Sunday, 28 June 2020

DARK...SEASON 3...no spoilers review.....

    কারোর একটা জিনিস ভালোলাগে তো কারোর সেই জিনিসটা ভালোলাগেনা। প্রত্যেকের নিজের ভঙ্গি থাকে। ডার্ক এর প্রথম দুটো সিজন এর ক্লাস নিয়ে কারোর দ্বিমত পোষন হবেনা এটা জানি। যেরম রহস্যময় সেরকম বিল্ড আপ আর সাসপেন্স ভর্তি। 
     প্রথম দুটো সিজনে মাথা খারাপ সকলের কম বেশি হয়েছে কিন্তু প্রত্যেকেই মোটামুটি মাথায় চাপ দিয়ে লিঙ্ক করিয়ে নিয়েছে ইভেন্টগুলি। আর সিজন ২ এর শেষটা হয় অল্টারনেটিভ/প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের উপস্থাপনা করে।
   Sci-fi,time travel এর উপর এই সিরিজটা যেরকম বিল্ড আপ করেছে তার ফলে ফাইনাল সিজনের জন্য সবাই এক্সাইটেড ছিলো । এইবার আমার মনে হয়েছে যেহেতু দুটো সিজনে একাধিক টাইম ট্রাভেল আর ইন্টার ফ্যামিলি রিলেশনশিপ এর জন্য  মাথা যেমন টুইস্ট হ‌ওয়ার কারনে অডিয়েন্স মজা পায় আর যেকারনে ডার্ক হাইপ পাই সেটাকেও ফাইনাল সিজনে ধরার চেষ্টা করেছে প্রডাকশন। যেকারনে মাইন্ড টুইস্ট করার জন্য একের পর এক, হঠাৎ হঠাৎ যে কোনো অল্টারনেটিভ ওয়ার্ল্ডে টাইম ট্রাভেল দেখানো হয়েছে যেটা অডিয়েন্সকে কনফিউজ করবে আর মাইন্ড টুইস্ট করবে কিন্তু এইবার ব্যাপারটা এতটাই কমপ্লিকেটেড হয়েছে যে লিঙ্ক ধরা প্রায় অসম্ভব এবং অনেকগুলো আননেসেসারি। ঘটনার ধরন দেখানোর জন্য অল্টারনেটিভ ওয়ার্ল্ডের পার্টিকুলার কিছু টাইমকে নেওয়া যেতে পারতো। অডিয়েন্স অলরেডি টুইস্টেড সেখানে অন্যরকম ভালো কিছুর অপেক্ষায় ছিলো আর এখানে প্রডাকশন এক‌ই ধরন অল্টারনেটিভ ওয়ার্ল্ডেও দেখিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেছে যার ফলে প্রতিটা এপিসোডে কিছুটা করে এক ঘেঁয়ে আর বোরিং হয়ে গেছে। 
        প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো এটা প্লানিং যে স্লো একটু শুরু করবে কারন অডিয়েন্স অলরেডি অনেক এক্সপেক্টেশন নিয়ে রেখেছে সেখেত্রে স্লো শুরু করে আবার পিক-আপ করলে ভালো লাগবে কিন্তু যেখানে ফাইনাল সিজন আর যতো ফাইনাল এপিসোডের দিকে এগোতে থাকলো ততোই লিঙ্ক করা আর সমাধান না দেখিয়ে আরো জটিল থেকে জটিল করে গেলো। আমার বিশ্বাস অনেকেই কয়েকটা এপিসোড দেখতে হয় তাই দেখেছে। প্রথম এপিসোড বোরিং আর একঘেয়েমি ভরা। দ্বিতীয় এপিসোড‌ও আহামরি লাগেনি তবে ৩,৬,৭ এপিসোডের এন্ডিং বেশ ভালো। 
       অডিয়েন্স টাইম ট্রাভেল আর টুইস্টিং দেখে ফিদা হয়ে গেছে, এক‌ই ভাবে আবারো করবে ভেবে অল্টারনেটিভ রিয়েলিটি এনে আরো জটিল সম্পর্ক দেখালেই হয়না, স্টোরিও লাগে। এক‌ই ধরন কন্টিনিউ করে গেলে ব্যাপারটা লেবু বেশি টিপলে যেমন হয় এটাও সেরকম হয়েছে। 
     বহু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলোনা, অনেক চরিত্র জাস্টিফায়েড হলোনা। Helga Doppler কে প্রথম থেকে অতো সাসপেন্সফুল আর ইন্টেরেস্টিং দেখিয়ে বোকাবোকা বানিয়ে দিলো। Charlotte এর ব্যাপারটাও সেরকম। মনে হলো জাস্ট কিছু ইনসিডেন্ট দেখানো হলো যার কোনো কারন বা ব্যাখ্যা হয়না। 
     Adam এর মুখ্য উদ্দেশ্য কি ছিলো? শেষে পাল্টেই বা গেলো কেনো? Magnus এর মতো চরিত্রর জাস্টিফিকেশন কি?  কেবল ইন্টার ফ্যামিলি রিলেশন আর এর ওর সাথে জটিল সম্পর্ক দেখানোর পর কোনো জাস্টিফিকেশন নেই! 
       Ulrich Nielson এর চরিত্রের যথার্থতা কেবল সার্কেল কমপ্লিট করা ? 
   শেষ অবধি না আছে কোনো স্পষ্ট উত্তর না আছে ম্যাসেজ কেবল আছে  একাধিক ধাঁধা যার উত্তর এড়িয়ে গেলো।
   অডিয়েন্স যেখানে ওয়েট করছে একটা স্যাটিফাইং এন্ডিং এর জন্য সেখানে শেষ ১৫ মিনিটে হঠাৎ সমাধান হয়ে গেলো? ইভেন্ট গুলো পরপর ঘটানোর চেষ্টা না করে ডাইরেক্ট Tanhhaus এর ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টা প্রথমে করলো না কেনো Caludia?  কেবল সবাই যাতে ঠিক টাইমে ঠিক জায়গায় থাকে, ঠিক ঘটনা ঘটে সেইসব করে গেলো সেই দুই রিয়েলিটিতে যেটা এক্সিস্ট‌ই করেনা? আর শেষে হঠাৎ করে সমাধান পেয়ে গেলো ? Claudia  নিজে গিয়ে বাঁচালোনা কেনো ? কেনো Adam কে বলার পর Adam  না বাঁচাতে গিয়ে ইয়ং Jonas কে পাঠালো। Adam লিডার‌ই বা হলো কীভাবে? কীভাবে Charlotte এর মেয়ে post apocalypse লিডার হলো?
   ক্ল‌ওডিয়ার অল্টারনেটিভ রিয়েলিটি থেকে এসে ওল্ডার ক্ল‌ওডিয়াকে ডায়েরি দিয়ে গেলো আর সেই রিয়েলিটি থেকে কেও ক্ল‌ওডিয়াকে আসার জন্য আটকালো না? 
   কেবল যখন তখন Jonas আর Martha কে মেরে টেনশন তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে আর সেটা ভেস্তে গেছে অল্টারনেটিভ Martha,Jonas  সেই জায়গা নিয়ে নেওয়ায়।
       Apocalypse এর এতো কাছে থাকা মানুষজন বাঁচলো কিভাবে! যারা মরলো তারা কিভাবে মরলো? 
    Neds Neilson কে মারার কারন কী? কেনোই বা ওই বাঙ্কারের প্রয়োজন? কেনো প্রতিবার কোনো চরিত্র ঘুম থেকে উঠছে স্বপ্ন দেখে যা একরম?  
    আলো আধাঁরির খেলা এই সিজনেও ভালো ছিলো, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আগের সিজন গুলোতে বেটার মনে হয়েছে। ডিরেকশন‌ও ভালো তবে আমার মনে হয়েছে প্রডাকশন মাইন্ড টুইস্ট খেলা খেলতে গিয়ে এমন ছড়িয়েছে যে শেষে লিঙ্ক করানোর কথা ভাবেনি এবং করেওনি। ইন্টিমেট সিনের খেত্রে যেগুলো আগের দুটো সিজনে করেনি সেগুলো এই সিজনে করা হয়েছে যা না হলেও কোনো ব্যাপার ছিলোনা যদিও নেটফ্লিক্সের এটা সিগনেচার নেচার।
     Jonas  এর চরিত্রের সব একপ্রেশন এক‌ই লেগেছে। তবে Hannah এর চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন তিনি সত্যিই অনবদ্য ।
      আর রয়েছে কিছু হেঁয়ালি কথা "Beginning is the end and end is the beginning" এই টাইপের প্রত্যেকটা কথা শেষমেষ মিনিংলেস হয়ে গেছে।  এটা হতোনা যদি Ending টা Beginning  এর মতো হতো।
     শেষের বাড়িতে ৬ জনকে দেখানো হলো ঠিক তাদের‌ই যারা অল্টারনেটিভ রিয়েলিটিতে মারা গেছে, কেনো? বাড়িটা কার ? Claudia দের? Jonas এর বাবা তাহলে আসল রিয়েলিটিতে Mikkel নয়?
    শেষে একবারো মনে হয়নি Best ever ending in the history of series বরং GOT  এর এন্ডিং এর মতোই বলা যায়। ডার্কের হার্ডকোর ফ্যান হিসেবে ভীষনই আপসেট। এখনো Breaking Bad এর দখলেই Best ever ending in the history of series এওর্ডটা রেখে দেবো।
   তবে Martha এবং Jonas কে ভালোবাসার উদাহরণস্বরুপ বলা যেতে পারে এই কারনেই যে রিয়েলিটিই হোকনা কেনো দুজন দুজনকে ভালোবেসে গেছে-"Don't believe anything else."
       এর পরেও যদি কেও বলে ভীষন ভালো তাহলে তারকাছে আমার কিছু প্রশ্ন থাকবে যেগুলো আমার কাছে ক্লিয়ার নয় আর কিছুর উত্তর পাইনি।

Saturday, 13 June 2020

Gulabo Sitabo...

    দেখবেন প্রবচন আছে যে যখন কিছু শুরু করবেন ধামাকা দিয়ে করুন, ধামাকাটা অনেক দূরে গিয়ে ঠেকবে। 
ঠিক এমনটাই হয়েছে Gulabo Sitabo সিনেমায়। 
    গল্প কি তা বলে স্পয়লার দেওয়া আমার অনুচিত। তবে যে বিষয়গুলো নিয়ে বলা যায় সেগুলি বলছি।
   কাস্টিং ডিরেক্টর একটা স্টান্ডিং ওভিয়েশন ডিসার্ভ করেন। 
   সকলের অভিনয় দূর্দান্ত যদিও বিজয় রাজ এর অভিনয় আগের কয়েকটা সিনেমার মতো এক‌ই ধরনের লেগেছে। কিছুটা আপসেট ওনার থেকে। অমিতাভজি যেরকম অভিনয় করেছেন এই সিনেমায় তার বিশ্লেষন করার যোগ্যতা আমার নেই। আয়ুষমান আবারো প্রমান করলো ওর সিনেমা মানেই চিরাচরিত সিনেমার বাইরে গিয়ে অন্য টেস্ট। সাইড রোলের সবাই বেশ ভালো অভিনয় করেছে সে বাচ্চা বোন হোক বা বড়ো বোন। উঠতি যাবানি, বাস্তববাদী হয়ে কাজ আদায় করে নেওয়া আর শিক্ষায় মোড়া দৃঢ়চেতা বোনের চরিত্র পারফেক্ট ফুটিয়ে তুলেছে মেয়েটি। বেগমজান তো আমার মনটাই কেড়ে নিয়েছেন। চাকরের চরিত্রের বোবা লোকটিও নিজস্ব কেলমা দেখিয়েছে অল্প স্ক্রিনিংএ। 
   সুজিত সরকারের সিনেমাগুলোই অন্যরকমের, ভালো বা খারাপ প্রত্যেকটা এপ্রিশিয়েট করা যায় এবং ডিরেকশন এই সিনেমায় অনবদ্য।
   গল্প শুরুর প্রথম ৩০ মিনিট খুব মজার লাগবে কিন্তু তারপর থেকে বেশ স্লো কিন্তু সেটি ওভারলুকড হবে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আর ডিরেকশনের জন্য। দর্শক আইডিয়া করতে পারবে কি হতে পারে, কিছুটা ঠিক অনুমন‌ও করবে কিন্তু পুরোটা পারবেনা আর এখানেই সিনেমার টুইস্ট। গল্প আমার আহামরি লাগেনি তবে যেরম টুইস্ট দেখানো হয়েছে সেরম আর কোনো সিনেমায় দেখাইনি, কেও ভাবতেও পারবেনা। পুরো অন্যরকম। বাংলা গদ্যে এরম একটা গল্প ছিলো যদিও অনেকটাই সেটা আলাদা। নামটা এখন মনে পরছেনা। 
সিনেমার ম্যাসেজ পরিস্কার। তবে মাঝের কিছুটা সময় শুরুর মতো মজা ব্যাপারটা ছিলোনা, বেশ মেকানিক্যাল লাগছিলো। 
    এটি একটি সফল স্যাটায়ার, কিছুটা স্যাডিসটিক‌ও। রিসেন্ট টাইমে এরম স্যাটায়ার হিন্দি সিনেমায় এতো ভালো ভাবে আর হয়নি প্রবাবলি। 
   

Wednesday, 13 May 2020

Ad Astra...

