপেশাদারিত্ব দেখা যায় কর্মকর্তাদের | অনেকক্ষেত্রে এ .আই .এফ .এফ জাতীয় দলের খেলা হোক কিংবা  ক্লাবের কোনো  গুরুত্বপূর্ণ  ম্যাচ ,তা টি .ভি তে কোনো চ্যানেল কে সম্প্রচার করার দায়িত্ব বা স্বত্ত্ব দিতে পারেনা উপরন্তু  এ .আই .এফ .এফ ও আই .এফ .এ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে  আই .পি .এল এর উদ্বোধনের বিরোধীতা না করে ব্যবহারের অনুমতি দেয় | মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে,ওই সময়ের খেলাগুলি  যাতে যুবভারতীতে হতে পারে তার জন্য লিখিত ভাবে অনুরোধ করা হলে তা তিনি কর্নপাত করেননি যার জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বাধ্য হয়ে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় | জুনিয়র ফুটবলারদের পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাক্তনীদের বেশ ভূমিকা রয়েছে কিন্তু সেক্ষেত্রেও কর্মকর্তারা বাধা দেন | ক্লাবগুলির পরিবেশ অপরিস্কার অপরিছন্ন ,কোথায়ও মাঠের মাঝে ঘাস নেই  আবার কোথায়ও গ্যালারি ভাঙ্গা  তবুও কর্মকর্তারা নিশ্চুপ | পূর্বে ফুটবলপ্রেমীরা  এসমস্ত কিছুর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে গেলে পুলিশ দিয়ে তাদের আটকানো হয়েছে | কর্মকর্তাদের অন্যতম অসফলতা ক্লাবগুলির ও খেলার উপযুক্ত প্রচার করতে না পারা | কর্মকর্তাদের সক্রীয়ভাবে অতি রাজনীতিপ্রীতিও ক্লাবের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায় | প্রসঙ্গত , মোহন -ইস্টের কর্মকর্তাদের জেল ও ফলপ্রসূত ক্লাবের ভাবমূর্তী বিকৃতি |
      
উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত মাঠের অভাব এবং মাঠের অপব্যবহার :- বাংলা তথা ভারতীয় ফুটবলের বিকাশে অন্যতম অন্তরায় উপযুক্ত মাঠের অভাব | বাংলার ক্ষেত্রে যে সমস্ত মাঠ গুলি রয়েছে সেগুলি কলকাতা কেন্দ্রিক | কলকাতার  ফুটবল দৈত্যদের(মোহন -ইস্ট -ইউনাইটেড) নিজস্ব মাঠ নেই ,মিলিটারী দের মাঠকে ব্যবহার করা হয় এবং প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে মাঠটি মিলিটারীদের ছেড়ে দিতে হয় | যেখানে ফুটবলের মক্কার এরকম হাল সেখানে দেশের পরিচিতপ্রান্ত গুলি ছাড়া অন্যান্য অঞ্চল গুলির অবস্থা কিরকম তা বোঝাই যায় | যে সমস্ত মাঠগুলি রয়েছে সেখানে জলনিকাশীর ব্যবস্থা থাকেনা ,মাঠে কাদা ভর্তি থাকে যার দরুন চোটের প্রবনতা অনেক বেড়ে যায় | এগুলি ছাড়াও রয়েছে  মাঠের অপব্যবহার | প্রতিবছর সম্মেলনের জন্য মাঠের ব্যবহার করা হয় যার ফলে মাঠের ভীষণ ক্ষতি হয় এবং সাথে খাবার প্যাকেট যেখানে সেখানে ফেলায় নোংরা হয় | এর সাথে বর্তমানে যুক্ত হয়েছে ফুটবলের মাঠ কে ক্রিকেটের উদ্বোধন মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করার | ফুটবল খেলার মাঠ সংরক্ষন ও ভালোভাবে রাখার  জন্য প্রয়োজন হয়  প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত মালি  ও মাঠ বিশেষজ্ঞ তবে এই সমস্তকিছু কোনো ক্লাবই ব্যবস্থা করার চেষ্টা করে না |
              
