Friday, 8 December 2017

রূপেশ্বরী রূপকুন্ডের অভিজ্ঞতা :-

প্রায় 1 বছর আগে ঠিক করেছিলাম হাই অলটিটিউডের ট্রেক করবো | আর প্রায় 3-4 বছর আগে থেকে ইচ্ছা ছিলো ট্রেক করার |
এবছর ঠিক হয়েছিলো গোচেলা ট্রেকে যাবো সেইমতো প্রায় 5 মাস আগে টাকা এডভান্স করা হয়েগেছিলো | কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সিকিমের ঝামেলার জন্য শেষমুহূর্তে এসে প্ল্যান পাল্টাতে হয় | ভেবেছিলাম গঙ্গোত্রী-গোমুখ তপোবন ট্রেক করবো কিন্তু ধস নামায় তা বন্ধ করা হয় | অবশেষে এমারজেন্সি স্পিডে রূপকুন্ড ঠিক করে সমস্ত কিছু তৈরি করি |
    13 তারিখ ট্রেনে উঠি ,লালকুয়া এক্সপ্রেস | প্রায় 4.30 মতো লেট করে ফলত শেয়ায় জিপ মিস করি এবং আমাদের(আরও 2 জনকে) 6000 টাকা দিয়ে গাড়ি বুক করতে হয় | প্রায় রাত 1 টায় আমরা ওয়ান গ্রামে পৌঁছাই | রাস্তায় স্বাভাবিকভাবেই প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছিলাম | জিপে বসেই তিনজন তিনটে বিয়ার খেয়ে নি ,তারপর তো স্বর্গসুখ | সন্ধ্যে হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাস্তার প্রকৃতরূপ পরিস্কার হয়ে যায় | ভীষণ বাজে রাস্তা এবং এতো বড়ো টার্নিং যে মনে হচ্ছে এই বুঝি গড়িয়ে খাদে পড়বো | কিছু জায়গায় মনে হচ্ছে গাড়ির বাঁ দিকে যাওয়া উচিত কিন্তু ওমা দেখি ডান দিকে যাচ্ছে ,কখনও কখনও আবার উল্টো | সামনের সিটে যে বসেছিলো ভয়ে সে একদম পিছনের সিটে চলে যায় | ওয়ান ভিলেজে নামার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের গাইড ওখানে চলে আসে এবং আমাদের নিয়ে বেস ক্যাম্পে যায়(এটা কাঠের তৈরি কটেজ এবং তিনদিকে পাহাড় দিয়ে ঘেরা ও ফুলদিয়ে ডেকরেট করা ) | আমরা সবাই হাল্কা প্যান্ট জামা পড়েছিলাম আর আমি তো হাফ প্যান্ট পরেছিলাম | নেমেই হাঁড় কাঁপানো ঠান্ডা | এমনিতেই দুদিনের জার্নি তারউপর এমন ঠান্ডা | প্রায় 20 মিঃ ওই অবস্থাতেই আমাদের ট্রেক করে বেসক্যাম্প যেতে হয়েছিলো ,উত্তেজনায় আমি কষ্ট না বুঝতে পারলেও আমাদের একজনের বেশ কষ্ট হয়েছিলো | গরম গরম খাবার(খিদের জন্য কিনা জানিনা তবে খাবারগুলো অমৃত মনে হচ্ছিল) খেয়ে আমরা রাতে শুয়ে পরি |
       পরেরদিন 7.30 নাগাদ ঘুম থেকে উঠে পরি আমরা ,দুর্দান্ত ঝলমলে ওয়েদার ছিলো | ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে আমরা একটু দেরী করেই ওই 10 টা নাগাদ আমরা আমাদের দ্বিতীয় ক্যাম্প মানে ঘেরোলি পাতাই(10000 ফুট এর আশেপাশে) এর ক্যাম্পের জন্য এগোনো শুরু করি | প্রায় 8 (আট) কিমি রাস্তা ছিলো এবং অধিকাংশই খাঁড়া কিন্তু উত্তেজনার বশে তখন এর মর্ম বুঝিনি বেশ তাড়াতাড়িই কম বিশ্রাম নিয়েই আমরা ওখানে চলে যাই | টেন্ট লাগানো হয়ে গেলে কিছুক্ষণ আমরা বিশ্রাম নিয়ে খাওয়া দাওয়া করে ফেলি | ওখানে একটা মন্দির আছে এবং তাকে নিয়ে একটা গল্প রচিত আছে সেই গল্প ওখানে সিজনাল দোকান দেওয়া এক ব্যক্তির কাছে থেকে শুনে নিয়েছিলাম | তারপর উনুনের আগুনের ধারে বসে গরম হাওয়া খেয়ে ,রাতের খাবার ঠুসে নিয়ে ঘুমাতে চলে যাই | পাহাড়ে তাঁবুতে শোওয়ার সময় উঁচু মানে খাঁড়া দিকে মাথা দিতে হয় এবং নিচু দিকে পা | আমরা ঠিক এর উল্টোট করি ফলত সারারাত ঠান্ডা হাওয়া আমাদের মাথায় লাগে সর্বোপরি বাকি দুজনের মাথাব্যাথা হয় | আমরা শুয়ে পড়ায় গাইড আর আমাদের বলার জন্য ডাকেনি | প্রথমবার স্লিপিং ব্যাগ এ শোওয়া খুব এটা সুখদায়ক না হলেও খুব দুখদায়ক ছিলোনা | কিন্তু হাত পা ছুঁড়ে শোয়া অভ্যাসের দরুন কেও শান্তিতে ঘুমাতে কিন্তু পারবেনা | যাইহোক পরেরদিন সকাল থেকে শুরু হলো টয়লেট পেপারের ব্যবহার ,জল ছাড়া এটার ব্যবহার অনেকেই নাঁক সিটকোবে ,আমিও তাদের একজন ছিলাম প্রথম ব্যবহার পর্যন্ত কিন্তু প্রথমবার ব্যবহার করার পর এয় মহাত্মা বুঝে গেলাম | ঠান্ডা থেকে বাঁচায় ,জলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়না ,নোংরা কম ছড়ায় ইত্যাদি |