আর কারোর কি কখনো মনে হয়েছে যে ব্র্যাড পিটের চোখ সবসময় দুঃখময়, একটা মায়া জড়ানো ব্যাপার রয়েছে। সেটা একশন মুভি হোক কিংবা কমেডি বা সাইন্স-থ্রিলার।
     এড-এস্ট্রা কমপ্লিট মুভি নয়, স্পেসের সুন্দর ছবি দেখানো বাদে ২ ঘন্টার সিনেমায় গল্প বা অভিনয় দেখানোর মতো তেমন কিছু নেই। যেরকম সাসপেন্স-থ্রিল বিল্ডাপ করলো সেই রহস্যটাই উন্মোচন হলোনা, যা ব্যর্থতা। এজন এস্ট্রোনট স্পেসে গেলো তার বাবার সাথে দেখা করলো আর কাজ মিটিয়ে চলে এলো মাঝে আননেসেসারি একশন। 
    পুরো সিনেমায় রয়েছে সবার মনমরা ভাব। দুঃখময়তা। সিনেমাটা এক সরলরেখার হেঁটেছে কেবল , একটা ভালো গল্প বা টুইস্ট এমনকি শেষে পুরো ব্যাপারটা বোঝালেও হয়তো দাঁড়াতো কিন্তু কিছুই হয়নি। ব্যাপারটা এরম যে একজন জন্মালো, বড়ো হলো, পড়াশোনা করলো, বিয়ে করলো তারপর বাচ্চা হলো তারপর বুড়ো হয়ে মরে গেলো। 
     এভারেজ অর বিলো এভারেজ কিন্তু স্পেশ কে ভীষন ভালো করে দেখিয়েছে। VFX দুর্দান্ত  আর কয়েকটা সিন দারুন শুট করা হয়েছে যেগুলো ভালো লাগবে। 
     কিছু কোয়েটস আছে যেগুলো মন ছুঁয়ে যাবে অর এটাই প্রাপ্য এই সিনেমা থেকে।

Tuesday, 21 April 2020

Jojo Rabbit...

     সিনেমা আমাদের অনেককিছুই শেখায়, অনেকক্ষেত্রে অনেকের জীবনের কথা এমনভাবে তুলে ধরে যা স্বাভাবিকভাবে বুঝতে পারতাম না কিন্তু উপস্থাপনার কারনে রিলেট করতে পারি যাকে বলে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো। 

     আমাকে কেও সিনেমা কেমন নিয়ে জানতে চাইলে ভালো-খারাপ বলে থাকি, এখানে আমার পছন্দটাই প্রায়রিটি পায় মানে আমার পছন্দের Genre, টাইপ ইত্যাদি কিন্তু এরমানে এই নয়যে কোনো সিনেমার গল্প ভালো না হলে বা স্ট্রেট হলে সিনেমা খারাপ যেমন ১৯১৭ সিনেমাটা। সাধারন-স্ট্রেট গল্প কিন্তু দারুন কারন ? কারন সিনেমায় ক্যাটেগরি বলে কিছু জিনিস আছে যেমন খাবারেও থাকে। ঝাল, নোনতা, মিষ্টি আবার মিষ্টির ভাগ আছে, তেমনই।
    আমি ভাবছিলাম অস্কার পাওয়া সিনেমা ভালো হবে মনে হয়। কিন্তু কিছুক্ষনপর বোরিং লাগছিলো। কিন্তু কোনো সিনেমা বা সিরিজ শুরু করলে আমি শেষ না করে ছাড়িনা। শেষে মনে হলো না একটা সত্যি ক্লাসিক সিনেমা দেখলাম আর তাতে একটি বাচ্চা কাঁপিয়ে গেলো। আমি জানিনা কার কেমন লাগবে তবে আমার মনকে ভীষন তৃপ্তি দিয়েছে সিনেমাটা। অস্কার পাওয়ার মতো সিনেমা কিনা জানিনা তবে মেটাফোর আর স্যাটায়ার এর মিশ্রনে তৈরি একটা ক্লাসিক সিনেমা এটা।
     Jojo এর অভিনয় যে বাচ্চাটা করেছে তাকে নিয়ে বলার ভাষা আমার নেই। হাসির কিন্তু মন খারাপ করে দেবে ছেলেটার জন্য।
   Scarlett Johansson কে মার্ভেল সেক্স সিম্বল হিসেবে দেখিয়েছে কিন্ত উনি জাত চিনিয়েছেন Marriage story সিনেমায়। এখানে অল্প সময়ে যথেষ্ট ভালো অভিনয় করেছেন। ভীষন ইন্টারেস্টিং চরিত্র। ওনার চরিত্রটা আমাদের সকলের মনের বিদ্রোহী দিকটা তুলে ধরেছে।
      Captain এর চরিত্রটা আমার সবচেয়ে প্রিয়, বরাবরই, ট্রাজিক হিরো। এনারা হলেন তারা যারা সমাজে কিভাবে টিকে থাকতে হয় জানেন কিন্তু ভিতরে বিরক্ত, নিজেকে চেপে রাখে কিন্তু যখন ডিলেমায় পরেন তখন ঠিকটা বেছে নিয়ে ট্রাজিক হিরো হয়ে ওঠে, এদের নাম কোথাও লেখা থাকেনা।
     ইহুদি মেয়েটির চরিত্র আমার কাছে সিম্বলিক লেগেছে, স্বাধীনতার ঠিক যেমন জোজোর মায়ের চরিত্রটা।
       হয়তো অনেকের সিনেমাটা ভালোলাগবেনা তা সত্ত্বেও আমি এটা ভালো সিনেমা হিসেবে সাজেস্ট করবো কারন এটা ভালো সিনেমাই। হিটলারের সমসাময়িক এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই সিনেমাটি ওয়ান অবদি বেস্ট স্যাটায়ার।
     সিনেমাটা অস্কার পেয়েছে Best Adapted Screenplay ক্যাটাগরিতে।
      ৭.৯ অন IMBD, ৭৯% অন Rotten Tomatoes, ৪.৮ অন Facebook.

Two iconic moments from the movie.


Monday, 20 April 2020

The Lone Ranger...

ওয়ান অব দ্যি আন্ডাররেটেড ফিল্ম। সিনেমার গল্প খুব‌ই সাধারন যেমন হিন্দি সিনেমায় হয়কি, ভালো মানুষদের উপর খারাপদের অত্যাচার আর হিরো এর এন্ট্রি। তবে সিনেমাটা সাধারন হয়েও সাধারন নয় কারন এখানে হাসি মুখে তামাশা মারা হয়েছে, তামাশা মারা হয়েছে উপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে, গায়ের রঙের বিবেচনার বিরুদ্ধে, যেভাবে আদিবাসীদের এলাকা দখল করা হয় নিজেদের স্বার্থে, সেসবের বিরুদ্ধে। 
জানিনা কেনো সব জায়গায় এর রেটিং এতো কম কিন্তু দুজন মানুষ সিনেমার মেরুদন্ডের কাজ করেছেন। একজন সাইড চরিত্র অভিনয় করেছেন সিনেমায় Jhonny Depp এবং আরেকজন তার মেকাপ আর্টিস্ট।
   Jhonny Depp নিজেকে চরিত্র এর জন্য যেভাবে পাল্টাতে পারে সেরম একমাত্র Christian Bale ও  Joaquim Pheonix কে দেখেছি। যেকোনো চরিত্র করতে পারে। 
   গেস্ট এপিয়ারেন্স হিসেবে Helena Bonham(HP এর Bellatrix Lestrange) যা অভিনয় করে গেছেন তাতে যে কেও মুগ্ধ হয়ে যাবে, একদম ক্ষনিকের চরিত্র কিন্তু এককথায় ফারু।
      দেখে ভালোই লাগবে সবার আশা করছি।

SH.. William Sherlock Scott Holmes.