সমর্থক ও খেলোয়াড় দের মানসিকতা :- সমর্থকদের উন্নত ও ইতিবাচক মানসিকতাও দলগুলির সফলতার একটি কারণ | তবে এদেশের ক্ষেত্রে পুরো উল্টো ব্যাপারটাই দেখা যায় | কোনো ফুটবলার একটি ম্যাচে বিশেষত ডার্বিতে ভালো খেললে তাকে নিয়ে যে হারে মাতামাতি করে আশা করা হয় তা অনুচিত কারণ পরবর্তী সময়ে আশানুরূপ ফল দিতে না পারলে তারাই আবার হিরো থেকে জিরো বানিয়ে দেয় এক লহমায় | বিশ্বের বহু প্রান্তে এরকম দৃশ্য দেখা যায় তবে এতটা উজ্জ্বল নয় | অত্যাধিক আশা ফুটবলারটির মানসিকচাপের কারণ হয়ে ওঠে | মাঠের মধ্যে সমর্থকদের গালিগালাজ  নিন্মমানসিকতার নিদর্শন | পৃথিবীর একপ্রান্তে যেখানে সমর্থকরা গান গেয়ে সমর্থন জানায় অন্যপ্রান্তে আরেকদল সমর্থক খেলোয়াড়দের উদ্দ্যশ্যে নোংরা ভাষায় আক্রমণ করে  ফলত  মহিলা সমর্থকের উপস্থিতি নগন্য হয় | কোনো দল হারতে থাকলে খেলা শেষের পূর্বে চলে যাওয়াও নিন্মরুচির পরিচয় দেয় | এছাড়া সমর্থকদের মাঠে ও স্টেডিয়ামে  চায়ের ভাঁড় ,জলের বোতল ফেলা তো রয়েছেই সঙ্গে  রয়েছে যেখানে সেখানে প্রস্বাব ও সিগারেট ,বিড়ি খাওয়া  | ফ্যানস ক্লাবগুলির অন্তর্দ্বন্ধ ক্লাবগুলির ভাবমূর্তি নষ্ট করে | ব্যবসায়িক মনোবৃত্তির দরুন একই ক্লাবের সমর্থক হয়েও পরস্পরের সঙ্গে আদায়-কাঁচ কলায় সম্পর্ক খেলোয়াড় প্রেমী সূচক আচরণ নয় | ফুটবলারদের  মানসিকতাও খেলার প্রগতি পথে ওতোপ্রতোভাবে যুক্ত | বাংলার ফুটবলার তথা ভারতীয় ফুটবলাররা অধিকাংশ ক্ষেত্রে খেলা ছাড়া অন্য কাজে যুক্ত থাকে যার জন্য পেশাদার হিসেবে ফুটবলে পুরোপুরি অভিষেক হয় না | আবার নিন্মবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসার দরুন পরবর্তী সময়ে চাকরী পেয়ে গেলে , খেলার প্রতি টান আগের মতো থাকে না অনেক হ্মেত্রে দেখা যায় চাকরী পাওয়ার জন্য তারা খেলে| মাদক আসক্তি বহু ক্ষেত্রে ফুটবলারদের জীবনে পথের বাধা হয়ে দাঁড়ায় ,অনেক ক্ষেত্রে আবার এরা বিপথে গিয়ে হারিয়ে যায় | প্রসঙ্গত , লালম পুঁইয়া ও বুধিরাম টুডুর কথা বলা যেতে পারে ,যাদের মধ্যে বিশাল প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও মাদক আসক্তি ও অনিয়মিত জীবন উপভোগের জন্য হারিয়ে যেতে হয়|
           
উন্নত সরঞ্জাম ও ব্যবস্থার অভাব :- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার উন্নতির দরুন অন্যান্য দেশগুলি যে হারে তা ফুটবল জগতে ব্যবহারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তা আমাদের শিক্ষনীয় | অবশ্য আর্থিক সমষ্যা নানা হ্মেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তবুও উন্নত সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেকাংশে পিছিয়ে আমরা | ফলত ফুটবলে সফল দেশ গুলির চোটগ্রস্ত ফুটবলারের ঠিক হতে যতদিন সময় লাগে তার তুলনায় আমাদের দেশের ফুটবলার বেশীবার চোট পায় ও সেহ্মেত্রে অনেকদিন ভুগতে হয় | বহুক্ষেত্রে দেখা যায় সমর্থকদের ও ক্লাবের অতিরিক্ত চাপের দরুন ও খেলোয়াডের অতিইচ্ছায় খেলোয়াড় কে মাঠে নামাতে বাধ্য হন কোচ যার ফল ক্লাব ও ফুটবলার উভয়কেই দীর্ঘমেয়াদী ভাবে ভোগ করতে হয় |
          
নিন্ম মানের রেফারী ও লিঙ্গ বৈষম্য :-ফুটবলের ক্ষেত্রে রেফারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ | বিশ্বফুটবল এমন অনেক ঘটনার সাহ্মী যেখানে রেফারীরর একটি সিদ্ধান্ত ফলাফল পরিবর্তন করে দিয়েছে | তাই ভালোমানের রেফারী তৈরীর ব্যবস্থার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয় বিশ্বফুটবলের সফল লীগ গুলি | কিন্তু এদেশের স্থানীয় লীগ গুলি র হ্মেত্রে রেফারীরা বড় দলগুলির প্রতি অতিরিক্ত পক্ষপাতীত্ত্ব করে | ভুল হতেই পারে কিন্তু একরকম ভুল আর তার সংখ্যা যখন বেড়েই চলে তাতে রেফারীর মান ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন চলে আসে | বাংলার মহিলা রেফারী ‘কনিকা বর্মন’ এ বিষয়ে আসার আলো দেখালেও লিঙ্গ বৈষম্যের আঘাতে সেটিও শেষের পথে | রেফারীদের দক্ষতা দৃদ্ধির নানা রকমের ট্রেনিং হয়  ,এদেশেও তার কিছু চল রয়েছে কিন্তু তা নগন্য ও গুনগতমানে অনেকাংশ নিন্ম | এ .আই .এফ .এফ  এ বিষয়ে কোনোদিনও সক্রিয় প্রচেষ্টা গ্রহণ করেনি | পুরুষদের ফুটবলেরজন্য যে সমস্ত সামান্য উদ্যোগ গুলি দেখা যায় মহিলা ফুটবলের ক্ষেত্রে সেটুকুও গ্রহণ করা হয় না | মহিলা ফুটবলের স্বার্থে যে প্রচারের প্রয়োজন হয় তা করা হয় না এবং মহিলা ফুটবলের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিও মহিলা ফুটবলের বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় | বিশ্ব ফুটবলে ,  মহিলা ফুটবলের বিকাশে যে সমস্ত  বাধা দেখা যায় তার অধিকাংশ ধর্মীয় ,সংস্কৃতিগত ও আবদ্ধ ভাবনার গোঁডামি থেকে এসেছে | প্রসঙ্গত , ইরান এশিয়ান গেমসের দরুন মালেশিয়া যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল৷ তার পূর্বে লিঙ্গবৈষমের দরুন 'নিলোওফার আরডালান' ওরফে "লেডি গোল"  কে বাধ্য হয়ে দল ছাড়তে হয় | তার স্বামী চান না উনি খেলুন কারন উনি 'মহিলা'৷  ইরানের সংবিধানে রয়েছে যদি মহিলার স্বামী চায় তাহলে স্ত্রী কে অন্যত্র যেতে আটকাতে পারে এবং সেই অনৈতিক সংবিধানের অপব্যবহার করে উনি পাসফোর্ট কেড়ে নেন৷  অবশ্যই ইরানীয় দলের কাছে এটি  অত্যন্ত ক্ষতিকর ঘটনা তবে বিশ্ব ফুটবলে এটি অত্যন্ত হতাশাজনক |
            