     প্রায় 5 কিমি রাস্তা (অধিকাংশই সমান রাস্তা) চলে আমরা আমাদের তৃতীয় ক্যাম্প বেদেনী বুগিয়াল আসি | প্রসঙ্গত বলে রাখি রাস্তায় আলি বুগিয়ার পরবে যার সৌন্দর্য্য অবিশ্বাস্য | ভালো ওয়েদার থাকলে পোয়াবারো নাহলে ঠান্ডায় কাঁপতে হবে | প্রথম দিন এবং এই দিন সাধারন টি-শার্টি পড়েই ট্রেক করি কিন্তু হাঁটা থামালেই হাঁড় হিম করে দিচ্ছিলো | এই দিন পরিশ্রম সবথেকে কম হয় এবং বেদেনী গিয়ে ভয়ঙ্কর রকমের সৌন্দর্য্য দেখতে পাই | আমাদের পুরো জার্নিটাতেই ওয়েদার ভীষণ ভালো ছিলো ,মেঘমুক্ত পরিস্কার ঝলমলে আকাশ | বেদেনীকে ঘিরে এক দিকে মাউন্ট ত্রিশূল ,নন্দাদেবী অন্যদিকে চৌখাম্বা বেস ,নীলকন্ঠ ইত্যাদি পর্বত রয়েছে | যেনো স্বর্গলোক একে ঘিরে আশীর্বাদ করছে | প্রকৃতির রূপ যেনো ফেটে পড়ছে |  আমরা তাঁবুতে ডুকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বাইরে বসে ত্রিশূলের দিকে মুখ করে বসে দেখতে থাকি ও আমি এক বোতল হুইস্কি ছিলো সেটা খেতে থাকি |
    এতক্ষন আমরা বেশ মজাতেই কাটাচ্ছিলাম এবার আসলো আসল টুইস্ট সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই যে ঠান্ডাটা পরা শুরু করলো তার জন্য আমরা কেও প্রস্তুত ছিলামনা বিশেষত আমি | এবার একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যাই …
সৌরভ কোনাই নামে আমার এক অভিজ্ঞ ট্রেক বন্ধু বলে হাঁটার সময় ঘামবি এটার জন্য আমি ভেবেছিলাম ঠান্ডা বেশী পড়বেনা | এছাড়া মনে হয়েছিলো এখন সবজায়গায় গরম কত আর ঠান্ডা থাকবে !! ব্যাস কলকাতার শীত মানায় কেবল এরকম একটা জ্যাকেট নিয়েছিলাম আর সব সাধারন গেঞ্জি ,কোনো শোয়েটার বা থার্মাল নেইনি |
  আবার যেখান থেকে ফ্ল্যাশব্যাকে গিয়েছিলাম সেখানে ,তা সূর্যাস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাঁড় কাপানো ঠান্ডা শুরু সঙ্গে হাওয়া | আমরা সেই যে তাঁবুতে ডুকেছিলাম বেরিয়েছিলাম খাবার খাওয়ার সময় | তাও বেরোনোর কোনো ইচ্ছা ছিলোনা ঠান্ডায় ,প্রায় জোর করেই গাইড আমাদের খাওয়াতে নিয়ে গিয়েছিলো | আর যেই বেরিয়েছি অমনি আমার আরেক বন্ধু বলেই দিলো “কৃষ্ণা ভাইয়া ডার লাগরা হ্যায়(কৃষ্ণা আমাদের গাইড)” | যাইহোক শোওয়ার সময় মাথায় কাছে বোতল নিয়ে শুয়েছিলাম এবং উপযুক্ত ব্যবহারও করেছিলাম :3 | এরপর থেকে রোজই আমরা রাতে ঠান্ডার ভয় এটাই করতাম |
    আবার 5 কিমি ট্রেক কয়ে পাথারনাচানি তে | ঠান্ডার ভয় দেখে আমাডের গাইড ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের যে কাঠের-স্টিলের সবুজ টেন্ট থাকে তাতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলো | এই রাস্তাও সহজ ছিলো | এতদিন পর্যন্ত বিন্দাস হেঁটে গিয়েছি এবং সবায় আগে আগে হেঁটেছি এমনকি গাইডকেও ছাড়িয়ে গিয়েছি বেশ কয়েকবার | মনে তুচ্ছতা চলে এসেছিলো যে এতটা সহজ !! অবজ্ঞায় গাইড কে বলেই দিলাম যে ট্রেক করছি মনেই হচ্ছেনা | এই কদিন রোজ রোজ নতুন নতুন খাওয়ার খাচ্ছিলাম ,দৃশ্য গুলিও বেশ সুন্দর | পরেরদিন ভোরবেলা উঠে দেখি চারিদিকে বরফ | ব্যাপারটা হেবি লেগেছিলো |
      এবার আরেক টুইস্ট ,পাথারনাচানি থেকে বাগুবাসা 5 কিমি | এই রাস্তা হেঁটে যাওয়ায় সময় আমার হেডেক শুরু হলো ,সবার শেষে হাঁটতে লাগলাম | গনেশ মন্দিরেয় কাছে এসে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিলাম | ভীষণ কষ্ট হয়েছিলো এই রাস্তায় | কোনোমতে বাগুবাপা এসেই ক্যাম্পে বডি এলিয়ে দিয়েছিলান | এতদিন মাথায় ছিলো কেবল আনন্দ এবং প্রকৃতি উপলব্ধি কিন্তু এখন মনে হলো সামিটটাও করে যাবো -মদ ছুঁলামনা | তাড়াতাড়ি খেয়ে নিলাম সবাই ,যত জামাকাপড় ছিলো পরে ফেললাম ,আমার দুটো প্যান্ট ছিলো ,দুটোই পরে নিলাম | এদিকে অনবরত আমার মাথাব্যাথা হয়েই চলেছে | রাতে ঘুম হলোনা ,ভোর 4 টেয় উঠে ঠান্ডায় আমরা কেও বেরাচ্ছিলামনা ভয়ে | তারপর অনেক সাহস করে একটু পর চা খেয়েই সামিটে বেরোলাম | এতক্ষণ রাস্তা অবদি আমার লাঠি লাগিনি ,যতক্ষণ যেতে থাকলাম ততই অসুস্থ হতে লাগলাম ,কখন আলো ফুটবে মাথায় এটা ঘুরতে