সৌরভ না ধোনী? রোনাল্ডো না মেসি? বন্ড না শার্লক?
   যতোদিন সময় বহমান থাকবে ততদিন তুলনা থাকবেই কেও বায়াসডনেস থেকে তুলনা করবে কেও স্ট্যাস্টিটাক্স দেখে কেও বা গুন দেখে ফেভারিট বেছে নেবে।
    বন্ড, জেমস বন্ড হলেন সেইরকম ডিটেকটিভ যিনি কিনা শেহ‌ওয়াগ টাইপের ব্যাটসম্যান মানে শুরু থেকেই মারকাটারি ব্যাপার। গোয়েন্দা ব্যাপারের থেকেও বেশি প্রাধান্য পায় একশনগুলি। এক এক জনের এক এক ধরন যা হয়। যেমন বক্সীবাবু মারকাটারি ব্যাপারটা কম‌ই করতেন কিন্তু বুদ্ধির খেলায় তিনি আবার ভীষন স্বচ্ছল তেমনি হলেন শার্লক হোমস। তিনি লড়াইটা ভালোই জানলেও আসল অস্ত্র ওনার মগজ।
     ডিটেকটিভ লাইনে ব‌ই অনুযায়ী দু-ধরনের ডিটেকটিভ রয়েছে এক বক্সী/শার্লক-বুদ্ধি প্রায়‌ওরিটি বেশি পায় আর আরেক ধরনের হলো ফেলুদা/জেমস বন্ড-একশন বেশি প্রায়‌ওরিটি পায়।
    আর প্রবাদ আছে "Intelligence is sexy" তাই আমার কাছে বক্সী/শার্লক প্রিয় বেশি।
   রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে যদি কোনো খাবার ভীষন ভালো লেগে যায় তাহলে তারপর কোনো খাবার যদি কিছুটা কম খারাপ হয় তাহলে সেটাকে বাজে মনে হবে। এটা বলার কারন ধরুন কেও R.Downey jr.  কে Iron Man  সিনেমায় দেখছে, এখানে কিন্ত অভিনয় সেরম কিছু নেই, রয়েছে SWAG, এটিটিউড আর ডোন্ট কেয়ার যেটা হলো Iron man  এর আসল চরিত্র এই জন্য ওনাকে দারুণ মানিয়েছে। এবার ওনাকেই আবার Sherlock Holmes সিনেমায় দেখুন, অভিনয়ে জানেন সেটা কেবল প্রমান‌ই করেননি উপরন্তু দেখিয়েছেন যে Iron man এটিটিউড থেকে বেরিয়ে অন্য ধরনের কঠিন চরিত্র করতেও পারেন। RDJ এর অভিনীত Sherlock Holmes সিনেমা দুটিই খুব ভালো লাগবে( আমার সেকেন্ড পার্টটা বেশি পছন্দ)। এর পরে যদি কেও Benedict এঁর Sherlock Holmes সিরিজটা দেখে থাকে( শুধু সিজন ১ নয়) তাহলে তখন সবার Benedict এঁর শার্লক চরিত্র টা বেশী ভালো লাগবে। ব‌ইয়ে যেমন বর্ননা করা হয়েছে তার সাথে Benedict এর মিল অনেকবেশি উপরন্তু চোখ বেশি বুদ্ধিদীপ্ত লেগেছে( সেটা সিজন ২ থেকে)। দুজনেই কিন্তু দারুন। আমি দুজনকেই সমানে রাখবো সেটা আমার কিছুটা বায়াসডনেস এর জন্য। তাবলে ফ্যাক্টকে এড়ানো যায়না।  এবার যদি Jeremy Brett এর Sherlock Holmes দেখে কেও তাহলে এনারটাই সবচেয়ে ভালো লাগবে এটিটিউডের কারনে( মাত্র একটা সিনেমা দেখেও)। 
     এবার যদি উল্টো সিকোয়েন্সে Sherlock Holmes দেখা হয় মানে প্রথমে Jeremy Brett এর তারপর Benedict তারপর RDJ এর শার্লক হোমস তাহলে হয়তো Benedict ও RDJ এর শার্লক ভালো নাও লাগতে পারে আর কারন আগেই বলেছি।
     জোয়াকিম ফিনিক্স না হেথ লেজার ? এক্ষেত্রেও এক‌ই। 
  এবার আসি SH এর সিরিজ নিয়ে...
   সিজন ১ ভীষন‌ই বোরিং যে কারনে আমি সিজন ১ বাদে বাকি গুলো রিপিট করলাম। কিন্তু সিজন ২ থেকে একের পর এক চমক, সাসপেন্স, থ্রিলিং, নার্ভ সবসময় উত্তেজিত থাকবে। আর সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং হলো পর পর টুইস্ট। 
    ক্রাইম-থ্রিলার-সাসপেন্স এই genre এর ওয়ান অব দি বেস্ট ক্রিয়েশন।  যারা মাইন্ড ব্লোয়িং, টুইস্ট এই জাতীয় সিনেমা পছন্দ করেন তারা এই সিরিজটা দেখুন কারন এক একটা এপিসোড এক একটা সিনেমার মতোন এতে অনেকটা টাইম ওকুপাইড থাকা যাবে। তবে সিরিজটা এক একটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট মতো হলেও পর পর এপিসোড অনুযায়ী সিরিজটা দেখা উচিত। দেখে বোর হবেননা এবং এটা ওর্দিও। ৪ টি সিজন আর মোট ১৩ টা এপিসোড (১ টা এস্পেশাল) । প্রতিটা এপিসোড এপ্রক্সিমেটলি ১২৫ মিনিট মতো।
   আর এটার এস্পেশ্যালিটি হলো এই সিরিজটার টাইমিং হলো বর্তমান সময়ের মানে যেখানে সব আধুনিক, এন্ড্রয়েড ফোন রয়েছে, হ্যাকিং হয়। বাকি সিনেমাগুলোর মতো লিখিত ব‌ইয়ের সমসাময়িক নয়।
     ৯.১ অন IMDB, 8.9 অন TV.com.

One of the best line from the series.

Thursday, 16 April 2020

Made in heaven...

      আমাদের সমাজে কেও যদি বলে তার কোনো পরিচিত সমকামী তাহলে সবাই রে রে করে উঠবে কিন্তু যখন কারন জিজ্ঞেস করা হবে তখন তোতলাবে। যাইহোক এটা কেবল কোনো সমকামীদের নিয়ে সিরিজ নয় এটা এমন একটা সিরিজ যেটা ভীষন প্রাক্টিক্যাল আর প্রত্যেকের পারসপেকটিভ ভিউ তুলে ধরেছে। ভিউ তুলে ধরেছে মানে সেটাকে জাস্টিফাই করে দিয়েছে সেটা নয়, যেটা ওয়েল প্ল্যানড, ঠান্ডা মাথায় করা হয় তখন তার জাস্টিফিকেশন থাকেনা। কিন্তু কেনো মানুষ ওরকম করে, তার বিল্ড আপ, সোসিও-ইকোনম্যিক্যাল এসপেক্ট কতটা তাকে ওটা করতে বাধ্য করে, তা তুলে ধরেছে। 
    প্রথমত এটায় একাধিক গল্প রয়েছে আর একাধিক ইস্যু তুলে ধরেছে, এবার আমরা তো ইস্যু গুলো জানিই তাহলে এস্পেশ্যালিটি কী?
    কোনো একটা পার্টিকুলার সিনেমা কিংবা সিরিজ এতগুলো ব্যাপার একসঙ্গে প্যারালালি আর টু দ্যি পয়েন্ট তুলে ধরেছে বা পেরেছে এরম মাথায় আসছেনা। 
    এবার কেও যদি বলে মানুষ ভুল করে কারন মানুষ বলেই তা বলে ক্ষমা করা যায়না কিংবা আমি যদি Adil( Tara's Husband) এর জায়গায় থাকি (বা ভায়েস ভার্সা-তারার জয়গায়) তাহলে কি করবো? এইসব আলোচনা সাপেক্ষ তবে আমি মনে করি মুখে সরি বলে বা চাপে সরি বলে কিছু হয়না। যখন মন থেকে অনুশোচনা হবে আর সেটা একদিন না একদিন হবেই তখন সে শাপমুক্ত হয় যদিও তাকে ক্ষমা করলেও নিজের পাপবোধ কখন‌ই যাবেনা। আর আমার এই কথা গুলো তখন‌ই বুঝতে পারবে যখন কেও সিরিজটা দেখবে। আমি দুটো বিষয়ে আপাতত বললাম ঘটনাগুলো উল্লেখ না করে।
   এখানে কিভাবে একজন সত্যি পোগ্রেসিভ ছেলে তার প্রেমিকার অতীত কে ইগনোর করে তাকে একসেপ্ট করে, কিভাবে অল্প বয়সি মেয়েরা যারা ফ্যান্টাসি করে কিন্তু ইমোশনে সত্যি ভালোবেসে ফেলে, লাভ বিওন্ড এজ এবং তাদের সন্তানদের মাইন্ড চেনজিং, সমকামীদের সাপ্রেসড থাকা,  হিউম্যানিটি বিওন্ড বিজনেস, রাষ্ট্রর শোষন, "সো কলড্" পোগ্রেসিভ ফ্যামিলি, "সো কলড্" পোগ্রেসিভ মহিলা যিনি পাইলট আর ফেমিনিস্ট কিন্তু তার‌ই বিয়েতে মোলেস্টেড হ‌ওয়া মেয়েকে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করানো, ছেলের সমষ্যার কারনে আনসাকসেসফুল বিয়ের পর বৌয়ের নামে দোষ চাপানো, লোকে কি বলবে তার ভয়ে নপুংসপক স্বামীকে বাধ্য হয়ে গ্রহন করা এবং পলিটিক্যাল লিডারের আসল মুখ( যেমন হয় আরকি) খসে পরা এতো ভালো দেখেয়িছে যেটা আমরা কেও ইগনোর করতে পারবোনা সে যত‌ই এই ইস্যু গুলো আমরা জেনে থাকিনা কেনো। আসলে সমাজের অন্তঃসারশূন্য অবস্থাটা এক্সরে করে দেখিয়ে দিয়েছে। 
   আগেই বলেছি সমাজের কারনে মানুষ কিছু করলেও সেটা জাস্টিফাইড নয় কিন্তু যে মানসিকতা থেকে সেটা হয় আর তার ডিলেমা, তা ইগনোর করা যায়না। কোনো মানুষের বড়ো/উপরের ওঠার ইচ্ছার জন্য যেমন বাজে ঘটনা মানা যায়না তেমনি তার সেরম হতে চাওয়ার সামাজিক কারন‌ও ইগনোরড হয়না। 
   ভালো খারাপ এখানে আপেক্ষিক যেটা আমাদের সকলের সাথে জড়িত। একটা অত্যন্ত ভালো মহিলা কিন্তু ওপরে ওঠার জন্য গোল্ডডিগার, এক একজনের কাছে এক এক রকম। 
       এই ধরনের কনসেপ্ট, সিরিজ হিসেবে আমার পছন্দের নয় কিন্তু এই সিরিজটা ভালো। 
      প্রত্যেকে অভিনয় দারুণ করেছে একমাত্র জাসপ্রীত এর রোলটা যে করেছে সে বাদে। তারার অভিনয় যিনি করেছেন তিনি জাস্ট অসাধারন, পিওর ক্লাস অভিনয় করেছেন। পারফেক্ট। কালকিকে আমার কোনো কালেই ভালোলাগেনা কেনো জানিনা আর করনের চরিত্রটা ন্যাচারাল মনে হয়েছে। করন কে কোথাও গিয়ে অনিচ্ছাকৃত পার্ভার্ট দেখিয়ে ফেলা হয়েছে, আমার তাই মনে হলো য‌ত‌ই তার দুঃখ থাকুক বা জাস্টিফিকেশন কিংবা মিউচুয়াল কনসেন্ট থাকুক। কবীর এর রোলটা আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় আসলে তার কারন কবীরের দেখার ভঙ্গিটা।
ডালিপ তাহিলের মতো হেবি ওয়েট ক্যারেক্টরর, আদিলের বাবা হিসেবে দেখানো কোনো দরকার ছিলোনা, কম নাম‌ওয়ালা কেও হলে আমার মনে হয় ওই রোলটা বেশি ভালো হতো যদিও উনি অভিনয় ভালোই করেছেন।
    যারা জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি, ফেমিনিজম, সামাজিক সমষ্যাগুলি নিয়ে কাজ করে তাদের জন্য মাস্ট ওয়াচতো বটেই, টিনেজার এবং সকলের‌ই দেখা উচিত আর শেখা উচিত।

Season 1 consists 9 episodes and each episode runs approximately 50 minutes.

Read the lines from the images.

Tuesday, 14 April 2020

Everyone is a gangster until the "DARK" arrives.

     Netflix এরতো বটেই বরং যতো ওয়েভসিরিজ আছে তাদের মধ্য যদি একটা Genre বানানো হয়  TIME TRAVEL-PARADOX-DRAMA-MIND TWISTER-SCIENCE FICTION-CONFUSION-MUSIC এইগুলো নিয়ে তাহলে আজ অবধি হ‌ওয়া বেস্ট সিরিজ এটা, অন্তত আমার দেখা। হ্যাঁ ইনক্লুডিং সিনেমাও আর আমার Predestination দেখা। যদিও সিনেমার সঙ্গে ওয়েভ সিরিজের তুলনা চলেনা কখন‌ই তাও যদি কেও তুলনা করে তাই বলে রাখলাম।

     যারা অনন্ত ১০ টা ট্যুইস্টফুল ওয়েভসিরিজ দেখেছিস তারা এখন যা যা দেখছিস সেসব বন্ধ করে DARK  দেখ। ১০ টা একটা নাম্বার মাত্র আমার বক্তব্য ওয়েভ সিরিজ দেখার ম্যাচুরিটিটা হলেই এটা দেখা যেতে পারে। এবার কেও বলতে পারে সেটা কিরকম ! এর আবার ম্যাচুরিটি কিসের ! কেনো বললাম সেটা সিরিজটা দেখলেই বোঝা যাবে। আমি গ্যারান্টি দিতে পারি অধিকাংশ মানুষের এটা ভালোলাগবেনা কারন তারা বুঝতেই পারবেনা কোথায় কি হচ্ছে আর মাঝপথে দেখা বন্ধ করে দেবে কিংবা বারবার গুগল ঘেঁটে বোঝার চেষ্টা করবে। এখানে চাই লিঙ্ক ধরে রাখার ম্যাচুরিটি যেটা সিম্পল সিরিজ দেখে হয়না তার জন্য দরকার হয় মাইন্ড টুইস্টার টাইপ সিরিজের। এর মানে এটা নয় যেগুলি মাইন্ড টুইস্টার নয় সেগুলো খারাপ, আমার মতে সব সিরিজের এক একটা ধরন থাকে আর Dark বুঝতে হলে মাইন্ড টুইস্টার ধরনের কিছু সিরিজ আগে দেখা প্রয়োজন। 
    