সরকারের দায়বদ্ধতাহীনতা :- ফুটবলের বিকাশে প্রতিটি দেশের ,প্রতিটি প্রদেশের সরকারের ভূমিকা থাকে | যে অঞ্চলের সরকার ফুটবলের বিকাশে  গুরুত্ব দেয় সেখানে বিকাশও তাড়াতাড়ি হয় | ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য উভয় সরকার ই ফুটবলের প্রতি সন্দিহান |  আই .এস .এল কে যতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখেন মূল লীগ ফুটবলের প্রতি ততটা নজর দিলে ভারতীয় ফুটবলের বিকাশ আকাশছোঁয়া হত কিন্তু আই .এস .এল এর মতো টাকার ছড়াছড়ি না থাকায় ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্র কম থাকায় সরকারি দৃষ্টি এই লীগ গুলি এড়িয়ে যায় | ভারতীয় ফুটবলের বিকাশে সরকারের নীরবতা সবচেয়ে বেশী প্রভাব ফেলে তাই যতদিন না পর্যন্ত সরকার ফুটবলের হ্মেত্রে সক্রীয়ভাবে হস্তক্ষেপ করবে ততদিন পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছা দিবাস্বপ্ন হয়েই ভাসবে |
        
আই .এল .এর ভূমিকা :- ভারতীয় ফুটবলে আই .এস .এলের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ | ভারতীয় ফুটবলের বিকাশের ক্ষেত্রে আই .এস .এলের অনেক ভূমিকা রয়েছে | নতুন ফুটবলার তৈরীর ক্ষেত্রে যেমন অবদান রয়েছে তেমন বিশ্বের দরবারে প্রচারের পথেও এর অবদান স্মরণীয় | তবে অতিরিক্ত প্রচারের আলোয় ফুটবলপ্রেমীরা আই .এস .এলে আবদ্ধ  হয়ে পড়ার সম্ভবনাও রয়েছে | সামান্তরালভাবে আই .এস .এল ও লীগ গুলি চললে সমস্যার সৃষ্টি হবে না যদিও তার সম্ভবনা কম ,মূলত একতরফা আই .এস .এলের দিকে সমস্ত আকর্ষণ হওয়ার সম্ভবনা বেশী যদিও তা অত্যন্ত ধীর প্রক্রিয়া তবুও সম্ভবনা অনেক| যদি পরবর্তী সময়ে আই .এস .এল ও আই-লীগ এক সাথে করা হয় সেহ্মেত্রে দল গঠনে উপযুক্ত নিয়ম না করা হলে পুঁজিবাদ দলগুলির বিশাল বাজেটের জন্য বর্তমান আই-লীগের দল গুলির দলগঠনে সমস্যার সৃষ্টি হবে , মূলত আই .এস .এলের দলগুলি ভালো দলগঠন করবে ফলপ্রসূত অসম দলগঠনের প্রেক্ষাপটে অসম লীগ হবে |
            
সাহায্যের জন্য যে সমস্ত ফুটবলাররা হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন :- লালকমল ভৌমিক (মোহনবাগান), সংগ্রাম মুখার্জি(ভবানীপুর) ,মেহতাব হুসেন (ইস্টবেঙ্গল  ,কেরালা ব্লাস্টার) ,সৌভিক ঘোষ (মোহনবাগান ) ,সন্দীপ নন্দী( প্রাক্তন ঈস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান ,কেরালা ব্লাস্টার ) ,জনি রাউত (প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল) , স্বপ্না সর্দার (বাংলা মহিলা দল)|

সাহায্যর জন্য যে সমস্ত ফুটবলপ্রেমীরা এগিয়ে এসেছেন :-পিয়ালী গাঙ্গুলী ,প্রতীক মণ্ডল ,অন্বয় ব্যানার্জী ,সৈকত দাস , প্রতীম ধর , শ্রীনন্তু সিনহা রায় , রিক ভট্টাচার্য্য , রৌনক ঘোষ ,ইমন চ্যাটার্জী |

বিঃদ্রঃ -সংক্ষেপিত করার দরুন বিভিন্ন জায়গায় ব্যাখ্যা করা সম্ভয় হয়নি যার ফলত ফুটবল দলগুলির খবর যারা রাখেন না তারা উপরোক্ত বিষয় গুলির সঙ্গে অনেক জায়গায় মিলিয়ে বুঝতে পারবেন না যেটি লেখাটির সীমাবদ্ধতা |

আমার দিদি 'নির্ভয়া'

