খেলা মানুষের কাছে মুলত ভোগ্যপন্য ও শৌখিন বিষয় হলেও তার যে বিভিন্ন গুনাবলী রয়েছে তা সম্বন্ধে কারও মতবিরোধ হবে বলে মনে হয় না৷ খেলা মানুষ কে দায়িত্ববান,সততা এবং আরও অনেক গুনাবলী পুরস্কার স্বরুপ প্রদান করে৷ খেলার ক্ষেত্রে জাতীয় দল মূলত উপযুক্ত যোগ্যদের নিয়ে লিঙ্গ নির্বিশেষে গঠন না হওয়া টা আমাদের প্রকৃত অবস্থার কথা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়৷ তবে লিঙ্গবৈষম্যের ঘোরকলিতে যেখানে মেয়েদের ধর্ষন এর কারন হিসেব মেয়েদের কাপড় কে দায়ি করা হয় এমন পরিস্থিতিতেও খেলার জগতে 'মহিলাদের' অদম্য লড়ার ক্ষমতা এবং প্রচেষ্টা কে কুর্ণিশ জানাই৷ যে কোনো খেলার ক্ষেত্রেই মনে করা হয়, খেলা সমস্ত মানুষ কে সংকীর্নতার উর্দ্ধে গিয়ে পরস্পরের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপনে সহযোগিতা করে৷ তবে বারংবার নানারকমের সংকীর্নতা বহুক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলেছে৷ ইরানের মহিলা জাতীয় দলের অধিনায়ক তথা বর্তমানের সেরা ফুটবলার 'নিলোওফার আরডালান' যিনি ফুটবল জগতে গোলঅর্জনের এক অসামান্য ক্ষমতার দরুন "লেডি গোল" নামে পরিচিত তিনি পর্যন্ত লিঙ্গবৈষম্যের চরমতম শিকার৷ ইরান এশিয়ান গেমসের দরুন মালেশিয়া যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল৷ তার পূর্বে লিঙ্গবৈষমের দরুন 'নিলোওফার আরডালান' ওরফে "লেডি গোল" কে বাধ্য হয়ে দল ছাড়তে হয়েছে৷ তার স্বামী চান না উনি খেলুন কারন উনি 'মহিলা'৷ ইরানের সংবিধানে রয়েছে যদি মহিলার স্বামী চায় তাহলে স্ত্রী কে অন্যত্র যেতে আটকাতে পারে এবং সেই অনৈতিক সংবিধানের অপব্যবহার করে উনি পাসফোর্ট কেড়ে নেন৷ অবশ্যই ইরানীয় দলের কাছে এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ঘটনা তবে সমাজব্যবস্থার অবনতির মানরেখা কতটা নিন্মরুপ তা স্পষ্ট৷ লক্ষ্যনীয় ব্যাপার হল সমস্ত বুদ্ধিজীবীরা যারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সোচ্চার হন এমনকি গ্রীস হোক কিংবা আমেরিকার বিষয়, তারাও নিশ্চুপ৷ মিডিয়া এবং রাষ্ট্রের ভুমিকা বরাবরই বিভিন্ন দেশে প্রতিকূল তবে যেখানে রাষ্ট্রের সন্মানের বিষয় তখন রাষ্ট্রেরও উচিত ব্যাপার টি বিবেচনা করা৷ সর্বোপরি সমস্ত দেশের মানুষদেরও এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তার পাশে দাঁড়াতে হবে যাতে আরেকটি প্রতিভাবান মানুষ ধর্মীয় ও লিঙ্গ সংকীর্নতার দরুন হারিয়ে না যায়৷ বিশ্বের আপামর ফুটবলপ্রেমী তথা ফুটবলারদের উচিত এবিষয়ে অগ্রনী ভাবে এগিয়ে আসা৷
Hello Visiter, this is my personal blogging site. The contents are purely my own view on respective topics. Please leave your opinion on my post whenever you visit this page. This will help me to communicate with the thinking of everybody. Thanks !
Tuesday, 2 February 2016
বই কি সর্বদা নিরপেক্ষ !
বিভিন্ন শিক্ষালয় গুলিতে প্রায়শই ছাত্রছাত্রীদের শুনতে হয় 'বইয়ের থেকে বেশি জানো?' আর ছাত্রছাত্রীরা তখন মাথা চুলকে চুপ হয়ে যায়৷ সত্যিই তো অত মোটা মোটা বই,অত লেখা থাকে, অল্প পড়াই মনে থাকে না আর বইয়ের থেকে বেশি জানবো কি করে!