        এটা দেখতে হবে ভীষন ভীষন মনোযোগ দিয়ে নাহলে পরে পেন খাতা নিয়ে বসতে হবে। 
     
        প্রথম সিজনের প্রথম ৩টে এপিসোড ভীষন স্লো তারপর বিল্ড আপ আর তার কয়েকটা এপিসোড পরেই হঠাৎ করে আসল জায়গায় ডুকে যাবে। আমি আবারো বলছি কাওতালি মেরে এটা দেখলে ভালো তো লাগবেইনা কারন বোঝা যাবেনা উপরন্তু সময় নষ্ট যেটা এরকম মাস্টারপিস সিরিজ থেকে কেও পাক আমি চাইনা।

       মেইনলি ৪-৫ টা পরিবারের কয়েকজন কে নিয়ে ঘটনা হলেও যথেষ্ট কমপ্লিকেটেড ও অনেক ছোট ছোট ব্যাপার আছে। অল্প কিছু মানুষকে নিয়ে হলেও সিরিজটায় কার সঙ্গে কার সম্পর্ক কি সেটা বোঝা ভীষন চাপ আর এটাই প্যারাডক্স। আমিও গুগল করার কথা ভাবছিলাম কিন্তু প্যারাডক্স গুলো যখন আস্তে আস্তে বেরোতে থাকলো তখন সম্পর্কগুলো পরিস্কার হলো । প্লিজ কেও গুগল ঘেঁটে দেখতে যাসনা কারন স্পয়লার পাবি সেখান থেকে। আমি এটার ভুক্তভোগী হয়েছি একটা বিষয়ে, যেটা সিজন২ এর শেষ এপিসোডে রিভিল হতো সেটা আগেই জেনে গেছিলাম।
  
           সিরিজটা টাইম ট্যাভেলিং এর উপর হলেও ক্রাইম, লাস্ট, ডিলেমা অনেককিছুই রয়েছে। গেম অব থ্রোনস এর পর কোনো সিরিজ এতোটা মনকে আর মাথা কে তৃপ্তি দিলো। Got আর Dark দুটো দুধরনের, কারোর সাথে কারোর তুলনা চলেনা তবে GOT যদি বেস্ট Plot twister হয় তাহলে Dark বেস্ট Mind Twister.

      এরপরেও হয়তো কারোর ভালো নাও লাগতে পারে কারন সবার সব Genre পছন্দ হয়না তবে অন্য কোনো কারন থাকলে সেটা বললে খুব ভালো হয় আমার।

৮.৭ অন IMDB, ৯৪% অন Rotten tomatoes, ৪.৯ আউট অব ৫ অন Facebook.

     মোট ১৮টা এপিসোড দুটো সিজন মিলিয়ে আর প্রতিটা এপিসোড এপ্রক্সিমেটলি ১ঘন্টা করে।

      জানিনা এই সিরিজটা কি করে প্রচার পেলোনা আর আমার কাছে এতো দেরি করে এলো। সিজন২ শেষ হলো অলটারনেট রিয়েলিটি এর সূচনা করে। আর সিজন৩ এবছর জুন মাসে বেরোবে যেটা ফাইনাল সিজন।
       মাথা খারাপ হয়ে আছে এখনো আমার। 

Just a meme for your mind, u can take this as a mind twister like toungue twister.

Wednesday, 8 April 2020

Contagion...

বর্তমান পরিস্থিতিতে সারা দুনিয়া জুড়ে যেরকম অবস্থা কোরোনা ভাইরাসের জন্য ঠিক সেরকম‌ই প্রেক্ষাপট নিয়ে তৈরি হয়েছে এই সিনেমাটা। 
    ঠিক কিভাবে ছড়িয়েছে এই রোগ বিশ্ব জুড়ে, তার ভয়াবহতা, মানুষের মধ্যে ত্রাস এবং আরো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি যখন হয় তখন খাওয়ারের জন্য মানুষ মানুষকে আক্রমণ, অরাজকতা ইত্যাদি তুলে ধরেছে। 
     তবে এই সিনেমাটা অত্যন্ত মাথা ভারী সিনেমা মানে নামজাদা অভিনেতাদের এই সিনেমায় নেওয়া তো হয়েছে কিন্তু বেশিরভাগ চরিত্র জাস্টিফায়েড হয়নি। 
        সিনেমার ওরিয়েন্টেশন সিরিয়াস হলেও কখন‌ও তা করে উঠতে পারিনি বরং অত্যন্ত ক্যাজুয়াল আর স্লো-বোরিং সিনেমা হয়েছে।
      অনেককিছু দেখাতে গিয়ে কোনো কিছুই ঠিক দেখাতে পারিনি আবার দরকারি অনেক বিষয় দেখায় নি। ফ্রিকশন ধরে নিয়ে মেনে নিলাম যে বিজ্ঞান বিষয়ক ব্যাপার গুলো দেখানো প্রয়োজন মনে করেননি নির্মাতারা তবু‌ও কিছু বিশেষ মুহুর্তের কথা ভাবতেই পারতেন।
   একটা বিষয় ভালো লেগেছে আর সেটা হলো টিকাকরনের তারিখ ঠিক করার বিষয়টা, পদ্ধতিটি ঠিক না ভুল আলোচ্য হলেও ভীষন রিয়েলেস্টিক লেগেছে।
    কোইনসিডেন্টলি এই সিনেমায় যে ভাইরাসটা মহামারীর আকার নিয়েছে সেটার অরিজিন ছিলো বাদুড়‌‌।
   ভালো হয়তো লাগবেনা তবে এই পরিস্থিতিতে শিক্ষনীয় এবং দেখা যেতে পারে।

Sunday, 5 April 2020

Bibaho Diaries/বিবাহ ডায়েরিস.. এবং A Wrinkle in Time/এ রিঙ্কেল ইন টাইম...

Bibaho Diaries...
     গতকাল হাতে কোনো সিনেমা ছিলোনা দেখার জন্য তাই বিবাহ ডায়েরিস সিনেমাটা ডাউনলোড করে চালিয়ে দিলাম। ওমা দেখি এতো ইয়ং জেনারেশনের প্রেমের বিয়ের এফেক্ট আর কিভাবে কি হয় সেসব দেখাচ্ছে।  মধ্যবিত্ত বাড়ির মায়ের উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ের প্রতি ধারণা আর সাংসারিক মা-বৌমার ইনিংস যা হয় আরকি। কিন্তু এর পরে গিয়েও সিনেমাটা ওই টিপিক্যাল বাংলা সিনেমার মেজ-সেজ বৌ সিনেমার মতো পারিবারিক ড্রামা হয়ে ওঠেনি। আমাদের জেনারশনের বিয়ের প্রতি যে ভয় তা দেখিয়েছে এবং তার কারনটা ব্যাখ্যাও করেছে তবে মজার ছলে করায় ব্যাপারটা বেশ এড়িয়ে গেছে। তবে ইয়ং জেনারশনের বিয়ের প্রতি ভয়, সংসার, সম্পর্ক ঠিক যেরকম টাই হয় ঠিক তেমনটাই ফুটিয়ে তুলেছে। এটা কোনো রোম্যান্টিক সিনেমা না এটি একটি বাস্তবিক সিনেমা যার মধ্যে বহু মানুষ নিজের জীবনের মিল পাবে, মিল পাবে সমবয়সি প্রেমিক-প্রেমিকারা, নাট্য জগতের সঙ্গে যুক্ত মানুষরা, মা-বৌমারা, সর্বোপরি বৌয়ের ভয়ে চুপসিয়ে থাকা বরেরা যাদের বৌকে লুকিয়ে ফুটবল দেখতে যেতে হয়। তবে সিনেমাটা মোটেই মুখ গোমড়া করে রাখা সিরিয়াস সিনেমা নয়। প্রথম থেকে শেষ অবধি ঠোঁটের কোনো হাসিতো থাকবেই মাঝে মাঝে পেটে হাসির জন্য খিল ধরে যাবে। এরম একটা সিরিয়াস সিনেমাটা যেভাবে হাসির মধ্যে দিয়ে উপস্থাপনা করা হয়েছে তা সত্যিই অনবদ্য। 
    সোহীনি কে নিয়ে আর কি বলবো, অন্য জাতের অভিনেত্রী। 
    বিশ্বনাথ‌ অল্পসময় স্ক্রিনিং নিলেও সুন্দর পারফর্মেন্স করেছে।
    বিশ্বনাথের প্রেমিকার চরিত্রটা ভীষন দরকার ছিলো আর এটাই সিনেমার মাস্টারস্ট্রোক কারন ওই চরিত্রটা সেই মানুষদের রিপ্রেজেন্ট করে যাদের আমরা অন্যভাবে দেখি। তাদের বিচার করি কাপড় নিয়ে, তাদের তথাকথিত জানু পুচু সোনা বলে ডাকার "নেকামোকে", কথা বলাকে। কিন্তু এদের মধ্যে যে নরম মনটা, একটা ভালো মানুষ থাকে সেটাই এই চরিত্র তুলে ধরেছে। ঠিক যেমন করিনা কাপুরের চরিত্র Kabhi Kushi Kabhi Gham এর।
   ঋত্ত্বিককে নিয়ে বলার কিছু নেই, উনি সমস্ত কিছুর উর্দ্ধে। 
         তবে পারিবারিক সমষ্যাগুলি বেশী না দেখিয়ে সিনেমাটা মেইন জায়গায় নিয়ে গিয়েছে যেটা আরো দেখানো উচিত ছিলো হয়তো এটা ভেবে দেখাইনি যে সবাই সমষ্যাগুলো জানে কিন্তু যারা এখনো বিয়ে করিনি তারা আরো কিছু উদাহরন দেখতে পারতো অভিজ্ঞতা তৈরির জন্য।

A Winkle In time...
  Disney এর সিনেমাগুলো মেইনলি বাচ্চাদের জন্য হলেও বড়োদের‌ও ভালো লাগে। এই সিনেমাটা স্পেস আর অন্য ডাইমেনশনের ব্যাপার থাকায় দেখা শুরু করি। শেষের দিকে গিয়ে আর দেখতেই ইচ্ছা করছিলোনা। Meg চরিত্রটা ভীষন ইরেটেটিং। দুর্বল থেকে শক্ত হ‌ওয়ার বিলিন্ডিং না দেখিয়ে শেষে টিপিক্যাল হিন্দি সিনেমায় যেমন আধমরা হিরো হঠাৎ বেচে উঠে সবাইকে কেলায় তেমন টাইপের ফিনিশিং অনেকটা। যতটা সিরিয়াস বিল্ড আপ করতে চেয়েছে ঠিক তার উল্টোটাই হয়েছে।
     তোস্য জালি।

Chernobyl...