লাগলো | অফিসিয়ালি 2.5 দূর বাগুবাসা থেকে রূতকুন্ড কিন্তু আমার মনে হয় অনন্ত 3.5 হবে | হাইহোক একটা বন্ধু লাঠি ব্যবহার করছিলো ওর লাঠি নিয়ে হাঁটা শুরুকরলাম | ঠান্ডায় হাতের আঙুল ফিল করতে পারছিলাম না(ট্রেক গ্লাবস নিয়ে যাইনি আমি),গাইড আমার আঙুল গরন করার চেষ্টা করলো ,ফল পেলামনা ,নাক দিয়ে জল পরায় সেটা মুছতে মুছতে ঘা হয়ে গিয়েছিল ,ঠোঁটে এবং আঙুলে কালো দাগ হয়ে গেছিলো ,সব মিলিয়ে একটা বাজে অবস্থা | অনেকটা হাঁটার পর প্রথমবার বমি হলো ,একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার চলা শুরু করলাম এদিকে প্রচন্ড মাথাব্যাথা | যত স্ট্রেস পরছে ততবেশি মাথা করছে | বেশ কিছুটা এগোনোর পর আবার বমি-কেবল জল বেরোলো| একটু বিশ্রাম নিয়ে হাঁটা শুরু করলাম ,এবার শ্বাস নিতে সমষ্যা শুরু হলো | একটু পরে হাঁটতে গিয়ে মনে হলো হার্ট যেনো ফলস খেলো | ব্যাস প্রচন্ড ভয় পেলান ,বুঝতে পারছিলামনা যে এগোবো নাকি থেমে যাবো | আবারা এগোতে গিয়ে একই ফিলিং ,ভীষণ ভয় হলো ,বুকের কাছে হাত দিয়ে দেখলাম ‘ধুক ধুক’ করছে কিনা | তারপর নিজেই বললাম আমি নেমে যাচ্ছি | হতাশ লাগলো বলার পরই | আবার এগোনোর চেষ্টা করলাম কিন্তু পারলামনা | ফিরে আসার সময় পুরোটা রাস্তা কান্না পাচ্ছিল | এতোটা রাস্তা এগিয়েও পারলাম না | একেই আমি তুচ্ছ জ্ঞান করেছিলাম | আমার পুরো অহংকার নিংড়ে নিলো | বাগুবাসায় এসে রেস্ট নিলাম ,মাথাব্যাথা বাদে বাকিসব কমে গেলো | ওরা প্রায় 12.30 নাগাদ ক্যাম্পে ফিরে আসে | আমরা 1.30 নাগাদ নীচে নামবার জন্য ক্যাম্প ছেড়েদি | সবাই ফেরার সময় সাধারনত বেদেনীতে ক্যাম্প করে কিন্তু সেদিন আমরা ঘেরোলি পাতাই ফিরবো ঠিক করেছিলাম কারন ওঠার দিনই আমার প্ল্যান করে নিয়েছিলাম দিওয়ালী উপলক্ষে আমরা পার্টি করবো ক্যাম্পফায়ার করে ও খাওয়াদাওয়া করে |বাগুবাসা থেকে 15 কিমি ঘেরোলি পাতাই| দুপুরবেলায় হাঁটা শুরু করি ও ননস্টপ হেঁটে প্রায় রাত 8 এর আশেপাশে আমরা পৌঁছাই | রাস্তা নীচু হলেও অন্ধকারে দেখতে না পাওয়ায় ও এবড়ো খেবড়ো হওয়ায় এতো দেরী হয় | আমার হাঁটুর ক্যাপ একটু ডিলে হওয়ায় অসুবিধা হচ্ছিল তাই রাস্তায় খুলেনি যেটা একটা ঐতিহাসিক ভুল | সারারাস্তা ভীষণ ব্যাথায় ভুগেছি এই জন্য হাঁটুতে ,উপরন্তু বুট পরে টানা কয়েকদিন হাঁটার ফলে এমনিতেই ক্লান্তি ছিলো এবং পা ফুলে ছিলো | লাস্টের কিছুটা রাস্তা ক্লান্তির চোটে আমরা সবাই টাল খাচ্ছিলাম | একদিকে খাদ ,তায় জঙ্গলের রাস্তা এবং এবড়ো খেবড়ো | সব মিলিয়ে এক কঠিন সময় | এরই ফাঁকে আমার রুকস্যাকের কবার টা হারিয়ে যায় | যাদের সাথে পার্টি করবো তারা কিছুটা এসে আমাদের জন্য আওয়াজ দিচ্ছিল আমরা ভাবলাম চলেই এসেছি ,ওমা এগোতেই থাকি এগোত থাকি রাস্তা আর আসেনা | পরে বুঝলাম চুপচাপ পরিবেশ তাই আওয়াজ এতো স্পষ্ট আর দূরে আসছে | যাইহোক সেই চরম মুহূর্ত যখন ক্যাম্প দেখতে পেলাম | কোনোমতে বডি এনে ফেলে দিলাম ,ওদের বাজি ফাটানো ,আগুন জ্বালানো ও রান্না শুরু হয়ে গেছে | আমার কোনোমতে রান্নার আগুনের সামনে বসে ঠুঁসে চিকেন খেলাম সঙ্গে গান ,নাচানাচি ,পানীয় |
      ভীষণ ক্লান্ত থাকায় তাড়াতাড়ি শুয়ে পরি কিন্তু স্লিপিং ব্যাগের জায়গায় কম্বল চেয়ে নি | এইদিন সবচেয়ে শান্তির ঘুম হয়েছিলো | সকালে দেরি করে উঠলাম ,ফ্রেশ হয়ে সব গুছিয়ে খেয়েই বেরিয়ে পরলাম | এখানে আসার পর আমার খিদে প্রায় 2 গুন হয়ে গিয়েছিলো অজ্ঞাত কারনে | বাগুবাসায় পৌঁছানোর পর থেকে খাওয়ার ইচ্ছাই কমে গেছিলো | এদিন আবার খিদে যেনো ফিরে এলো | 8 কিমি রাস্তা আসতে কষ্ট হয়নি তবে নীলগঙ্গায় স্নান করতে এবং দেরী করে বেরোনোয় ওয়ান ডুকতে অলমোস্ট বিকেল হয়ে যায় | এই রাস্তায় ফেরায় সময় আমি ভীষণ দ্রত নামছিলাম ফলে সবাই পিছনে পরে যায় | আমি একটা জায়গায় থেমে আওয়াজ দিতে থাকি কিন্তু কারোর থেকে কোনো উত্তর পেলামনা | চারিদিকে জঙ্গল ভাল্লুক থাকে এমনকি মাংসাশী প্রানীও থাকে এটা জানি | ঘেরোলি পাতাই এ একজন বলছিলো কালীপুজোর