গত 16 ই ডিসেম্বর 2012 সালে আমরা সকলে এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হই | একটি মেয়েকে যেভাবে চলন্ত বাসের মধ্যে অত্যাচার করা হয় তা কল্পনাতীত | সুস্থ মস্তিষ্কের মানসিকতায় এরকম কোনোভাবেই সম্ভব নয় | অত্যাচারকারী রা প্রথমে মেয়েটির সাথে থাকা বন্ধুটিকে মারধর করে তারপর বন্ধুটির সামনেই 6 জন মিলে গনধর্ষন করে যোনি তে লোহার রড ডুকিয়ে দেয় | মানসিক বিকৃতির চরিতার্থ করার পর তারা মেয়েটি এবং তার বন্ধুকে চলন্ত বাস থেকেই ফেলে দেয় ,পরনে মেয়েটির নূন্যতম কাপড় টুকুও ছিলনা | বন্ধুটি প্রায় 45 মিঃ রাস্তার লোকেদের কাছে মিনতি করতে থাকে তার গায়ে কাপড় দেওয়ার জন্য কিন্তু সকলে নিশ্চুপ অসস্মতি জানায় | সেই মেয়েটিই  “নির্ভয়া” যিনি বহু মানুষকে ভাবিয়ে তুলিয়েছিল সর্বোপরি যৌন অত্যাচারের বিরুদ্ধে পিতৃতান্ত্রিক সমাজের বিপক্ষে লড়ার জন্য মনে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল | যে কোনো ধর্ষন ই নির্মম এবং যৌন বিকৃতির আভাস দেয় | কিন্তু একের পর এক যৌন নির্যাতন কখনও কামদুনী ,তাপসী মালিক আবার কখনও 70 বছরের বৃদ্ধা থেকে শুরু করে 2 বছরের শিশু ধীরে ধীরে বুকে যে বারুদের সঞ্চার করেছিল তাতে অগ্নিসংযোগ করে দিল্লির ‘নির্ভয়া|’ সকলেই ফেটে পরতে থাকে এই পাশবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে | যে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ‘মেয়েদের’ পোশাক কে ধর্ষনের কারণ রুপে প্রতিষ্ঠা করে তাদের কাছে শিশু যৌন নির্যাতন প্রশ্ন তোলে এই বক্তব্যর যৌক্তিকতা নিয়ে | যে যৌন বিকৃতির মানসিকতা আমাদের মধ্যে নানা ভাবে স্থান পাচ্ছে তাকে গুরুত্ব দিয়ে নির্মূল না করে অন্য অপ্রয়োজনীয় বিষয় গুলি নিয়ে মাতামাতি করে ধর্ষন মুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয় | ফাঁসি বা সমমানের শাস্তি দিয়ে কী ধর্ষন বন্ধ করা সম্ভব ? যদি সম্ভব হতো তাহলে ধনজ্ঞয়ের ফাঁসির পর ধর্ষন বন্ধ হতো বা আরবের দেশ গুলিতে ধর্ষন মুক্ত সমাজ গড়ে উঠত | বরং  শাস্তি এমন হওয়া উচিত যা মানসিকতার বিকাশ করে | যদি তা না হয় সেক্ষেত্রে শাস্তির কোনো গুরুত্ব থাকে না এবং পরবর্তীকালে একই ঘটনা ঘটার সম্ভবনা অনেক বেড়ে যায় |  আসলে মানসিকতার পরিবর্তনের দ্বারাই গড়ে তোলা সম্ভব যৌন হেনস্থা বিহীন সমাজ | সর্বোপরি যে রাষ্ট্র নিজেই ধর্ষন করে থাংজাম মনোরম-দের ,প্রতিবাদী ইরম শর্মিলা ছানু কে আজীবন বন্দী করে রাখে সেই ধর্ষকের বিচার করবে কে ? সেই ধর্ষক ই আজ অন্য ধর্ষক দের বিচার করবে কী করে ? উপরন্তু ফাঁসির নামে নিজের দায় ঝেড়ে  ফেলতে চায় রাষ্ট্র | তাই ধর্ষন সহ সমস্ত রকম যৌন নির্যাতনের মতো ন্যক্করজনক  ঘটনার বিরুদ্ধে যেমন প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে তেমনি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন সচেতন হওয়া |
তাই চলুন সকলে হাতে হাত রেখে সমাজের এই ‘রোগ’ কে উপড়ে ফেলার কাজে অঙ্গীকার বদ্ধ হই ও নির্ভয়া-দের হৃদয় বিদারক মিনতি ‘মা ম্যায় জিনা চাতি হু’ কে বাস্তবে সম্ভব করে তুলি |

তামিলনাড়ুর বন্যার দরুন শাহরুখ খানের সাহায্যর পিছনের ব্যাবসায়িক মনোবৃত্তি ...

শাহরুখ নিতান্ত বোকা নয় বরং উন্নত ব্যবসায়িক মানসিকতার ব্যক্তি |  ‘দিলওয়ালে’ সিনেমার দরুন  প্রথম দিন যে টাকাটা উঠবে তা চেন্নাইয়ের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন(আমি যা শুনছি)| তিনি নিজের অগাধ টাকা থেকে সেটি করতে পারতেন কিন্তু করলেন না | উপরন্তু প্রচার করে দিলেন প্রথম দিনের যা সংগ্রহ হবে তা মানুষের সেবায় যাবে |  এরকম যদি করেন তাহলে কিন্তু তার  কোনো ক্ষতি নেই বরং নতুন রেকর্ড যেমন হবে তেমনি রেকর্ডের প্রচারের ‘হাইলাইটে’ পরের দিন থেকে যে বিপুল আয় হবে তা কল্পনাতীত |ইমোশনাল জায়গাটি ধরেই চালাকি টি করে গেলো | আর আমরা “বস কতো ভালো মানুষ তাই না গুরু” করে গেলাম | হ্যাঁ অবশ্যই সাহায্যটি লাগবে অনেক মানুষের কাছে কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক মনোবৃত্তির পরিচয় না দিলেই পারতেন বরং মনুষ্যত্বের জায়গা থেকে অন্যভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারতেন |