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড়ো নিউক্লিয়ার ডিসাস্টার। আমি এটা জানতামনা যদিনা চার্নোবিল দেখতাম। এটা একটা ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা যেখানে টুইস্ট কিংবা ইচ্ছামতো গল্প জুড়ে সেই মাইন্ডব্লোয়িং ব্যাপারটা করা যায়না আর এটাই সিরিজটার ক্রাইসিস আর জন কেনেডি বলেছিলেন সবকটা ক্রাইসিস হলো অপারচুনেটি, অন্য কিছু করার ও আউট অব বক্স ভাবার‌ । সিরিজের নির্মাতারা প্রয়োজনে কিছু চরিত্র সংযোজন করেছে কিন্তু একটা জানা ঘটনা এমন কি করা যায় যেটা একটা মাস্টারস্ট্রোক হয়ে ওঠে আর এখানেই HBO তার খেলাটা খেলেছে। এঁরা গভীর থেকে গভীরতম ডিটেলে গেছে আর কিছুটা ডকুমেন্টরি স্টাইলে কিন্তু সিরিজ হিসেবেই দেখিয়েছে। একটা মিনি-সিরিজের মধ্যে অন্যরকম ফিনিশিং। 
    প্রত্যেকটা চরিত্র দুর্দান্ত অভিনয় করেছে কিন্তু চার্নোবিলের হিরোর থেকেও আমার কাছে হিরো বরিসের অভিনয় যিনি করেছেন।
     Borris- "I thought it was not serious because they chosed me"
    Legasov- "And they wrongfully did the best thing, they have sent their best person"
  হিরোশিমার বম্বিং থেকে প্রায় ৪০০ গুন রেডিয়েশন বেরিয়েছিলো এই দু্ঘটনায় যার জন্য এখনো চার্নোবিলের আসেপাশে রেডিয়েশন কমানোর কাজ চলছে এবং এস্টিমেট করা হয়েছে ২০৬৫ সালে সেটা কমপ্লিট হবে। 
  কেনো হলো , ভয়াবহতা আর কতো মানুষকে বাড়ি ছাড়তে হয়, জন্মগত ডিফেক্ট আর সব এই সিরিজটা দেখলেই বোঝা যাবে। স্পয়লর দেওয়া আমার কাজ নয়। 
  এটি দেখার সময় মনে রাখতে হবে এটা ফিকশনল নয় তাই অন্যান্য সিরিজের মতো আশা করলে হবেনা এটাকে ডকুমেন্টরি হিসেবে দেখতে হবে। আর যদি মজার জন্য কেও কিছু দেখতে চায় তাহলে এটা তাদের জন্য নয়
5 episodes only and each episode is from 55 to 65 minutes long.

Kota Factory...

আমার মতে সবসময় সবার যেকোনো সিনেমা দেখা উচিত নয়, ঠিক সিকোয়েন্স/লেভেলে দেখা উচিত যেমন একজন ছোট বাচ্ছা যেমন "শ্রীকান্ত" বুঝতে পারবেনা কিন্তু "চাঁদের পাহাড়" বুঝবে আবার সেই যখন প্রেমে পড়বে বা বুঝতে শিখবে তখন "শ্রীকান্ত" বুঝতে পারবে, সিনেমার খেত্রেও এরম হয়। 
   শুরুতেই কাওকে SEVEN/FIGHT CLUB এই জাতীয় সিনেমা না দিয়ে প্রথমে তাকে BIRD BOX/Shawshank redemption এই জাতীয় সিনেমা দেখিয়ে সিনেমার প্রতি টান তৈরি করাতে হবে। এবার এরা যখন এই রকমের সিনেমাগুলো দেখে ফেলবে তখন এই জেনের অনান্য সিনেমা আর ভালোলাগবেনা কারন তারা বেস্টটা দেখে নিয়েছে যেমন রসোগোল্লা খাওয়ার পর মিষ্টি দ‌ইটা যেমন হয়।
   অল্প বয়সের প্রেম, নতুন বা প্রথম প্রেমে পরে নিজেকে বোকা বোকা লাগা বলতে না পারার কষ্ট এবং একটি মিষ্টি মেয়ের প্রতি টিনেজ বয়সের দূর্বলতা এরম জাতীয় সিনেমা অনেক দেখেছি। আবার এডুকেশন নিয়ে যে সমষ্যা আছে তার ভ্যারিয়েশন দেখেছি। মানে দুটোর কম্বাইন থিয়োরির সিনেমা দেখা। আমি এমন একটা স্টেজে আছি যেখানে টিনেজ প্রেম ও পড়াশুনার বিষয় গুলো বুঝি কিন্তু ওই ফ্যাসিনেশন নেই অভিঞ্জতার কারনে।
  তারমানে কোটা ফ্যাক্টরি বাজে? এক কথায় ভালো আর ভীষন ভালো তাদের কাছে যারা সবে প্রেমে পড়েছে, টিনেজ বা সবেসবে টেস্টোস্টেরন বুস্ট হচ্ছে। মানে আমাদের ওই ১১-১২ এর সময় টা যেমন আরকি।
    জিতু ভাইয়া আচ্ছে তো লাগতে হ্যায় লেকিন সাচ্ছে নাহি লাগতে কারন ব্রিলিয়ান্সি দেখাতে গিয়ে সব সমষ্যার সলিউলন দেওয়া প্র্যাক্টিক্যাল নয়। 
  শিবাঙ্গী চরিত্রটা যে করছে সেতো অল্পবয়স থেকেই অভিনয় করে , দারুন অভিনেত্রী। 
     ভৈভব চরিত্রটা হলো আমাদের কম-বেশি মাধ্যমিকের ভালো ছেলেটা। অভিনয় বেশ ভালো করেছে।
   মীনা- গরীব ঘরের ছেলে তাই স্বাভাবিক কারনে দুর্বল চরিত্র তবে অভিনয় ভালোই করেছে।
   ভার্তিকা রাত‌ওয়াল- সত্যি বলতে অনেকদিন পর কোনো মেয়েকে আমার এতো সুন্দর লাগলো, ক্লাস ১১ এ গিয়ে ছেলেরা ঠিক যেরকম মেয়ের সামনে গিয়ো বোকা বনে গিয়ে তোতলায় ঠিক সেরকম ই, একটা মমতাময়ী মুখ।
  এরকম টাইপের সিরিজ গুলো হয় স্ট্রেচ করতে গিয়ে মাঝে সিরিয়ালের মতো ড্রামা ডোকায় মানে সমষ্যা আর শেষে গিয়ে যখন মিল দেখায় সেটা তেতো হয়ে যায়। আর হতে পারে ক্যারিয়ারিস্টক দেখিয়ে একটা দুখি ব্যাপার দিয়ে এন্ড দেখাতে পারে বা ক্রস কানেকশন। 
   Kota Factory যেনো এমন না করে। মিষ্টি গল্পটা মিষ্টি রোম-কম-এডু হিসেবে শেষ করুক টিনেজ জেনারেশনের কাছে।

ASUR/অসুর...

খুশি হচ্ছি এই দেখে যে সিরিয়াল টাইপ আর অহেতুক যৌনতাপূর্ণ ওয়েভ সিরিজ বাদে অন্য ধরনের ওয়েভ সিরিজ তৈরি করার কথা ভাবছি এবং চলতি টাইপের বাইরে গিয়ে বিশ্বমানের সাসপেন্স, থ্রিলার, ক্রাইম ড্রামা তৈরি হচ্ছে। অসুর তার‌ই প্রতিফলন। 
      আমি আফসেট এন্ডিং এর জন্য, প্রেক্ষাপট যেমন সুন্দরভাবে তৈরি হয়েছিলো সেটার ছন্দ কাটে  ৭ নং এপিসোডে আর ৮/শেষ এপিসোড ভীষন প্রেডিক্টেবল ও গ্রেম অব থোনস এর মতো ঝোলানো। 
   হয়তো সিসন ২ করার পরিকল্পনা রয়েছে কিন্তু সিরিজটা একটা সিসনেই দারুনভাবে শেষ করতে পারতো সেক্ষেত্রে আরো ১ কিংবা ২ টো এপিসোভ হয়ে যেতো।
       আর যদি সিসন ২ না আসে তাহলে অনেক প্রশ্ন পরিস্কার হবেনা।
আমি ওয়েভ সিরিজ তখন‌ই দেখি যখন তার লাস্ট সিজনটা বেরোবে বেরোবে করে তখন একবারে পরপর সবকটা দেখে নি। এইটা শুনেছিলাম ওপেন/ক্লোজ দুটো টাইপ‌ই আছে তাই দেখলাম।
       হ্যাঁ আপসেট কারোন দারুন একটা সিরিজ হতে পারতো, এতো সুন্দর প্রেক্ষাপট তৈরি করে মুখ থুবড়িয়ে পরলো। শেষ এপিসোডটা আনরিয়েলেস্টিক আর টিপিক্যাল হিন্দি সিনেমার মতো যেমন কথা বলার সময় দরকারি ইনফো দিতে গিয়ে হাফ বলার পর নেট‌ওয়ার্ক ডিস্টার্ব করা।
      আরশাদ ওয়ারসি আরো ভালো অভিনয় পারেন বলে আমি মনে করি আর নিখিলের চরিত্র CBI হিসেবে অত্যন্ত দুর্বল লেগেছে।
       GOT, DARE DEVIL  এর অনেকদিন পর এতো ভালো সিরিজ দেখলাম।

Cinemar year ending..

১ বছরে ১৩৭ টা সিনেমা যেনো cinemar year ending...

ভীষন সিনেমা দেখতে ভালোবাসি, যখন যা পাই সুবিধামতো দেখে নি। এভাবে অনেক সিনেমা দেখেছি, আগের বছর মার্চ মাসে ভাবলাম একটা ডেটা তৈরি করি সেটায় ওই মাস থেকে যে যে সিনেমা দেখেবো তার নাম আর যেদিন দেখেবো তার ডেট লিখে রাখবো। নানান খেয়ালে সবসময় লিখে রাখা হয়না তাও যথটা সম্ভব লিখে রেখেছি। এতে কিছু সিনেমা বাদ গিয়েছে মনে না থাকায় আবার বেশ কিছু সিনেমা দেখা থাকা সত্ত্বেও আবার দেখেছি ডেটায় রাখবো বলে। তা গত মার্চ থেকে এই বছর মার্চের ৩১ তারিখ অবদি হিসেব দাঁড়ালো ১৩৭ টা সিনেমা+ ওয়েভ সিরিজ(১৩৭ এর মধ্যে ১০ টা ওয়েভ সিরিজ) দেখেছি যার মধ্যে ১০ টা(এতো কম হলো কেনো মাথায় ডুকছেনা) সিনেমা হলে গিয়ে দেখেছি  । ওয়েভ সিরিজের খেত্রে একটা পুরো সিজন কে ১ হিসেবে ধরেছি( ১ টা এপিসোড কে নয়) যেমন "দ্যি অফিস" দুটো সিজন তাই ২ ধরেছি। প্রায় মাসে এপ্রক্স ১২ টা করে, আরোও হতো যদিনা নেটফ্লিক্স একাউন্টটা ছাড়তাম আর ফেসবুকে না আসতাম। 
      তাও ১৩৭ এক বছরে কম নয় বোধহয় । 

ওয়েভ সিরিজের খেত্রে-
        সবচেয়ে ভালো লেগেছে -Game of thrones  এবং Asur.
        সবচেয়ে খারাপ লেগেছে-Doom Patrol( ডিসির ব্যানার তাই বুকে পাথর রেখে বলতে হচ্ছে)
        ওভাররেটেড মনে হয়েছে-Criminal Justice এবং Breaking Bad
       স্পেশাল মেনশন-The Witcher

সিনেমার খেত্রে-
          সবচেয়ে ভালো লেগেছে-Shawshank Redemption,Forrest Gump, Joker, Parasite, Bird Box
         সবচেয়ে খারাপ লেগেছে- Annihilation, Priest, Statis
        ওভাররেটেড মনে হয়েছে-Pulp fiction, Snowpiercer, The Irishman
       স্পেশাল মেনশন- The Godfather 1, 3 Idoits, The lunchbox, The shape of water, Side effects, Seven, 1922, Marriage story(For acting-Scarlett Johanson's best acted movie ever done till now), 1917, The cloverfield paradox, Bhranti Bilas.

কেও কোনো সিনেমা নিয়ে কিছু বলতে চাইলে বলতে পারেন।

Friday, 9 November 2018

সিকিম-where peace is living

সবচেয়ে বড়ো নেশা কী জানো ?
এডভেঞ্চার ....