আগের দিন আমাদের জন্য মাংস আনতে গিয়ে নাকি সে এটা গরুর বাচ্চাকে একটা চিতা টাইপের প্রানী গলায় কামড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে | বেশ ভয় পেয়েছিলাম | আরো স্পিডে প্রায় লাফিয়ে বেশ কিছুটা এগিয়ে যেতে দেখি একটা দোকান যেখানে আমরা ওঠার দিন (রডোডেনড্রনের লাল রঙের সরবত খেয়েছিলাম)বিশ্রাম নিয়েছিলাম | ওয়ান গিয়ে আমরা হালকা খাবার মানে পপকর্ন ,চা বিস্কুট খেয়ে কেনাকাটা করতে বেরিয়ে যাই | মন ভরে কেনাকাটা করি মোটামুটি | তারপর ফেরার পোগ্রাম | মনখারাপের পালা | এর আগেও কিছু ঘটনা বাকি | আমাদের এজেন্সি  বলেছিলো যাওয়ার ও আসার শেয়ায় জিপ ওরা ঠিক করে দেবে যা 700 মতো পরবে | কিন্তু পূর্ব অভিজ্ঞতায় বুঝেগিয়েছিলাম এরা শুধু ব্রোকারের কাজ করেছে গাইডের সাথে দেখা করানোর কাজে ,সব কিছুতেই গাইডের অবদান | স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্বহীনতা পেলাম ,ওদের সাইড থেকে কোনো যোগাযোগ নেই | আমরা অতো মাথা ঘামাইনি | একজনের সাথে কথা বললাম সে বললো 1500 দিলে দেবাল পর্যন্ত পৌঁছে আরেকটা গাড়িতে তুলে দেবে ,তাকে পারহেড আবার 500 দিতে হবে | মানে পারহেড 1000 করে হালদিওয়ানি ফিরতে | অনেক রিকুয়েস্ট করায় মাত্র 100 টাকা কমালো ,সত্যিই বেকার খরচের জন্য এবং প্রথম দিনের গাড়ি ভাড়ার জন্য টাকার সেটিংটা উলটোপাল্ট হয়েছিলো | রাতে খাওয়ায় সময় লোকটা ফোন করে জানায় আপনারা 1200 ই দিন ,আমি 1000 টাকা রাখবো আর 200 টাকা আরেকটা যে গাড়ি যাবে সে একটু উপরে আসবে তাকে দেবো | আমাদের কি এইসব নিয়ে ভেবে ! আমাদের টাকা কম হলেই হলো | তো ভোর 4.30 এ এলার্ম দিলাম ,জ্বালা আমার বেশী ছিলো কারন আমার হালদিওয়ানি থেকে দিল্লির বাসের টিকিট কাটা ছিলো | আমার ব্যাগে একটু পানীয় বাকি ছিলো | তিনজনে ওটা চিয়ারস করে মেরে ঘুমিয়ে পরলাম | সকালে 4.30 উঠে রেডি হয়েনি ,গাইড টাইম মতো চলে আসে | আমরা ব্যাগ নিয়ে ওয়ান স্টেশন আসি | বিদায় পালা ,আমাদের গাইড ভীষণ ভালো ছিলো | একটা মনের টান চলে এসেছিলো ,ঠিক যেরকম রতনের প্রতি পোস্টমাস্টারের কিংবা দেওঘরের স্মৃতি | একটু কষ্ট করে মুখ ফিরিয়ে নিলাম ,গাইডের জন্য আমরা একটা গিফট কিনেছিলাম সেটা এবং আরেকটা জ্যাকেট(এটা গাইডের পছন্দ হয়েছিলো-একটা বন্ধুর জ্যাকেট) তাকে আমরা দিয়েছিলাম | কোলাকুলি … অজ্ঞতা …
          আলমোড়ার মিষ্টি নাকি ভীষণ বিখ্যাত | তাই খাওয়ার ইচ্ছাছিলো আমাদের সকলের | গাড়ি চেজ্ঞ করার সময় প্রথম ড্রাইভারটা দ্বিতীয়(শেয়ার জিপের) ড্রাইভারকে সেটা বলে দেয় | আমরা পথে একজায়গায় থেমে গান্ডেপিন্ডে ব্রেকফাস্ট করি তারপর মনখারাপ নিয়েই আলমোড়া নামি | মিষ্টি খেলাম ,তেমন কিছুই না | তাও বিখ্যাত তো ,বন্ধুরা 2 কেজি নিলো বাড়ি ও অফিসের জন্য আমি কেবল চেখে দেখলাম | তারপর গাড়ি রাস্তা দিয়ে আমাদের নাঁচাতে নাঁচাতে ভীমতাল হয়ে হলদিওয়ানি এসে পৌঁছালো | তখন 5 টা | আমার দুই বন্ধু নৈনিতাল যাবে আর আমি দিল্লী | ওরা একটা হোটেল ভাড়া করলো (আমি 4* রেটিং দেবো এবং ভীষণ সস্তা-এটা বাস স্ট্যান্ডের ওখানে) | আমি ওখানে ফ্রেশ হয়ে নিলাম | অনেকদিন পর শান্তিতে স্নান করলাম ,জামা প্যান্ট পাল্টালাম ,তারপর তিনজনেই খেতে বেরোলাম | ওখানকান বিখ্যাত দোকানে(শ্যাম বোধহয়) কাবাব সহযোগে বিরিয়ানি খেয়ে তারপর হোটেলে ফিরলাম |
    আবার বিদায়ের পালা -”মিলনের সুখ ক্ষনস্থায়ী ,,.বিরহের দুঃখ দীর্ঘস্থায়ী” |
বিদায় জানালাম | আমায় বাসস্ট্যান্ডে ছাড়তে এলো | আমি বাসে বসে পড়লাম | তারপর সুন্দর একটা হাসি দিয়ে আমরা টাটা করে বিদায় নিলাম ,জানিনা আবার এদের সাথে দেখা হবে কিনা ! ট্রিপ শুরুর আগে ভাবনা ছিলো কারা আসবে ,কেমন হবে ! যাওয়ার সময় মনে হলো এদের ছেড়েও থাকতে হবে |
আমি বহুবার হার মেনেছি পাহাড়ে ,প্রকৃত বন্ধুর ন্যায় খেয়াল রেখেছিলো ,আমার জন্য বহুকম্প্রোমাইজ করেছে | সত্যি বলতে এমন করতে আমি পরিবার ছাড়া কাওকে দেখিনি |
ভালো থাকুক …
আবার আসছি পাহাড় …