পুনশ্চ :- বলেছি বেশ করেছি ,মানুষের আবেগ নিয়ে ব্যবসা |

বিঃদ্রঃ :-আমি শাহরুখ প্রেমি |(অবশ্যই অভিনয়ের জন্য)

পুনশ্চ 2 :- না ,সক্রিয়ভাবে টাকা পাঠিয়ে ওখানকার মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পারেনি আমি | তবে স্বতঃফূর্ত ভাবে কলকাতায় বসে যে টুকু করার করেছি |

হুকুমচাঁদ জুটমিল সহ সমাজের সমস্ত শোষিত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে ..

আমাদের সকলের কাছেই স্পষ্ট যে সমাজের কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণীর উন্নয়ন বিনা সমাজের গতি এগিয়ে যেতে পারেনা | অথচ এই দুই শ্রেণী সর্বক্ষেত্রে ব্রাত্য | সময়ের বহমানতায় এদের অবস্থা আরও শোচনীয় | বর্তমানে কৃষকদের আত্নহত্যার পরিমাণ যে হারে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে তা সমস্ত কিছু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় | শ্রমিকদের অবস্থাও কোনো অংশে তাদের থেকে কম খারাপ নয় | অনেক কারখানা তালাবন্ধ আবার অনেকক্ষেত্রে লকআউট | কর্মহীনতায় ,খাবারের অভাবে দিনের পর দিন তাদের জীবন ধুঁকছে ,মরনাপন্ন তাদের অবস্থা | নানা অজুহাতে শ্রমিকদের ছাঁটাই এখন সাধারণ ব্যাপার হয়ে উঠেছে মুনাফালোভী মালিকদের কাছে | এর জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত “হুকুম চাঁদ” এর বর্তমান অবস্থা |  নৈহাটির “হুকুমচাঁদ” একসময়ে এশিয়ার বৃহত্তম জুটমিল ছিল | সেখানকার মোট 6 টি মিল মিলিয়ে প্রায় 40 হাজার শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করত | বর্তমানে মালিকপক্ষ “মর্ডানাইজেশনের(আধুনিকরন)” নামে শ্রমিক ছাটাইয়ের ফলে শ্রমিকের সংখ্যা 13 হাজারের আশেপাশে দাঁড়িয়েছে | সময়ের প্রবাহে আধুনিকরন আবশ্যিক কিন্তু আধুনিকরনে ক্ষেত্রে যে প্রোডাকসান বৃদ্ধি হওয়ার কথা তা হবে না  উপরন্তু একাধিক মেশিন একজন শ্রমিক কে চালাতে হবে | মেশিন সংখ্যা বাড়লে শ্রমিক সংখ্যাও বৃদ্ধি পাওয়ার কথা কিন্তু ফল সম্পূর্ণ বিপরীত | ঠিকাশ্রমিকরা অন্যতম ভুক্তভুগি ,উপযুক্ত মাইনে পাওয়া তো দূরের কথা বরং  কর্মক্ষেত্রে তাদের সর্বদা অনিশ্চয়তার মধ্যে অবস্থান করতে হয় |  নানা অজুহাতে 5 টি মিলে আধুনিকরন এর নামে শ্রমিক ছাঁটাই করে অবশিষ্ট মিল টি তে একই অবস্থা করতে গেলে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ্যভাবে বাধা দেয় ফলত পুঁজিবাদী মালিকপক্ষ ও শ্রমিকশ্রেনীর ভুকা পেটের লড়াই এ বন্ধ হয়ে যায় মিল | স্বভাবশতই ইউনিয়নগুলি ফায়দা লোটার জন্য নানা ভাবে চেষ্টা করে এবং বারংবার শ্রমিকদের সমস্যার সৃষ্টি করে | কখনও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করে আবার কখনও নানা ‘টোপ’ ব্যবহার করে | খেটে খাওয়া শ্রমিকশ্রেনী  ইউনিয়নগুলির এরকন আচরনে সমস্তকিছু উপলব্ধি করে তাদের ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে সমস্ত শ্রমিক ভাইদের মঞ্চ “মজদুর একতা মঞ্চ” গড়ে তুলে সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় | একই মঞ্চ থেকে স্লোগান ওঠে “হাম না হিন্দু হ্যায় না মুসলিম ,হাম ইনসান হ্যায় সাথী|”  সমস্ত শ্রমিক ভাইদের বক্তব্য “যাব তাক হার মজদুরকো কাম নাহি মিলেগা ,তাবতাক কোহিভি মজদুর কামপার নাহি যায়েগা|” পরেরদিন ভাতের টাকা কোথা থেকে আসবে তারা জানেনা এমন পরিস্থিতিতেও তাদের ‘একতা’ শিক্ষনীয় ,শিক্ষনীয় তাদের মানসিকতা যে মানসিকতা শুধুমাত্র নিজের নয় সমস্ত শ্রমিকশ্রেনীর কথা বলতে শেখায় |  পেটের তাগিদে তাদের দাবী নগন্য কিন্তু মালিকপক্ষ ব্যস্ত আত্মসাত্ করতে ও শোষনে | নানা ভাবে শ্রমিকরা তাদের দাবী জানালেও মলিকপক্ষ তা নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ | যেখানে আমরা একবেলা না খেতে পারলে অসহ্য যন্ত্রনায় ছটপট করি সেখানে সমাজের হাল যারা ধরে রেখেছে তাদের ম্রিয়মান মুখগুলি দেখলে হয়ত আর যন্ত্রনায় ভেঙে পড়বেননা বরং চিতকার করে বলে উঠবেন “এক মজদুর আগার ভি মারেগা ,ভুকা বাচ্চা সিপাহী বানেগা|”