৭ মাস ,দীর্ঘ ৭ মাসের প্রতীক্ষা , নানা ইনক্লুসন-কনক্লুসন । কাট ছাট , ইনপুট-আউটপুট আরো কতো কি ! শেষ মেশ করলাম‌ই ।
৭ মাস আগে প্ল্যান করা শুরু করি -প্ল্যানিংটা ছিলো এরকম যে বাইক নিয়ে সিকিম যাবো । প্রথমে গুরুদম্ভার ভাবলেও রাস্তার কথা ভেবে পিছিয়ে এসেছি । যখন জগার(আমাদের ম্যারেড ব্যাচেলর) সাথে আলাপ হয় তখন জগাকে বলেছিলাম কেওনা বেরোলে আমি একাই বেরোবো । জগা বলেছিলো তুই বেরোবি তো ? তাহলে আমিও বেরোবো । ফেসবুক মেট এভাবেই বন্ধু হয়েছিলো ঠিক যেভাবে থর সিনেমায় লোকি একজন এভেঞ্জার হয়ে উঠেছিলো থ্যানোসকে "We have Hulk" বলায় ।

মানুষের তেষ্টা পায় জলের আর আমার ঘোরার । একদম‌ই বাড়িয়ে বলছিনা । আমি ঘুরতে পাহাড় যাইনা , যাই মিশে যেতে ।
প্রকৃতি খুব কম সময় আমায় নিরাশ করেছে আর যখন করেছে সেটা দরকারেই করেছে ।

রূপকুন্ড ট্রেকের সময় সবসময় আগে ছিলাম এমনকি ট্রেক লিডারের‌ও আগেও । একটা সময় ভালোবাসার বদলে অহং এসেছিলো যে আমি বিশাল হনু । এই পাহাড় তুচ্ছ । শেষ ২ কিঃমিঃ যেতেই পারিনি । AMS চলে এসেছিলো । তারপর থেকে পাহাড়ের কাছে নত হয়েছি পাহাড় আমায় উজাড় করে দিয়েছে । 
বাইক নিয়ে পাহাড় এক বিশাল রোমহর্ষক এডভেঞ্চার । এটা কোনো কুসংস্কার না এটা একটা বিশ্বাস যে নত,নম্র হ‌ও প্রকৃতির কাছে ,তোমার যা প্রাপ্য সেটা সে তোমাকে দেবেই।

একটা CBR150,HORNETT160 এবং আমাদের ত্রাতা(এই কেসটা পরে বলবো) ROYALENFIELD THUNDERBIRD X 350 এরা ছিলো আমাদের বাহন। আর ছিলাম আমরা ৪ জন। জগদিশ পাল ওরফে জগা , প্রবীর কুমার গরাই ওরফে ছান্গু দা , অনিশ ওরফে দ্যা ইনটেল্যাকচুয়ালিস্ট এবং আমি শুভদীপ রায় ওরফে রয় ।

পুজোর কোলাহল আমার ভালোলাগেনা এখন । তাছাড়া একটা লম্বা ছুটি পাওয়া যায় তাই পুজোর সময় সাধারনত বাইরেই থাকি । ইচ্ছা ছিলো দশমী কাটিয়ে ফেরার কিন্তু জগার নবমী রাতে প্ল্যানিং থাকে বলে একটু সময়টাকে এগিয়ে আনতে হয় । যার ফলে আমরা ১২ তারিখ ভোরবেলাই বেরোই এবং  ১৮ তারিখ নবমী দুপুরবেলায় ফিরে আসি ।

প্রথমদিন -
আগেরদিন একসাইটমেন্টে ঠিকমতো ঘুম হয়নি । বারবার ঘুম ভেঙে যাচ্ছিলো । জগা আর অনিশ রাত ১ টায় ঘুমিয়েছিলো । আমার ফোনে এলার্ম দেওয়া হয়েছিলো ভোর ৩ টে । কিন্তু আমার ঘুম ভেঙে গেছিলো ২.৩০ এ । সবার ঘুম চটকানোর শুভ কাজটা তাই আমিই করলাম । সবার কাঁচা ঘুমের বারোটা বাজিয়ে ডেকে তুলে দিয়েছিলাম । 
সবাই রেডি হয়ে বেরোনোর কথা ছিলো ৪.৩০-৫ টায় সেখানে বেরোনো হলো ৫.১৫ । বাঙালীর সময়জ্ঞান আরকি !
আমরা আমাদের ধান্নু নিয়ে ৫-৬ কিঃমিঃ সবে মাত্র গিয়েছি অমনি আমার মনে পড়লো জগার পিঠব্যাগটা নিতে ভুলে গিয়েছি। 
ওদিকে অনিশ কাজের কাজটা করতে ফিরে গিয়েছিলো কাকীমার(জগার মা) একাধিক ফোনের দৌলতে । আমরা সেই সময়টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাওয়া খাচ্ছিলাম(ব্যাসিক্যালি আমি ঝাড়ন খাচ্ছিলাম :3 )। 
অনিশ আসার পর‌ই শুরু হলো আমাদের টান । 
যতক্ষননা পর্যন্ত আমরা মোরগ্রামের কাছে পর্যন্ত গিয়েছি ততক্ষন ওরা ওদের আসল কাজটা করে দিয়েছে । বাইক হু হু করে টেনে নষ্ট হ‌ওয়া টাইমের অনেকটা পুশিয়ে দিয়েছিলো । 
এখানে মিট করলো আমাদের ছান্গু দা ( এই নাম।সিকিম গভর্মেন্ট ভালোবেসে রেখেছে,আমরা সর্বোসাধরনের জন্য আজ উন্মুক্ত করলাম-এই নামের ব্যাখ্যা পরে করবো) । 
নিতান্ত গো-বেচারা ভদ্র টিপিক্যাল ট্যালা এই মানুষটা জাংশন এ না দাঁড়িয়ে ভিতরের দিকে দাঁড়ানোয় আরো কিছুটা সময় নষ্ট হয় ।
ছান্গুদা আসার পর মোরগ্রামের জ্যাম পার করেই শুরু হলো আমাদের প্রকৃত গ্রপের চলা ।
       রাস্তায় সবাই ধৈর্য রেখে নিয়ম মেনে যাচ্ছিলাম তখন একটা আলাদা রেলাই লাগছিলো অনেকটা ধূম/ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস সিনেমার সব হিরো হিরোইনের একসাথে হেঁটে যাওয়ার মতোন। পুরো ট্রিপে খাওয়া নিয়ে কেও বিন্দুমাত্র কিপটেমি করেনি উপরন্তু আমার মতো ভুক্কারের সঙ্গে অনিশ ভুক্কারের জয়েন হ‌ওয়ায় খাওয়ার মাত্রা বহুগুন বেড়ে গেছিলো । তাই যার যখন যেটা খেতে ইচ্ছা করতো সেটাই খাওয়া হতো ,সেটা থুকপা/মোমো/পরোঠা কিংবা বিরিয়ানীর নাম দিয়ে চালিয়ে দেওয়া পোলাও হোকনা কেনো । তাই কখন কোথায় কি খেয়েছি সেটা আর লিখবোনা ।
       ধানতলা অবধি কারোর কোনো অসুবিধা হয়নি । রঞ্জিতদা পাছায় বেল্টের বাড়ি মারা শুরু করলো যখন ধানতলা ক্রস করে ইসলামপুরের দিকে যেতে থাকলাম । একবার বাঁ পাছায় ভর দিয়ে বসি তো আরেকবার ডান । বাইক নিজে চালালে এই সমষ্যা বেশ কিছুটা কম হয় । ওদিকে ছান্গুদার সন্ধ্যার পর বাইক চালাতে অসুবিধা হয় তাই সন্ধ্যার সময় আমি আবার বাইক চালানো শুরু করলাম । ব্যাপারটা এরকম ছিলো যে আমি আমার গাড়ি চালাচ্ছিলাম , জগা চালাচ্ছিলো ওর গাড়ি আর অনিশ চালাচ্ছিল ছান্গুদার গাড়ি। ছান্গুদাকে জগার গাড়িতে বসিয়ে নেওয়া হয়।
     ৭.৩০ নাগাদ আমরা পৌঁছালাম শিলিগুড়ি । মানে গুসকোরা থেকে শিলিগুড়ি এবং সেটা টাইমের মোটামুটি মধ্যে । আমরা সব জায়গায় হোটেল আগে থেকেই বুক করে রেখেছিলাম কেবল শিলিগুড়ি বাদ দিয়ে । আমার ওখানে জানা একটা হোটেল ছিলো 's.k.lodge' । ওখানে ফোন করে জানিয়ে দিলাম । তারপর সোজা ওখানে । 
এই দিনের বাইক চালানোয় হিরো ছিলাম আমি , বাকি দুটো বাইকের সঙ্গে সেয়ানে সেয়ানে টক্করে গাড়ি চালিয়েছি । এই দিন দেখার মতো তেমন কিছু ছিলোনা তাই এই দিনটা কেবল জার্নি ডে । পরেরদিন ভোর বেলায় বেরোতে হবে বলে আমরা খাওয়ার পর পর‌ই শুয়ে পরি । চার চারটে ব্যাচেলর ছেলে থাকতেও কোনোরকম বাওয়াল হয়নি :D , সবাই ভালো মানুষের মতোই শুয়ে পড়েছিলো ।
    এই ট্রিপে আমাদের ঠিক হয়েছিলো সবদিন ভোরবেলায় বেরোবো এবং তাড়াতাড়ি লোকেশন পৌঁছে গিয়ে যা করার করবো । পুরো ট্রিপটায় কেবল দু-দিন লম্বা জার্নি করতে হয়েছিলো-এক যাওয়ার দিন ,দুই ফেরার দিন । বাকি দিন গুলো স্বাভাবিকভাবে চালালে ২-৩ ঘন্টার রাস্তার পরেই আমাদের থাকার জায়গা আর আমরা সেভাবেই প্ল্যানটা করেছিলাম । 