৩ দেশ এবং স্বপ্নপূরন

"Reality is stranger than fiction”
yes miracles happen..

প্রচন্ড উদ আর হঠকারিতায় বাইক নিয়ে নেপাল , ভুটান ঘুরতে বেরিয়ে পরেছিলাম | সব কিছুই কঠিন ছিলো কিন্তু আমরা করতে পেরেছি | সবচেয়ে বড়ো ভুল ছিলো আমি বাইক চালাতে পারিনা যেটা বড়ো একটা ড্রব্যাক ছিলো | ড্রাইভার পবসময় দু-জন হওয়া উচিত এবং লং ট্যুরে হাতের পায়ের গার্ড পরা উচিত এবং অবশ্যই পায়ে বুট | কোনোটাই আমরা নেয়নি |
  ষষ্ঠীর দিন রাতে বেরোই কিন্তু বেরোনোর সঙ্গেই ব্রেক ঠিক মতো কাজ করছিলোনা অগত্যা নাগেরবাজার এ পার্টনার বাইক ঠিক করে | 11 টা নাগাদ আমরা জাগুলি পৌঁছাই এবং আমরা কিছু খাওয়া দাওয়া করি | প্ল্যানিং মাফিক রাত 2 টো নাগাদ পলাশীতে পৌঁছানোর কথা কিন্তু হাইরোডে গাড়ি চালানো এবং সিটিতে চালানো কতটা তফাত্ ওই দিনেই বুঝে গিয়েছিলাম | লরি এবং বাস ধুমের স্পিডে গাড়ি চালায় এবং সামনের কারোর তোয়াক্কা করেনা | আর অপজিট লেন থেকে যে গাড়ি গুলো আসে তার আলো চোখে পরে ফলে চালানো আরো কঠিন হয়ে যায় | জাগুলিতে ডোকার আগেই একটা একসিডেন্ট হয়ে যাচ্ছিল - একটা বাস প্রচন্ড গতিতে আমাদের ওভারটেক করতে গিয়ে আমাদের একদম বাঁ দিকে চেপে দেয় ,কোনো মতে সামলে নেওয়া গেছিলো সেইবার |
কৃষ্ণননগর এ ধাবায় বসে খাবার খেলাম তারপর প্রায় ভোর 4 টে নাগাদ পলাশীতে বন্ধুর বাড়ী পৌঁছাই | খুব অল্প সময় আমরা এখানে ঘুমিয়েছিলাম পরেরদিন অনেকটা পথ যেতে হবে বলে | প্রায় 10 এর আশেপাশে আমার পলাশী ছেড়ে শিলিগুড়ির দিকে যেতে থাকি এবং সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম ,প্রচন্ড খাওয়া দাওয়া করে রাত প্রায় 10 টার আশেপাশে ইসলামপুর পৌঁছাই | ওখানে রাতে থেকে পরদিন সকালে ভুটানের দিকে রওনা দিয়েছিলাম | প্রায় 6 টা নাগাদ আমরা ভুটান ডুকি কিন্তু ততক্ষণে ইমিগ্রেশন অফস বন্ধ হয়ে গেছিলো | তাই আমরা ওখানে একটা হোটেল ভাড়া নিয়েনি | সারারাত নাচ ,খাওয়া দাওয়া এবং পরেরদিন সকালেও তাই করে ভুটান ছেড়ে বিকেল নাগাদ শিলিগুড়ি পৌঁছাই | সেদিন রাতে একটা হোটেলে থেকে যাই এবং সকালে নেপালের জন্য বেরিয়ে পরি | নেপাল ডুকে পায়মিশন করিয়ে এলাম কনডেমের দিকে যেতে থাকি | 125 সিসি গাড়ি প্রচন্ড সমষ্যা হচ্ছিল তারসঙ্গে মেঘে ডেকে পাহাড়ে দেখা খুবই সমষ্যার হচ্ছিল | কোনোমতে পৌঁছাই | তারপর টানা গাড়ি চালিয়ে রায়গঞ্জ এসে আর শরীর দিচ্ছিলনা তাই আমারা একটা সস্তার হোটেলে রাতটা কাটিয়ে দিয়েছিলাম | সকালে বেরিয়ে বিকেল নাগাদ পলাশীতে | রতে পলাশীতে ঘুরে পরদিন ভোর নাগাদ বেরিয়ে পরি | একেবারে আমি জাগুলি এসে এখানকার ভাসানের জন্য গতকাল থেকে যাই এবং পার্টনার বাড়ি চলে যায় |

পুরো ট্যুরটায় দুটো একসিডেন্ট হয় ..একটায় গাড়ি রাস্তায় তেল থাকার জন্য স্কিড করে যায় ,সেই সময় আমি হেলমেটও পরেছিলাম না | তবে কেবল দুজনের হাঁটু কেটে গেছিলো আর ওর ফোনের টেম্পারগ্লাসটা ফেটে গেছিলো | আমারা কিছুটা দুরেই হসপিটাল পেয়ে যায় এবং ড্রেসিং করিয়ে ,ইনজেকশন দিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ নিয়ে নি | হাসপাতাল থেকে ভীষণ সাহায্য করেছে এবং আমাদের পিছন থেকে আরেকটা গাড়ি আসছিল তারা বেশ মানবিকতা দেখিয়েছে | তবে হওয়ার পরে আমরা একদমই প্যানিক করিনি | স্কিড করার পরই আমি উঠে দাঁড়িয়ে দেখেনি আমার কোথায় কি হয়েছে ,তেমন কিছু হয়নি বুঝে গিয়ে পার্টনার কে জিজ্ঞাসা করি হাঁড়ে লেগেছে কিনা | ও বলে না লাগেনি | আমরা চাপ নেয়নি |
দ্বিতীয়বারটা বড্ড বোকা | নেপালের পাহাড়ে একজনের সাথে কথা বলার জন্য দাঁড়াতে গিয়ে পড়ে যাই এটাই লাগিনি তবে আমার নতুন ফোনের টেম্পারগ্লাসটা ফেটে গেছে |

ভুটান এবং নেপাল ভীষণ সুন্দর | শারীরিক গঠন দিক দিয়েও প্রত্যেকে সুন্দর | মদ ভুটানে অতিরিক্ত সস্তা |

পুরো জার্নিতে যত জেলার উপর দিয়ে গিয়েছি তাতে সবজেলা খুব সুন্দর লেগেছে |

ভীষণ রিস্কফুল ট্যুর ছিলো কিন্তু পাগলামোটাও সেরকম লেভেলের ছিলো | এরকম আর জীবনে পারবো কিনা জানিনা ! অসংখ্য অভিজ্ঞতা যা বলা যায়না … মানুষদের জানা ..দেশ দেখা … নিজেকে চেনা ...গান্ডে পিন্ডে গেলা ...সার্থক এই পাছায় ব্যাথা আর পরিশ্রম |

Thursday, 21 April 2016

সুখ দুঃখের সমাহার -একদিনের অভিজ্ঞতা

গতকাল খুব ক্লান্ত ছিলাম তাই সারাদিনের কার্যকলাপ লিখে উঠতে পারিনি | পূর্বে এরকম বাজিয়ে ,গলা হাঁকিয়ে , কোনো দিনের অভিজ্ঞতার কথা লিখিনি | তবে যে জন্য লিখতে ইচ্ছে করল তা নিতান্ত সামান্য কারণে | জীবনের চড়াই উতরাই একসঙ্গে বহুবার দেখছি ..