ট্রেনে লিঙ্গবৈষম্যের দরুন ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া ও অপর দিকে মহিলাদের সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা

অফিস টাইম এ ট্রেন গুলিতে যেরকম ভীড় হয় তাতে বড় দুর্ঘটনা  যে কোনো মুর্হুতে ঘটে যেতে পারে৷ সমষ্যা টা সমস্ত মানুষের কাছে গুরুতর বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে৷ বর্তমানে  আবার দুর্ঘটনাগুলির কৃত্রিমতা লক্ষ্য করার মতো |কোনো ত্রকটি ট্রেন মেয়েদের জন্য বা ছেলেদের জন্য করে দেওয়ায় বা কোনো ট্রেনের কয়েকটি কামরা কোনো বিশেষ লিঙ্গ দের জন্য করে দেওয়ায় যেমন কোনো সমস্যার সমাধান হয় না তেমনি সর্বসাধারনের জন্য কামরাগুলি খুলে দেওয়া মানে “লিঙ্গসাম্য” নয় ,সাম্য মানসিক উতকৃষ্টতার প্রতিফলন  যা হঠাত নয় বরং বহু ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে | সাম্যের নামে সবারজন্য কামরা করে দিলে সেখানকার ভিড়ে নানা লিঙ্গের মানুষদের যেভাবে হেনস্থা হতে হয় তাতে সাম্যের প্রতিফলন আদৌ দেখা যায় ? বরং হনুমানের মুখের ভিতর কলা রাখার গল্পের মতো হবে |  সাম্যের নামে সবারজন্য উন্মুক্ত করা হল অথচ  মানসিকতায় সাম্যের কোনো লক্ষন না থাকলে তা কি করে সমাধান হতে পারে ! ট্রেন সংখ্যা যেমন ছিল তেমনই থাকছে সেখানে লিঙ্গ বিশেষে ট্রেন চালুও সমস্যার সমাধান হতে পারে না |  বিশেষ কোনো লিঙ্গের মানুষদের রিসার্বেশন প্রয়োজন কিনা সেই বিতর্ক টি বাদ রেখে বলছি জেনেরল কামরা গুলিতে রোজ যে পরিমান মেয়েদের হেনস্থা হতে হয় বা মেয়েদের কামরাগুলি না থাকলে মেয়েদের যে পরিমান হেনস্থা হতে হবে তার সমাধান কি হওয়া উচিত ?আমি কিন্তু রিসারবেশন বিরোধী কিন্তু এর সমাধাম টি ও জানতে চাই৷  যদি ধরেও নি কয়েক বছরের মধ্যে চেতনার প্রভাবে এরকম মানসিকতার দ্রুত পতন হবে (খুব তাড়াতাড়ি কি সম্ভব! !) ততদিন অবধি তাদের উপর হেনস্থা বন্ধ করা  হবে কীভাবে ? ভীড় ট্রেনে আমি "ত্রলবোয়িং" করলাম সেটা খুজে বার করতে কী পুলিশ সবাই কে পেটাবে ? মেইন লাইন বা বনগাঁ লাইনগুলিতে সকালের দিকে ডাউন আর বিকেলের দিকে আপের ক্ষেত্রে কোনো মহিলা ভুলবশত  জেনেরল কামরায় উঠলে “কেনো এই কামরায় উঠেছেন” থেকে শুরু করে আরও অনেক পরিস্থিতীর সম্মুখীন হতে হয় যার প্রকৃত অবস্থা আমার , আপনার মতো পিতৃতান্ত্রিক  ক্ষমতা বহনকারীরা উপলব্ধি করতে পারবো না ,পারলে নিজের প্রিয় মানুষ কে দিয়ে অবস্থাটির বিচার করুন | বেশ অবাক হলাম একের পর এক ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে চলেছে আর আমরা একে অপরের দিকে কাদা ছুঁড়ে চলেছি | ত্রকবারও কেউ আরোও ট্রেন চালানোর দাবী করল না বা ট্রেন গুলির কামরা সংখ্যা বাড়ানোর কথা তুললো না যেটা সমষ্যার সমাধান করতে পারে বরং নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি করে এটার জানান দিয়ে থাকি “হে বিশ্ব দেখো আমরা তারা যারা তোমাদের দুঃখে বুক চাপড়াই ,আর আমরাই তারা যারা মৃত্যুদূত……”

আসলে ….

      “  সৈনিকে সৈনিকে লড়ে মরে.
         রাজার মুখে হাসি ফোটে |”

কি দেখাও তুমি পুরুষ ! আমি তো দেখি মনিপুর ,কাশ্মীর জুড়ে মেয়েদের হাহাকার|
আমি আরও দেখি ,বৌ কে অন্যের কাছে বিক্রি করতে | রোজ রাতে তাকে ধর্ষন করতেও তোমার বাধে না | হত্যা ? হাসালে পুরুষ ,প্রতি বাড়িতে মা-বোন কে তিলে তিলে মরতে দেখো না ?