দ্বিতীয় দিন-
ভোরবেলায় উঠেই সবাই রেডি হ‌য়ে ৫ টা নাগাদ বেরিয়ে পরি । বাঙালীর টাইমজ্ঞানতো যা হয় আরকি ! ৪.৩০ এর জায়গায় ৫ টা ।
এই দিনটা আলাদাই ছিলো । একটু এগিয়ে যেতেই পেলাম সেবক রোড । আর যারা গেছে তারা জানেন যে কতোটা নির্মল , স্নিগ্ধ এবং শান্ত এই রাস্তা । সবুজ গাছে পরিপূর্ন এই জায়গা আমাদের সকলকে এতোটাই অভিভূত করেছিলো যে আমরা এখানে বারবার থামছিলাম এবং ছবি তুলছিলাম । আমি আবার ফিলে বিশ্বাসী মানে অনেকে আছে কেবল ছবি তুলবে যার জন্য ফিলটাই ঠিকমতো করতে পারেনা আমি ফিল করার পর ফটো তুলি ।
যাইহোক এরপর থেকে একটু এগোলেই শুরু পাহাড় । এক ধারে সবুজ তিস্তা নদীকে নিয়ে পাহাড় বাবাজী সর্পিল আকারে চলে গিয়েছে। এই দিনের জন্য চিন্তা ছিলো কারন এটাই প্রথম পাহাড়ের রাস্তা । তবে প্রাকৃতিক দৃশ্য বাদ দিলে যদি ড্রাইবিং ধরা হয় তাহলে এই রাস্তাতে চালিয়েই বেশী মজা মনে হয়েছে । কারন খুব খাঁড়া বা খাদ নয় রাস্তা গুলো এবং রাস্তার অবস্থাও ভালো । বাইকে ৩.৩০ ঘন্টার মতো রাস্তা । আমাদের খেয়ে দেয়ে , ওখানকার এক বন্ধুর সাথে দেখা করে , বাকিদের হাগু টাগু করে প্রকৃতি দেখতে দেখতে গ্যাংটক যখন পৌঁছাই তখন ১০.৩০ এর উপর ।
হোটল নাথুলাতে ছিলাম ।।খুব‌ই ভালো হোটেল এবং সেটা M.G.Marg এর সংলগ্নেই । আমরা সারাদিন বারবার বেরিয়েছি এবং ঘু্রেছি । সন্ধ্যের দিকে বেরিয়ে বাড়ির জন্য সবাই কেনাকেটা করল । জিনিসগুলি কিন্তু বেশ ভালোই লাগলো । মাঝরাতে আবার জগারা ঘুরতে বেরিয়েছিলো (এতো উদ যে তখন রাত ১ টা বাজে-আমি ল্যাদ খেয়ে শুয়ে ছিলাম) । এখানে পোঁছেই আমরা হোটেলে লাগেজ রেখে পারমিট অফিসে চলে যাই , ডকুমেন্ট সাবমিট করে -প্রসেডিউর কমপ্লিট করে ফিরে আসি কিন্তু পারমিট দেয় পরের দিন ভোরবেলায় । আমরা পরেরদিন ৫.৩০ এ গিয়ে সেটা নিয়ে আসি । সিকিম গর্ভমেন্ট প্রবীর কুমার গরাই এর নাম পাল্টে নাম দিয়ে দেয় প্রবীল ছান্গু,এটাই নামের ব্যাখ্যা। যখন আমরা M.G.Marg হয়ে সেটা আনতে যাচ্ছিলাম তখন দেখি সব দোকান বন্ধ কিন্তু বিপিনবাবুর কারন সুধার দোকান খোলা :3 । আমরা নাথুলা-নাথাঙ্গ-জুলুক রুটের পারমিট পেয়ে যাই । এই দিনের জার্নি থেকে শুরু আমাদের রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির । কারন এখান থেকেই আমরা পাওয়া শুরু করেছিলাম অত্যাধিক চড়াই-খাদ রাস্তা এবং ভাঙা পাথর ভর্তি মারণফাঁদ । এই দিনে বাইক চালানোয় জয়দ্রথ ছিলো ছাঙ্গুদা ।
তৃতীয়দিন -
বেরিয়ে পড়লাম ছান্গুর দিকে । ঠান্ডা হবে সেরকম ভেবেই বেরিয়েছিলাম কিন্তু সেটা যে আমাদের ধারনার সাধ্যাতীত হবে তা ঘূন্যাক্ষ‍্যরেও বুঝতে পারিনি । ছান্গু লেক অবধি সব ঠিক। এখানে রোপ‌ওয়ে চড়লাম । তারপর এগোতে থাকলাম নাথুলার দিকে । ট্যুইস্ট শুরু হতে থাকল এখান থেকেই ।  রাস্তা খাঁড়া হতে থাকল আর কম হতে থাকল অক্সিজেন । লিটেরালি হাঁড় কাঁপছিলো । রাইডিং গ্লাবস ছেড়ে উলেন মোটা গ্লাবস পরলাম যার ফলে ক্লাচ ও ব্রেক ধরতে অসুবিধা হলেও কোনো উপায় ছিলোনা । তা সত্ত্বেও আঙুলের ডগা গুলো জ্বলছিলো । ভীতরে থার্মাল তার উপর জ্যাকেট । মাথায় মাঙ্কি ক্যাপ , ঠান্ডা কেবল উগ্র হয়েই উঠছিলো । এখানে একটা চড়াই টার্নিং পয়েন্ট ছিলো যেখানে একটা একটা একটা করে গাড়ি পার হয় । আমি আর ছান্গুদা সোলো রাইড করছিলাম তাই আমরা ওই জায়গা পেরিয়ে যাই । পিছন থেকে আসা একটা গাড়ি আমাদের এসে বলে "তুমলোগোকা দোস্তকা এক্সিডেন্ট হো গায়া" | আমরা ওখানে গিয়ে দেখি জগার গাড়ি পিছনের দিকে স্কিড করে পিছনের দিকে চলে যাচ্ছে । অনিশ নিচে নেমে ধরেও সামলাতে পারছেনা । ছান্গুদা গিয়ে কিছুটা সামলায় । এখান থেকে গাড়িটাকে জগা একা চালিয়ে একটা সেফ এরিয়ায় নিয়ে গিয়ে থামায় । ভয়ে উত্তেজিত অনিশ তখন‌ই বলে থান্ডার বার্ডের লাগেজ সি.বি.আরে তুলে দিতে আর ডাবল ক্যারি হবে থান্ডারবার্ডে । এটাই আমাদের শেষ অবধি মাস্টারস্ট্রোক ছিলো এই জন্য‌ই এটা আমাদের ত্রাতা। আমি মনে মনে ভাবছিলাম ৫ জন এলে কি হতো কারন প্রথমে ৫ জনের‌ই আসার কথা ছিলো  যার ফলে সি.বি.আর আর থান্ডারবার্ডে ডবল ক্যারি করতে হতো। পুরো ট্রিপের চরম মুহূর্ত ছিলো এটাই । সাহস সঞ্চয় করে সবাই আবার এগোনো শুরু করলো আসলে এই উত্তেজনার জন্য‌ই তো এতোদূর যাওয়া । নাথুলায় পৌঁছেই সকলের শ্বাসকষ্ট(আমার হচ্ছিল না-please don't call me hero :3) শুরু । চায়না বর্ডার দেখেই ঠান্ডার ভয়ে সরাসরি ডুকলাম আর্মি ক্যাম্প এ । স্যুপ ,  বিস্কুট খেয়ে সাহস সঞ্চয় করে জার্নি শুরু করলাম নাথাঙ্গ এর দিকে । এই একটা দিনেই আমরা ভয় পেয়ে ছিলাম ।প্রথমত ঠান্ডার লেভেল সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল ছিলাম না উপরন্তু তুকলা থেকে নাথাঙ্গ এর রাস্তা ভয়ানক খারাপ এবং চড়াই-উতরাই । এলিফেন্ট লেকে এসে যখন ছবি তোলা হচ্ছে তখন শুরু হলো বৃষ্টির রেষ । ভয়ে জাস্ট কেবল গুটিয়ে গেছিলাম । ওই ঠান্ডায় আবার বৃষ্টি হলো গোদের উপর বিষফোঁড়া । জগা অলরেডি রেনকোট পরে ফেলেছিলো ঠিক তখন‌ই উদ্ধার করলাম যে সূক্ষধারায় ওটা স্নোফল, বৃষ্টি নয় । ব্যাস সবাই ভীষন খুশী । ৪-৫ মিঃ মতো সেটা হতে থাকে । থামার পর‌ই আমরা এলিফেন্ট লেক ছেড়ে , গলফ কোর্স ছাড়িয়ে এগোতে থাকলাম নাথাঙ্গ এর দিকে । নাথাঙ্গ  থেকে ৫-৬ কিঃমিঃ আগে আবার শুরু হলো স্নো-ফল তবে একটু বড়ো আকারে । আমরা এখান থেকে তাড়াতাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করলাম কিন্তু অদৃষ্টের লেখা একটু অন্যরকম ছিলো । শেষ ৩ কিঃমিঃ রাস্তা ছিলো আমাদের পুরো ট্রিপের সবচেয়ে বাজে/রিস্কি রাস্তা কারন রাস্তা ছিলো ভয়ানক চড়াই-উতরাই এবং পাথরকুচিতে ভর্তি । একটা সময় আমি সবার পিছনে পরে গিয়েছিলাম এবং চড়াই রাস্তায় একসেলারেট করতে গেলেই চাকা পাথরে স্কিড করে ঘুরে যাচ্ছিলো আবার একটু চড়াই উঠে থেমে গেলেই হাই চড়াই এঙ্গেল এর জন্য ব্রেক ধরে রাখলেও গাড়ি স্কিড খেতে খেতে পিছনের দিকে চলে আসছিলো । এমতব্স্থায় আমি খাদের ভয়ে ডানদিক ছেড়ে যখন বাঁদিক  যাচ্ছিলাম পায়ের ব্রেক মারার ফলে রাস্তার মাঝে থাকা পাথরকুচিতে স্কিড করে পরে যাই । স্পিড একদম‌ই কম ছিলো।তাই ভয়ানক কিছু‌ই ঘটেনি কিন্তু ঠান্ডায় কাবু হয়ে থাকা আমার পক্ষে ওই গাড়ি দাঁড় করিনো খুব কষ্টকর ছিলো । প্রথয় চেষ্টায় পারিনি । অতিরিক্ত মোবিল বেরিয়ে গেলো । সামনের বন্ধুদের ডেকে আওয়াজ পেলাম না । বুঝলাম ওরা ওদের সমষ্যায় জর্জরিত , এগিয়ে গিয়েছে । দ্বিতীয় এটেম্প নিয়েই তুলে ফেললাম গাড়ি । আরো সতর্কিতভাবে গাড়ি তুললাম উপরে । যে মুহূর্তে খুশী হতে যাবো তখন দেখি রাস্তা ভয়ানক উতড়াই । ফাস্ট গিয়ারে গাড়ি এনে , দুটো ব্রেক আর ক্লাচ ধরে গাড়ি নামাতে থাকলাম । আমি জানি একটু এদিক ওদিক হলেই আমি পেপারের ফ্রন্ট পেজে চলে আসবো । এইসব কমপ্লিট করে যখন নাথাঙ্গ ডুকলাম তখন যেনো ধড়ে প্রাণ ফিরে এলো ।  আমরা গাড়ি পার্ক করছি এমন সময় আলাপ হলো লম্বা রোগা স্টাইলিশ , চাপ দাঁড়ি রাখা আমাদের নতুন সদস্য তথা ট্রাভ্যেলর অমিত দার সঙ্গে । 
সবাই এখানে এসে লাগেজ খুলেই লেপের তলায় ।  আমি ততক্ষনে মানসিকভাবে তৈরি হয়ে নিয়েছি ঠান্ডার জন্য । ফ্রেশ হয়েই কমনরুমে চলে গেলাম । ওখানে চিমনীর মতো একটা জিনিস /গোখারো দিয়ে ঘর গরম করা হয় । আমি আর অমিতদা সিকিমের রাজনীতি থেকে শুরুকরে অনেক বিষয় নিয়ে ওদের সাথে আলোচনা করছিলাম এমন সময় আবিষ্কার করলাম যাদের হোম স্টে তে আছি সেই মহিলা ওখানকার পঞ্চায়েত প্রধান এবং এটা নাথাঙ্গ এর প্রথম হোম স্টে । রাত হলেই সবাইকে ডেকে নিলাম খাওয়ার জন্য । সবাই খেয়েই আবার লেপের তলায় ।  ঘুমাতে এখানে সবারি একটু অসুবিধা হয়েছে অত্যাধিক ঠান্ডা আর উচ্চতার কারনে তবে ছান্গুদার সবচেয়ে বেশী সমষ্যা হয় । রাতে মাথা ব্যাথা এবং বারবার ঘুম ভেঙে যাচ্ছিলো স্যারের । আর উনিই একমাত্র যিনি লাগেজের থেকেও বেশী ওষুধ বেশী নিয়েছিলো । সকালে উঠে স্নান করতে চাইলে ওনারা বারন করলো , বললো অসুস্থ হয়ে পরবো তাই ঠিক করলাম জুলুক পৌঁছে স্নান করবো । অমিত দার ঠিক ছিলো ভোরবেলায় বেরিয়ে যাবে কিন্তু সকালে অমিত দা এসে বললো চলো তোমাদের সাথেই বেরোবো । আর এখান থেকেই অমিতদা হয়ে উঠলো আমাদের একজন ।
লাগেজ প্যাক করে , ব্রেকফাস্ট করেই আমরা নাথাঙ্গ ছেড়ে বেরিয়ে পড়লাম জুলুকের দিকে .....
চতুর্থদিন -