        গতপরশু বলেছিলাম গতকাল অনেক প্ল্যান রয়েছে | আমার ঘুম সহজে ভাঙেনা ,একাধিক এলার্ম বারবার বেজে গেলেও নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকি | তাই যেদিন খুব দরকারে সকালে উঠতে হয় সে 8 টায় হোক কিংবা 10 টায় আমার এক বান্ধবী আমায় বারংবার টানা ফোন করে যায় যতক্ষণ না আমি ফোন তুলে কথা বলি | জঙ্গল বুক সিনেমার টিকিট কাটা ছিল ,সকাল 11.05 এ শো ,স্বাভাবিক নিয়মে বান্ধবী আমায় সকালে ফোন করে কিন্তু জানতে পারি তার বমমা (জ্যাঠার বৌ)  মারা গেছেন |

     ফ্ল্যাশব্যাক ……….

আমার ভুলে যাওয়া অভ্যেস রয়েছে তা সঠিক মনে নেই তবে যতদূর মনে পরে  দুইবছর বয়েস কিংবা ক্লাস টুয়ে থাকাকালিন বান্ধবীর বাবা মারা যায় | আদরের জ্যাঠামশাই জড়িয়ে বলেছিল ‘চিন্তা কি ! আমি তো আছি |’ কালের অমোঘ নিয়মে বা ভাগ্যের পরিহাসে সেও চলে যায় ,শেষ জীবনে বোধহয় পাগল হয়ে গিয়েছিলেন ,ঠিক মনে করতে পারিনা | জ্যাঠার ছেলে ‘ভাইদা’ এর সংসারের দায়িত্ব | সরকারি চাকুরে | পরিবারের লোক বলতে ভাইদা ,তার স্ত্রী ও বাচ্চা মেয়ে  ,ভাইদার মা (বমমা) ,আমার বান্ধবী ও বান্ধবীর মা | পারিবারিক স্বচ্ছলতা বরাবরই ছিল , যেটা ছিলনা পারিবারিক শান্তি | ভাইদার স্ত্রী আমার বান্ধবীকে পছন্দ করেন না ,বলা যেতে পারেন দেখতেই পারেন না | স্বাভাবিক ভাবেই বান্ধবীটি তাকে পছন্দ করেনা (অন্তত এটা না বললে আমায় একপাক্ষিক ভাবতে পারেন তাই উল্লেখ করলাম ) | আমি জানিনা ভাইদার বৌ বাড়ীতে কোনো কাজ করেন কিনা ! তবে এটুকু জানতাম আমার বান্ধবী টি ঘুম প্রিয় হলেও সকাল সকাল উঠে রান্না করে ঘর মুছে ,কলেজ গিয়ে ,টিউশন পড়িয়ে ,টিউশনি করে , অর্নাসের পড়াশুনা করে ,রান্না করে ,বিছানা ঘুচিয়ে ,খেয়ে ,1 টা অবদি ফেবু করতো | অনেকে এটা ভাবতেই পারে যার বাবা নাই তাদের এরকম করুন পরিণতি হয় বরং তার কৃতঞ্জ থাকা উচিত তার পরিবারের কাছে পড়াশুনার খরচ ও খাওয়া দেওয়ার জন্য | এক্ষেত্রে কিছুটা হতাশ করবো কারণ আমার বান্ধবীর বেশ খরচ তার ভাইদা দিলেও সে কিন্তু টিউশন পড়িয়ে অনেকটা চালাতো | উপরন্তু বেশ কিছুদিন হলো বান্ধবীদের বাড়ীতে সমান অধিকার থাকলেও তাদের নীচের তলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় ,আলাদা গ্যাস , থালা বাসন দিয়ে দেওয়া হয় বলা হয় চাল ,ডালের খরচ দিয়ে দেওয়া হবে বাকি মাছ ,মাংস নিজেকে কিনতে হবে | এতদিন একই জায়গায় রান্না হতো | হাঁড়ি আলাদা হলো |  বর্তমানে নানারকম খোঁটা ,বিয়ে দিয়ে দেওয়া প্ল্যানের মাঝেও যেটুকু বেঁচে থাকতো বমমার মারা যাওয়ায় তার সলিল সমাধি ঘটল |  আমি শালা একটু কঠোর কিনা জানিনা দূরে থাকলে রিচার্জ করতে হলে ওকেই বলি ,সে ঠিক ভরেই দেয় | শুধু তাই নয় বহু ভালো খাবার খাওয়ার বায়না ধরি আর সে আমায় বানিয়েও দেয় | একবার তো আমি চাও বানাতে বলেছিলাম ,সে বানিয়েছিল কিন্তু আমি দেখা করে না নিতে পারায় চাওমিনকে সমাধিস্থ হতে হয় | “এটা দেখে কেও যদি ড্যামনামো করে তার কাছ থেকে খাওয়ার  কথা ভাবে কিংবা রিচার্জ করানোর কথা চিন্তা করে তাহলে বলবো নিশ্চিন্তে থাকুন আমি জানতে পারবো এবং তা হতে দেবো না | তাতে আমার ও আপনার নয় বরং বান্ধবীর সাথে আপনার সম্পর্ক খারাপ হবে | আমিই সেই ব্যাবস্থা করবো | না ,অধিকার ফলানো টলানো কিছুই নয় ,গাঢ় বন্ধুত্বের জন্যও নয় , ওই মানুষটিকে ভালো রাখার জন্য |” ডবল কোটেড লেখাটা আমি নাই লিখতে পারতাম কিন্তু ড্যামনা মানুষের অভাব তো নেই তাই স্পষ্ট ভাবেই উল্লেখ রাখলাম |