পুনশ্চ :-কাদা ছুড়ছি না বরং যারা এরকম পরিস্থিতিতেও একে অপরের পাশে না থেকে ,সমাধানের কথা না ভেবে একটি ঘটনার ভিত্তিতে  একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে ও বৈষম্যমূলক মানসিকতার প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে তাদের তুলনার সুবিধার্থে |

বিঃদ্রঃ :- নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা কেন্দ্রিক মতামত নয় ,এত দিনে যা দেখে আসছি এটা তারই প্রতিফলন |
     
পুনশ্চ 2 :- সকাল ও বিকেলে অফিস টাইমে  মহিলা কামরা গুলি দেখেছেন ?

পোশাকের রং দিয়ে লিঙ্গ বিচার আধুনিকতার নয় বরং অপরিপক্ক মানসিকতার পরিচয় দেয় .. গোলাপি ,হলুদ রং মেয়েদের এবং কালো ,নীল রং ছেলেদের এ ভাবনার উর্ধে গিয়ে সমস্ত রং সকলের হোক ..

সমাজের নানা সমষ্যা পরিবেশের বিস্তৃত ক্ষেত্রে নানা ভাবে অবদান রাখে কোনো ক্ষেত্রে তা ভালোর পথ বিকাশ করে কোনো কিছু আবার খারাপের পথ কে আরও অঙ্গীকার বদ্ধ করে তোলে৷ তবে আমরা যারা বদ্ধ পরিসর গুলিকে উন্মুক্ত করতে প্রস্তুত  ও বিষয় টি নিয়ে সচেতনার কথা বলি তারাও নানা কাজের মধ্যে অসচেতনার বীজ বপন করে থাকি বিভিন্নভাবে৷প্রসঙ্গত,আমি বরাবরই রঙিন জামা প্যান্ট পরতে পছন্দ করি যার দরুন হলুদ লাল রঙ গুলি আমায় বিশেষভাবে টানে৷ মূলত আমি এমন একজন যাকে 'ফ্রেশ মাইন্ড' হিসেবে ধরা যেতে পারে কারন কোনো রকম রাজনীতি বা বিভিন্ন সমষ্যামূলক কাজে ছিলাম না সুতরাং কোনোরুপ 'হ্যাল'  নেই ,তাই পরার বিষয়ে পছন্দ কেই বেশী গুরুত্ব দিয়ে এসেছিলাম বরাবরই৷ সচেতনার চোখ না ফোটার জন্য কোনোদিনও মনে হয়নি লাল,হলুদ,গোলাপী প্যান্ট পরা, মানুষের ঠোঁটের কোনে হাসি ফোটায়৷ প্রথম একটি পরিস্থিতির সম্মুখীন হই যখন কাকা প্রশ্ন করে লাল,টাইট প্যান্ট পরেছিস কেন! বক্তব্যটি আমার কাছে অস্পষ্ট ঠেকেছিল ,তাই স্বভাববশত কারনও জানতে চেয়েছিলাম৷ কাকা বলেছিল ওরকম রঙের প্যান্ট মেয়েরা পরে৷ তার পরও আমার মধ্যে মেয়েদের রঙ,ছেলেদের রঙ আলাদা এমন কোনো তত্ত্ব স্থান পাইনি তবে পরবর্তীকালে যখন লিঙ্গবৈষম্যমূলক পদক্ষেপে ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পা রাখতে শুরু করি তখন পুরুষ এবং নারীদের রঙের পছন্দ আলাদা অর্থাৎ গোলাপী ,টকটকে লাল প্যান্ট শুধুমাত্র মেয়েরা  ও নীল জিন্স ছেলেরাই পরতে পারে  সেই  ভাবনা আমার মনের মধ্যে দৃঢ় ভাবে স্থান পেতে থাকে৷ উদাহরনস্বরুপ আমাকে অনেকেই বলে কিরে এরকম প্যান্ট কেন পরেছিস! ভাই মেয়েদের মতো প্যান্ট কোথা থেকে যে পাস! এরকম মন্তব্য আমার মধ্যেও একরকম বিষমতা প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে যার দরুন আমার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ওই রঙিন প্যান্টগুলি পরতে পারিনা৷ আমরা লিঙ্গবৈষম্য এর বিরুদ্ধে সচেতনার কথা বলছি কিন্তু কোথায়ও গিয়ে আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতাকেও তুলে ধরছি৷
সাধারনত একটি ছেলে কে 'মেয়েলি রঙের' পোশাক পড়তে দেখিনা তাই কেও সেরকম রঙের পোশাক পড়লে চোখে অস্বাভাবিক লাগে তার ফলপ্রসূত যদি কারও মধ্যে লিঙ্গসম্বন্ধীয় বিষম আচরন করা হয় তখন সেটি শুধুমাত্র তাকে নয় বরং সমস্ত লিঙ্গ তথা বিশেষত 'প্রান্তিক' লিঙ্গের মানুষদেরও মস্করা করে৷ আজ একটি স্থানে গিয়েছিলাম যেখানে হাওয়ার জন্য পথে পায়চারী করছিলাম ,সামনে দিয়ে দুজন মহিলা আসছিলেন ,আমার লাল প্যান্ট দেখে একজন আরেকজন কে মন্তব্য করলেন 'মেয়ে৷' কিছুক্ষন পরেরই ঘটনা আরও দুজন আসছিলেন তাদের মধ্যে একজন প্রথমে আমার  লালপ্যান্ট টি দেখলেন তার পর সন্দেহের চোখে কিছুক্ষন আমার বুকের উপর চোখ বোলালেন বোধহয় 'ফোলা' কিছু খোঁজার চেষ্টা করছিলেন তাতে উনি অন্তত একটি সিধান্তে উপনীত হতে পারতেন৷ কোনো রঙ যে কোনো  লিঙ্গের প্রতীকি হতে পারে তা মানতেই পারছিলাম না! | কি করে রঙ লিঙ্গ চিহ্নিত করতে পারে ! তারা না হয় মুক্তমনা পরিবেশ পাননি তবে যে পরিসর টি সচেতন বলতে জানি সেরকম পরিসরে এরকম মানসিকতার দৃষ্টান্ত  আমাদের ভাবায় আসলে আমরা কতটা সচেতন!  যে সাম্যটি আমি অঞ্জতাবশত বহন করছিলাম এখন তার পরিবর্তে বিপরীতমুখী ধারনা বহন করছি যা লিঙ্গসাম্যেরও বিপরীত৷ লিঙ্গবৈষম্য নিরাময়ে অবশ্যই সামাজিক ভাবনাগুলি জানা প্রয়োজন কিন্তু সেটি না হয়ে  সমষ্যাটি বাস্তবক্ষেত্রে  যখন  বপন করে ফেলি তখন সাম্য থেকে  অনেকটা পিছিয়ে পড়ি৷ যে বিষমতা এই সমাজের সৃষ্টি তার ধ্বজা না ভেঙে পরোক্ষভাবে আমরা তারই প্রতিষ্ঠা করে চলেছি প্রতিনিয়ত৷