বই হল জ্ঞানের প্রসারের অন্যতম পন্থা,বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা ভাবনা বইয়ের মাধ্যমে খুব সহজে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব৷তাই বই কে হতে হয় তথ্যপূর্ন,যুক্তিপূর্ন,সঠিক ঘটনাবলিযুক্ত, এবং অবশ্যই নিরপেক্ষ৷
বর্তমান পরিস্থিতিতে সমাজব্যবস্থা এবং ক্ষমতার ধারকদের চাপে বইগুলি নিরপেক্ষ নয় তো বটেই বরং তাদের উপযুক্ত অনুকূল তথ্যের দ্বারা পূর্ন করা হয়৷ অনেকক্ষেত্রে দেখাও যায় বইগুলি সঠিক ধারনার ব্যাখ্যা দিতে অক্ষম৷ ইতিহান বইয়ের পাতা ঘাটলে দেখা যায় তাজমহল কে মমতাজের প্রতি শাহাজাহানের ভালোবাসার স্মৃতি স্বরুপ সৃষ্টি বলা হয় ৷ প্রকৃতপক্ষে "মমতাজ" মারা যান ১৪ তম সন্তানের জন্মদেবার সময় ,পরবর্তী কালে শাহাজাহান "মমতাজের বোন" কে বিয়ে করেন৷ এরকম অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরা হয়না যা সকলের মধ্যে ভুল ধারণার সৃষ্টি করে ৷ বর্তমান সময়ে "মগজ ধোলাই" হিসেবে চতুর রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বই কে পথ হিসেবে পছন্দ করেছেন৷ যদি শৈশব থেকে "মগজ ধোলাই" এর ব্যবস্থা করা হয় তাহলে সঠিক সময়ে তাদের পক্ষের সৈনিক পাওয়া অসম্ভব হবে না | রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যখন কেও আসে তখন তার স্বেচ্ছাচারিতা চলে এবং তার প্রশংসা ও ভাবনা সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়া দরুন বইকে ব্যবহার করা হয়৷ অনেকটা একইভাবে মাদ্রাজাগুলিতে সমস্ত শিশুদের ইসলামের নামে "বিতর্কীত জেহাদি" করার প্রস্তুতি স্বরুপ কুরানের নামে "মগজ ধোলাই" চলে৷ ঠিক তেমনই বর্তমানের তথাকথিত হিন্দুসরকার শৈশব শিক্ষা জগতে রামায়ন,মহাভারত পঠনপাঠনের মাধ্যমে হিন্দুত্বের বীজ বপন করার সংকল্প করেছে৷
সুতরাং এবার যদি কেও বলে বইয়ের থেকে বেশি জানো নাকি !তখন বলবে বই কী সঠিক জানে?
'রিফিউজি' নয় বরং মানুষ হয়ে মানুষের পাশে ...
'রিফিউজি' মানুষদের পাশে দাঁড়ানো:-
বিশ্বজুড়ে এক অস্থির পরিস্থিতি,অবশ্য ক্ষমতাধারী মানুষ, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এই অরাজকতা সৃষ্টির মূলে রয়েছে৷ যার দরুন লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহ হারা,সর্বস্বান্ত ,মৃত প্রায়৷ দিকে দিকে রক্তের নদী প্রবাহমান ,সদ্যজাত শিশু থেকে বয়স্ক সমস্ত মানুষের রক্তে লাল হয়েছে উঠেছে স্থানগুলি৷ মানুষ ভীত,অত্যাচারিত,লাঞ্ছিত এমন অবস্থায়ও তারা পরস্পরের পাশে না দাঁড়িয়ে ধর্মের বিভেদ এবং ধর্মের রীতি পূরনে সর্বদা ব্যস্ত৷ পুরো পৃথিবীটাই একটা দেশ হওয়ার কথা ছিল,মানুষে মানুষে বিভেদ নয় বরং ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপনের কথা সংকল্প হওয়া উচিত ছিল,কিন্তু বিত্তশালী ক্ষমতাবান রা তাদের স্বার্থে দুনিয়া টাকে খন্ড খন্ড করে ভেঙে দিয়েছে৷ তার পর সমস্ত স্থানে ভাঙন ধরিয়েছে ধর্ম,জাত,বর্ন৷ 'রিফিউজি' শব্দটি নির্দ্ধিধায় অনেকে ব্যবহার করেন কিন্তু