    আবার বর্তমানে ………

সহানুভূতি আমার খুব সহজে আসে না ,দিতে যে পছন্দ করি তাও নয় | স্বাভাবিক কথাবার্তার পর ফোন রেখে তৈরি হয়ে বেরিয়ে পরি গন্তব্যের দিকে -জঙ্গল বুক | থ্রী ডি পিকচার নয় ইরফান খান ,আমায় প্রায় 1 ঘণ্টা চুপটি করে বসিয়ে রেখেছিল ওই মিষ্টি ভাল্লুকের ছদ্মবেশে | নানাজী কম যায় নি ,আওয়াজ টি অনবদ্য মানিয়েছে শের খাঁ কে | আর একজম মন কেড়েছে সে হল প্রিয়াঙ্কা | অল্প তবে মারাত্নক ভাবে উপস্থিতি বুঝিয়েছে | গল্প বা বাকি সব কিছু হলে গিয়েই দেখতে হবে ,আমি বলে মজা নষ্ট করবো না | তারপর বেরিয়ে গরমে ঘেমে নেয়ে জয়া হলে আসি এবং একপ্লেট মোমো গরমে নিশ্চিন্তে হজম করে ফেলি তারপর ফ্যানের রাত্রের টিকিট কেটে বাড়ী চলে আসি |

বাড়ীতে বিরিয়ানী হওয়ার কথা ছিল এবং সমস্ত উপকরণ আনা হয়েছিল কিন্তু বাধ সাদলো এই অচেনা গরম | মনক্ষুন্ন হলো আমার | এমনিতে মায়ের রান্না আমার ভালোলাগেনা | মাংস আর চাউমিন ছাড়া মার কোনো রান্না আমার পছন্দ হয়না | যাই হোক দিদি আবার অনবদ্য রান্না করতে পারে ,বিরিয়ানী তারই করার কথা ছিলো শেষ অবদি মাংস ,মাছ এবং মাছের তেলের কি একটা বানিয়েছিল | বিশ্বাস করুন আমি বহু ভালো স্বাদের এই আইটেম গুলি খেয়েছি কিন্তু এরকম ইউনিক আর সুস্বাদু কোনোদিনও খাইনি কিন্তু  গরমের জন্য বারবার হাঁপিয়ে যাচ্ছিলাম  | বহু সময় লেগেছে এবং খাবারের পর উপলব্ধি করলাম বিরিয়ানী খেলে বাঁচতাম না অথচ মাংস মাত্র এক টুকরো খেয়েছি | খাসী খেলে কেনো জানিনা অসুস্থ বোধ করি |  তারপর তো আমায় দেখে কে ,পুরো দুপুর শুয়ে কাটালাম নড়চড়া বন্ধ | পরিবারের সাথে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে সন্ধ্যে বেলার পর বেরিয়ে পরি ফ্যান দেখতে | গুরদেব যতই যা করুক আমার কাছে কেনো জানিনা কম মনে হয় | আরও বেশী আশাকরি সমস্ত বিষয়(স্টোরি) নিয়েই | যাই হোক প্যাটিস আর ফ্যান এই দুই কম্বো ভালোই সময় উপহার দিয়েছে | পেট ভর্তি ছিল প্রায় এবং শরীর ক্লান্ত তাই রাত্রে এসে প্রায় না খেয়েই বডি খাটে লাগিয়ে দিনের দ্যি ইন্ড ঘটাই |

     কাঁটা কিন্তু প্রথমেই গলায় বেঁধেছিল |

বহুদিন পর আজ কলেজ গেলাম ,ম্যাডামরাও খুব ভালো মুডে ছিলেন | ভালো সময় আড্ডা দিয়ে কাটালাম ম্যাডামদের  ও বন্ধুদের সাথে | কিন্তু প্রাপ্তি হলো পুরানো এক বন্ধুর সাথে অনেকদিন পর দেখা হওয়া | তার সাথে আড্ডা ,খাওয়া দাওয়া এক অন্য জগতে নিয়ে গিয়েছিলো আমায় | আমি জানি সে অনুভূতি কিরকম | কিছু জিনিস বুকে এঁকে রাখাই শ্রেয় |

শুভরাত্রি ...