বিজ্ঞানের বিকাশে আমরা নির্ভরশীল হয়ে বিজ্ঞানে আবদ্ধ ...

বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ তা নিয়ে বিস্তৃত মতভেদ রয়েছে এবং ব্যাক্তি বিশেষে এক একজন বিভিন্ন রকম মত পোষন করেন৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে যেভাবে মানুষজন কুসংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাস থেকে বেরিয়ে যুক্তির মাধ্যমে ঘটনাবলী বিবেচনা করছে তা লক্ষ্যনীয়৷ স্বাধীন চিন্তার আলোকে,সমাজে  বিরাজমান ও ঘটমান অনৈতিক ক্রিয়াকলাপের বিরুদ্ধে মানুষ সক্রিয়ভাবে এগিয়ে না এলেও সমষ্যাগুলি সম্বন্ধে বেশ সচেতন৷ উপরন্তু সমাজের নানা সমষ্যা নিয়ে অনেকেই যুক্তিপূর্ন ভাবে সোচ্চার৷ সমাজিক অবক্ষয়গুলি সমস্ত মানুষ কেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমষ্যার সৃষ্টি করে৷ সেই অবক্ষয় দমনে অন্যতম অস্ত্র হিসেবে বহূল ব্যবহৃত হয় বিজ্ঞান এবং যুক্তি৷ বিজ্ঞানের অবদান মানব সভ্যতার ইতিহাসে অবিস্মরনীয় তা বলাবাহুল্য তবে বিজ্ঞানের ফলস্বরুপ মানব সমাজ বিপুল সংকটের সামনে দাড়িয়ে তাও স্পষ্ট৷ শুধুমাত্র বিজ্ঞান কোনো দিনও লিঙ্গবৈষম্য,ধর্মবিভেদ বা অন্যান্য  সমষ্যাগুলি নির্মুল করার পক্ষপাতিত্ত্ব করছে এমনও নয় বরং বিকাশের নামে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে অস্বিত্ব সংকটে ফেলেছে বারংবার৷ সমাজব্যবস্থা উন্নতির নামে বিজ্ঞানের অপপ্রয়োগ করে মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপারে নির্দ্ধিধায় প্রবেশ করছে রাষ্ট্র৷ বিঞ্জানের জয়গানে মেতে পরোক্ষভাবে অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পরা হবে সংকট কে আমন্ত্রন জানানো অর্থাৎ বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বিজ্ঞান কে অন্ধবিশ্বাসের মতো গ্রহন করা হবে অনর্থক৷ সামাজিক সমষ্যা এবং কুসংস্কারগুলি যেমন বিবেচনা করে বিশ্লেষন করা হয় তেমনি প্রয়োজন বিজ্ঞানেরও গ্রহনযোগ্যতা বিবেচনা করা৷ তেজস্ক্রিয় মৌলগুলি থেকে বিদুৎ সরবরাহ বৃদ্ধির নামে প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া কে স্বাগত জানানো মনুষ্যত্ব কে সংকটে ফেলার নিম্মমানের প্রচেষ্টা হবে৷সামাজিক অবক্ষয় দমনে যে যুক্তি এবং বিজ্ঞান কে প্রতিনিয়ত প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে তার শিকড়ে জড়িয়ে গেলে সামাজিক সমষ্যার মত বিজ্ঞানও মানুষের বিপদের কারন হয়ে উঠবে তখন তার ঔষধ সন্ধানে বর্তমানের মতো কালঘাম ছোটাতে হবে৷ কুসংস্কার এবং সামাজিক সমষ্যাগুলি নির্মূল করতে গিয়ে  যাতে বিজ্ঞান এর বিষে জড়িয়ে না পরতে হয় তা খেয়াল রাখতে হবে৷ সমাজ কল্যানে নিয়োজিত মানুষরা আশাকরি এটা নিয়ে ভাববে এবং বুদ্ধিজীবিরা সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসবেন৷