নাথাঙ্গ ভ্যালি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম । কিছুটা রাস্তা এগোনোর পরেই পেলাম সেই বিখ্যাত সিল্করুট । কিন্তু আমাদের রসে বসে বেরোনোর ফলে থাম্বি ভিউ পয়েন্ট ডুকতে দেরি হয় আর থাম্বি থেকে সিল্ক রুট ও কাঞ্চনজঙ্ঘা ভালো করে দেখতে হলে সকাল  ৬-৮ টার মধ্যে ডুকতে হবে । আমরা ওই সময় কেবল মেঘের খেলাই পেয়েছিলাম । ৩ ঘন্টা মতো অপেক্ষা করেও ফল হয়নি । তবে আমরা এখানে হেরে যাইনি  । ঠিক‌ই করে নিয়েছিলাম যে পরেরদিন ভোরে আবার ব্যাক করবো দেখার জন্য। আমরা যেহেতু আগেরদিন অনেক কষ্ট পেয়েছি ঠান্ডায় তাই সবাই যতোটা পেরেছে প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছিলো । আমি জিন্সের তলায় দুটো ট্রাকস্যুট আর জ্যাকেটের তলায় দুটো ফুল থার্ম্যাল, সোয়েটার পরেছিলাম । তাও সেটা কম মনে হচ্ছিলো । রাস্তার মনোরম দৃশ্য অনুভব করতে করতৈ নামতে থাকলাম জুলুকের দিকে আর যতোই নামতে থাকলাম ততোই পেতে থাকলাম মেঘে পূর্ন সিল্করুট । আমার সামনের গাড়িকে দেখা যাযনা এমন রাস্তা কিন্তু এটাই আমাদের মোহিত করেছিলো ।  অসাধারন লাগছিলো মেঘ চিড়ে সর্পিল রাস্তা ধরে নেমে যেতে । প্রত্যেকে তাদের।ইনডিকেটর জ্বালিয়ে দিয়েছিলো যাতে পিছনের জনের দেখতে সুবিধা হয় । আমার আবার একটা ভীষন বাজে দোষ আছে কোনো সুন্দর দৃশ্য চোখে পরলে মন সেদিকে চলে যায় । আর এই রাস্তায়‌ও সেটা হচ্ছিলো । শেষে আমি জগার নিয়ম ধরলাম যে যেখানে ভালো লাগবে সেখানে সাইডে দাঁড়িয়ে দেখে নাও তারপর গাড়ি চালাও । থাম্বি থেকে বোধহয় ১৪ কিঃমিঃ জুলুক । আমরা এখানে এসে পার্কিং করে ডুকে যাই হোম স্টে তে । এখানকার হোম স্টে ছিলো অসাধারন , যেমন তার ভিউ তেমন তার ঘর গুলি । আমরা দুটো ঘর নিয়েছিলাম । একটায় আমি আর অমিতদা , অন্যটায় বাকি তিনমূর্তি । ফ্রেশ হয়ে একটু পরে ঘুরতে বেরোলাম পাশেই । খাওয়ার পর মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করছিলো বলে একটা দোকানে মিষ্টার খোঁজ করায় বুঝলাম এখানে মিষ্টি মানে চকলেট আর সনপাপড়ি । ১০ টা সনপাপড়ি।নেওয়া হয় যার ৯ টা নষ্ট হয় । একটা আমি কোনোরকমে উদ্ধার করেছিলাম । ওটা কারোর।মাথায়।ছুঁড়ে মারলে তার মাথা ফাটা অনিবার্য । ফেরার সময় একটা দৃশ্য দারুণ লাগলো ; একজন লেডি আর্মি আমাদের সামনে থেকে এগিয়ে তাদের ক্যাম্পের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো আর যাওয়ার পথে যতোজন আর্মি ছিলো প্রত্যেকে স্যালুট করলো । EMPOWERMENT ....
সন্ধ্যের পর ডাইনিং রুমে বক্স বাজিয়ে আমাদের জলসা হলো । রাতে খেয়ে দেয়ে সবাই শুয়ে পড়লাম কারন পরেরদিন ৫ টা নাগাদ ব্যাক করে আবার পাহাড় চড়ে থাম্বি যাওয়া হবে , প্রায় ১৪ কিঃমিঃ ....
পঞ্চমদিন-
ভোরে এতো ল্যাদ লাগলো আর তাছাড়া ভাবলাম এই মনোরম পরিবেশে কিছুক্ষন একা সময় কাটাই তাই বললাম তোমরা যাও । কিন্তু ওদের বেরোনোর মুহূর্তে আমারো ইচ্ছা করায় বেরিয়ে পড়লাম । থাম্বি পুরোটা যেতে হয়নি তখন‌ই মনে হলো যদিনা যেতাম তাহলে কতটা বড়ো ভুল করতাম ।  কাঞ্চনজঙ্গা মাথা তুলে আমাদের দিকে চেয়ে । থাম্বি পৌঁছালাম ৬.৩০ দিকে । মেঘ নাই , সিল্করুট দারুণ পরিস্কার । আর এতো সুন্দর , পরিস্কার আর বড়ো কাঞ্চনজঙ্গা আমার এই প্রথম তোখে পড়লো । কি অপূর্ব সেই দৃশ্য ! কি মনোরম ! কিছুক্ষন আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে গেছিলাম। প্রায় ১.৩০ পর্যন্ত এরকমছিলো তারপর আবহাওয়া খারাপ মানে মেঘলা হতে শুরু করলো । এর মধ্যে আমরা নানা মানুষের সঙ্গে গপ্পো করতে লাগলাম , তাদের কথা শুনলাম , খেলাম ।এবার আমাদের নামার পালা , জুলুকে নয় এক্কেবারে হৃষিখোলা । আমরা ফিরে এলাম জুলুকে । ব্রেকফাস্ট করে , লাগেজ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়লাম হৃষির দিকে । প্রায় ৬০ কিঃমিঃ রাস্তা তবে রাস্তা খুব একটা খারাপ নয় । সুন্দর মনোরম পরিবেশ , মাঝে মাঝে জঙ্গল ।।সাথে পেলাম মেঘ চিড়ে এগোনোর অনুভূতির পুনরাবৃত্তি । নাক থেকে জল পড়াটা কমতে লাগলো নামার সাথে সাথে । এতোদিনে নাকের ডগায় ঘা হয়ছ গেছিলো ঠান্ডায় । হৃষিতে নামার পর থেকে সেটা কমতে থাকে । হৃষি ডোকার কিছু কিলোমিটার আগে একটা ছোট্ট গ্রামে দেখি দূর্গা পুজো হচ্ছে । চঙ চঙ করে ৪ গাড়ি থেমে গেলো । আরে বাবা দুগ্গা পুজো বলে কথা । আফটার‌অল বা‌‌ঙালী তো , মা দেখা দেবেন না তা কি হয় !! ওনারা আমাদের আপ্যায়ন করলেন , বসালেন । চা খাওয়ালেন , ফল কেটে আনলেন । আমরা বেশ কিছুটা সময় ওখানে কাটিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে বেরিয়ে পড়লাম । হৃষিখোলা ইকো রিসর্ট খুঁজে পেতে আমাদের বেশ চাপ হয় । আর সেখানে যেতে যে ভাঙা পাথরের রাস্তা দিয়ে যেতে হলো সেটা ভয়ানক । সবাই ভাবছিলো ওঠানোর সময় তুলবে কি করে । তবে আমরা রিসর্টটার কাছে ঠিক চলে গেছিলাম । সামনে হৃষি নদী কুলু কুলু শব্দে বয়ে চলেছে আর দুদিকে পাহাড়ি জঙ্গল । ফ্রেশ হয়ে গরম গরম নুডল চা আর মোমো খেয়ে নিলাম ।
       একটু আড্ডা মেরেই ঠিক করে নিলাম বনফায়ার/ক্যাম্পফায়ার করবো । ওরাই এরেঞ্জ করে দিলো । আর সঙ্গে দিলো এক বোতল রেড ওয়াইন । বাউল গান , নদীর কুলু আওয়াজ আর বনফায়ার । বিভোর হয়ে গেছিলাম ।  বেশ কিছুক্ষন বসে ফিরলাম ঘরে । পরেরদিন হলো দুঃখের কারন আগামীকাল থেকে মূলত ফেরার পালা এবং যেতেও হবে অনেকটা । খেয়ে দেয়ে তাই আমরা আমরা সটান ঘুমের জগতে....
ষষ্ঠদিন-
এইদিনটা বেশ ভাইটাল , ভাইটাল মূলত ফেরার জন্য হলেও এইদিনে ইনক্লুড ছিলো আমার প্র্যারাগ্লাইডিং সিডিউল । আমাদের প্ল্যানিংটা ছিলো আমরা সকালে ফোন করে জিঞ্জাসা করে নেবো হচ্ছে কিনা কারন ওয়েদার খারাপ থাকলে প্যারাগ্লাইডিং করায়না । যদি প্যারাগ্লাইডিং হয় তাহলে ডেলো-কালিম্পং রাস্তা হয়ে ফিরবো নাহয়  লাবার রাস্তা ধরে ফিরবো । ফোন করে জানলাম গ্লাইডিং হবে । বেরোতে অনেকদেরি হলো । গাড়ি তুলে লাগেজ গুছিয়ে গাড়ি ছাড়তে ১০ টার বেশি হয়ে গেলো । একজন পোর্টার এসেছিলেন , বজ্রকঠিন শরীর । পরিশ্রম করেন বোঝা যায়। আমাদের গাদা গাদা লাগেজ একটা বাঁশের পিঠ ব্যাগের মধ্যে নিয়ে নদী পার করে দিলেন । কিছু সময় কিছু ঘটনা মন উদাস করে দেয় । এটাও সেরকম একটা । মনে পরে গেলো আমরা কতটা প্রিভিলেজ । মনে পরলো কজন ভিখারী দেখৃআম সিকিমে ? এরা মানুষ নয় ? এদের দুঃখ নেই ? পরিশ্রমে কতটা বিশ্বাসী । ডেলো ডুকতে ১২ টা বেজে গেলো। প্যারারাগ্লাইডিং এর ড্রেস প‍রে রেডি হয়ে নিলাম । একটা টিলার উপর রেডি হয়ে আছি । আরো কয়েকজন রেডি হয়ে আছে ......ঠান্ডা হাওয়ায় কাঁপছি আর সময় কেটেই চলেছে কিন্তু ওয়েদার যে খারাপ হয়েছে সেটা আর ঠিক হচ্ছেইনা । ২ ঘন্টা ওরম ড্রেস পরেছিলাম শেষে ওরাই বললো স্যার শায়দ আজ নাহি হোগা আপ ব্যায়ঠে মাত রাহিয়ে । কি আর করবো , আমাদের আজ অনেকটা যেতেও হতো । দুঃখ পেলাম কিন্তু সবকছুর একটা কারন থাকে জানি ....এটার‌ও কারন আছে ....
বেরিয়ে পরলাম । আমাদের ট্যাগলাইন ছিলো যতটা যাওয়া যায় । তবে মনে মনে ইচ্ছা ছিলো রায়গঞ্জ অবধি যাওয়ার । সন্ধ্যার পর পর আমাদের স্পিড(আমার বেশি করে) কমতে থাকলো রিফলেক্টিং এর জন্য । রাত ৮ টা বাজে , এই প্রথম আমরা সন্ধ্যার পর গাড়ি চালাচ্ছি । আমার , ছান্গুর বেশ ঘুম পাচ্ছিলো এটাও বুঝতে পারছিলাম বাকি দঙজনের‌ও ঘুম পেয়েছে কিন্তু কোপ আমাদের গলায় পরছে।  ৯ নাগাদ ডালখোলা পৌঁছালাম । এরপর আর গাড়ি চালানো ঠিক হবেনা মনে করেই এখানে আমরা হোটেলে থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম । আর এখানেই সেই বিখ্যাত ১৬০ টাকার বিরিয়ানি রুপী পুলাও খেলাম । যাইহোক ঘরে এসে ড্রেস চেঞ্জ করতে পারিনি , শোয়ার সঙ্গে সঙ্গে মরা হয়ে গেছিলাম সবাই ....
সপ্তমদিন -
ভালো-খারাপ , রাত-দিন এগুলো একটা আরেকটাকে পরিপূর্নতা দেয় তাও আমাদের মন মানেনা । তাই ফেরা সবসম‌ই দুঃখের । সেই একঘেঁয়ে জীবন , সেই বসের কথা শোনা , বৌউয়ের মুখ ঝামটা ইত্যাদি ইত্যাদি । কিন্তু ফিরতে তো হবেই । এটাই চিরন্তন সত্য । মোরগ্রামর কিছুটা আগে এসে থামলাম । এটা বিদায় মুহূর্ত । অমিতদার সঙ্গে কালিম্পং এ আর বাকিদের সঙ্গে এখন ...
If you want to go long then go with partner
And if you want to go fast then go solo...
বাকি ১৫০ কিঃমিঃ একাই চালিয়ে ফিরেছি থেমেছি একবার ; কৃষ্ণনগরের পান্থতীর্থ এ । খেয়ে ফিরে এলাম সরাসরি জাগুলিতে , আমার সেফজোন ।