শব্দটির অন্তর্নিহিত অর্থ অত্যন্ত বেদনাদায়ক৷ নিজের প্রিয়জন বিয়োগ উপরন্তু বাধ্য হয়ে ঘর ত্যাগ করে অজানার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরা কোনো মতেই রোমাঞ্চকর হতে পারেনা৷এতগুলি মানুষের পাশে দাঁড়াতে অস্বীকার করাটা শুধুমাত্র ন্যাক্করজনক ই নয় বরং অমানবিকও বটে৷ রাজনৈতিক মানুষগুলি বিভিন্ন খাতের টাকা কল্যানের নামে নিজের পকেটে পুরতে দ্বিধাবোধ করেন না অথচ কিছু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাদের অত্যন্ত মাথা ব্যাথা হয়৷ বছর বছর হজের নামে বড়ো অঙ্কের টাকা খরচ করেন অনেকে কিন্তু রাস্তায় মৃতপ্রায় না খেতে পাওয়া শিশু কে দেখে তাদের মন কেঁপে ওঠেনা৷ আল্লাহ এর নামে হজের টাকা,মন্দিরের রোজ নষ্ট হওয়া লিটার লিটার দুধ দিয়ে নিরুপায় সর্বহারা মানুষদের পাশে সবাই দাঁড়াতো তাহলে আল্লাহ বা ভগবান যদি থাকেন বেশী খুশি হতেন৷ ধুঁকতে থেকেও ধর্মের নামে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট করাটা প্রতিনিয়ত স্বাভাবিক হয়ে উঠছে কিন্তু মানবিকতার খাতিরে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নূন্যতম মানসিকতা নষ্ট হয়ে চলেছে৷ প্রতিমূহুর্তে মসজিদ,মন্দির,চার্চ এর জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করা নিষ্প্রয়োজন,যিনি সর্বশক্তিমান তিনি কী থাকার জন্য একটি ঘর বানিয়ে নিতে পারেন না ? মানবিকতা দিনের পর দিনে সলিল সমাধি হচ্ছে তাই বাস্তুহারাদের জন্য ১০ লক্ষ ঠান্ডা বাতাসনূকুল ঘরের ব্যবস্থা থাকলেও সৌদি সরকার মানুষ হত্যার মজা রসিয়ে রসিয়ে দেখছে৷ যে ধর্ম,আল্লাহ/গড/ঈশ্বর মানুষ কে অমানুষ করে তোলে সেই ধর্ম বা উপরিওয়ালার উপর কারোরই বিশ্বাস করা উচিত নয়৷যে ধর্ম প্রকৃত পথ নয় বরং অন্ধকারের পথে পরিচালনা করে তা যে মানবিকতাককে অন্ধ করে দেবে, কালের নিয়মে সেটি স্পষ্ট হবে৷
Monday, 1 February 2016
অচেনা মানুষের কাছ থেকে লজেন্স নেওয়ার মানা ,আবার তার হাতেই মেয়েকে তুলে দেওয়াই কি সন্তানকে ভালো রাখা !
-একি ! এটা কে দিয়েছে ?
-লই কাকুটি ..
-কতবার বলেছি না অজানা কেও কিছু দিলে নেবে না ,খারাপ কিছু দিতে পারে ,চুরি করে নিয়ে যেতে পারে তোমায়৷তখন কি হবে ?
- ও ,ওলা বুলি খালাপ লোক হয় ?
-হ্যাঁ সোনা ,অচেনা মানুষ রা ভালো হয় না৷
...........................................................
- এই দেখতো এই ছেলেটার ফটো টা ,কেমন দেখতে ?
-কিরে তোর মেয়ের আজকাল কার দিনে এরেঞ্জ ম্যারেজ ? নিজের পছন্দ মতো মানুষ কে খুজে নিতে পারে৷
-না বাবা ,আমি আমার মেয়ের ভাল যায়গায় বিয়ে দেব৷
-তা পরিচয় থাকলে ,প্রেম করলে ,খারাপ কি ?
-না না ,অজানা লোক ই ভালো ,অনেক সুবিধা হয় ,তুই এর কি বুঝবি রে ,ছাড়৷
-ছোট বেলায় মেয়ে কে শেখালি অচেনা মানুষের সাথে কথা বলতে না আর এখন তুই কি করছিস ?
-বড্ড কথা বলছিস৷ প্রেম করে বিয়ে করলে সুখে থাকে না কেও৷
-নিজে এরেঞ্জ ম্যারেজ করে সুখী আছিস ! আর আমায় বলছিস আমি বেশী কথা বলছি ?