Friday, 15 April 2016

সন্দেশখালি-ভোলাখালি-আগরাতলা ও তার পার্শবর্তী অঞ্চলের বর্তমান অবস্থা

40° সেন্টিগ্রেড | ওদের মাথার উপর দো-তলা পাকা বাড়ী নেই | এসি তো দূর কি বাত | রাতের খাবার জুটবে কিনা তা তারা জানেন না ,ভাবেও না | ইঁদুর পুড়িয়ে বা চোলাই বেচে জীবন যুদ্ধে টিকে থাকে | তাদের উপস্থাপনা করে যে মানুষ সে ভোটে দাঁড়িয়ে ,বাইক কিনে , এসি লাগিয়ে নেতা হয়ে গিয়েছে | ভোলাখালি থেকে কালিনগর ঘাট পর্যন্ত একটি মাত্র কলেজ ও হাইস্কুল | সন্দেশখালি-ভোলাখালি দিক থেকে যারা আসে তাদের কাঠ ফাটা রোদে অন্তত 4 কিলোমিটার হেঁটে বা সাইকেলে আসতে হয় টাকা বাঁচানোর তাগিদে কিংবা অভাবে | জলের সমস্যা এখন সব জায়গায় ,তা বলার এখন আর প্রয়োজন নেই | পানীয় জলের গুণগত মান কতটা তা স্বাদেই বোঝা যায় |
           আয়লা এই অঞ্চল টিকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল | দ্বীপ টি এর এক অংশ বাদে বাকি সমস্ত অংশের বাঁধ ভেঙ্গে যায় , ফলাফল ইতিহাস |  আগরাতলায় আমার মামার বাড়ী ,এখান থেকে 25 মিঃ দূরেই | মামার মাটির বাড়ী ভেঙে যায় ,সরকারের তরফে বাড়ী তৈরীর সাহায্য পাঠালেও তা মাঝের পথে কোনো রাজনৈতিক ব্যাক্তি আত্মসাত্ করে | কয়েক বছর আগেও ভোলাখালি অঞ্চল ঠিক যেরকম দেখেছি তার অবস্থার উন্নতি কোনো রকম হয়নি |
          দাদার বক্তব্য অনুযায়ী কালিনগর মহাবিদ্যালয়ের শেষ বারের ভোটের রূপ তারা আগে কখনও দেখেনি | ভোটের আগের দিন বন্দুকধারী কিছু বহিরাগত এসে হাতে বন্দুক নিয়েই মিছিল করে যা এই তল্লাটে প্রথম | এই স্থানটির রাজনৈতিক পরিচিতি বরাবরই নিন্মমানের | এছাড়া বরংবার সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে খুন ও ছাত্র নেতার হাতে শিক্ষক নিগ্রহ |
          এখানকার নিরপেক্ষ  শিক্ষিত ও সচেতন সমাজের সাথে কথা বলে যা বুঝলাম তাতে খুব বেশী অবাক হয়নি | প্রত্যন্ত গ্রাম গুলির মতো এখানকার মানুষ গুলির মধ্যেও চরম মুসলিম বিদ্বেষ রয়েছে যার দরুন স্থানীয় মুসলিমরা স্বাভাবিক ভাবেই হিন্দু বিদ্বেষ পোষণ করে | পরিস্থিতি না বুঝে সমকামী তার পক্ষ নেওয়ায় জনা চারেকের সাথে বিতর্কে যেতে হয় |  আলোচনায় তারা একই বিষয়ে আটকে থাকে এবং সমকামী রা “ এবনর্ম্যাল” এরকম বক্তব্য প্রকাশ করে যায় | একজন আর .এস .এস কর্মীকে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টিতে আর .এস .এস এর ভূমিকা বোঝাতে গেলে যেমন হয় ঠিক সেরকম অবস্থা আমার ছিল ,আমার  অপরিপক্ক বক্তব্য আংশিক দায়ী অবশ্য |
          বিদুত্ প্রসঙ্গে :- বরাবরই এখানে বিদুত্ নিয়ে নানা সমস্যা ছিল | ওভারহেড ট্রান্সমিশান লাইন হওয়ায় জন্যই মূলত ঝড় বৃষ্টি  হলে বিদুত্ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয় | এছাড়া গরম কালে দিনে 3-4 বার তো বটেই উপরন্তু শীতকালেও কারেন্ট যাওয়ার বিরাম থাকে না | সমাজ বিছিন্ন বা পিছিয়ে পরা বহু মানুষের বাস হওয়ার এবং শিক্ষাগত ব্যবস্থার পর্যাপ্ত ব্যাপ্তি না হওয়ায় সরকারি চাকরী থেকে এদের সম্পর্ক বহু গুণ দূরে | এখানকার মানুষজন এস .সি ,এস .টি সার্টিফিকেট কিভাবে কাজে লাগানো যায় তা বহু অংশে তাদের অজানা | চাকরী পাওয়ার প্রতিকূল পরিবেশে বাস করায় জীবিকা নির্বাহ করার জন্য তুলনামূলক মফঃস্বল অঞ্চলের মানুষরা ছোট ছোট ব্যাবসা করে থাকেন | কারোর চায়ের দোকান ,কেও সাইকেল সারানোর দোকান চালায় আবার কারোর আইসক্রিম বা ইলেকট্রনিক্সের দোকান | প্রসঙ্গত ,দ্বীপে এই দোকানগুলি হওয়ায় নদী পার হয়ে কেও এই দোকান গুলি তে আসতে চায় না ,শহরকেন্দ্রিকতা তারা পছন্দ করেন | যারা এই দ্বীপে ছোটো ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা সরবরাহ করে তাদেরও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বিদুত্ এর জন্য | 2-3 দিন কারেন্ট না থাকলে আইসক্রিমের দোকান ,প্রিন্টের দোকান কিংবা মোবাইল রিচার্জের দোকান গুলি বিশেষ সাহায্য করতে পারেনা | এখান থেকে সামান্য দূরে একটি জায়গায় কারেন্ট একদিম ই যেতো না তাই এক মাস্টারমশাই নিজের খরচে কাঠ থেকে বিদুত্ বানানোর একটি প্ল্যান্ট মতো তৈরি করেন যা প্রথম দিকে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করলেও বর্তমানের খবর অনুযায়ী এখন সারাদিন কাজ করছে |
    বাংলাদেশের বর্ডার ঘেঁষা এই জায়গার মানুষরা বেশ মুসলিম বিদ্বেষি তাই এই স্থান গুলি বিজেপির খনিজ সম্পদ এবং তাদের পতাকার আধিক্য আমায় অন্তত সেই প্রমাণ ই দিয়েছে এবার |
           এখানকার অনিশ্চয়তার মাঝেও পরম প্রাপ্তি হলো অসংখ্য অভিজ্ঞতা ও দিনের শেষে ঘাটের ধারের হিম শীতল হাওয়ার স্ত্রোত |

Monday, 29 February 2016

স্কুল -নস্টালজিয়া

স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে গেলেও মনের মধ্যে সবসময় কেমন যেন আনচান করে স্কুলের জন্য | প্রথম কত কিছুই না সাক্ষী হয় স্কুলের জীবন | টুকলি করতে গিয়ে ধরা পরে যাওয়া কিংবা শিক্ষকদের নিয়ে মজার নাম বানানো , তাদের নকল করা থেকে শুরু করে প্রথম ব্যর্থ প্রেম , বন্ধুদের সাথে বোকাবোকা ঝগড়া আর পরে দুই বন্ধু কাঁদতে কাঁদতে একসাথে টিফিন খাওয়া  এই অভিজ্ঞতা গুলি  স্কুল জীবন কে মনের গভীরে সংরক্ষণ করে রাখে |জীবনের চরম ব্যস্ততায় যখন হাঁপিয়ে পড়েন ,চিন্তায় জর্জরিত হয়ে যান তখন স্কুল জীবনের এক মুহূর্তই বোধহয় যথেষ্ট হয় ঠোঁটের কোণে হাসি ফোটাতে | স্কুল জীবনের শেষ দিনে আবেগের জলে একে অপরকে জড়িয়ে ধরা ,সকলের মুখ থেকে তিন সত্য বলিয়ে নেওয়া যে সকলে সকলের সাথে যোগাযোগ রাখবে | কিন্তু হায় রে আমাদের পোড়াকপাল , জীবনের কঠিন বাস্তবের মাটি সকল কে দূরে ,বহু দূরে নিয়ে চলে যায় ,থেকে যায় কেবল কিছু স্মৃতি আর নাম | তারপর হয়তো পরিবারের সাথে রাস্তায় চলতে গিয়ে দেখা হয় পুরানো বন্ধুর সাথে ,এক মুহূর্তে সবকিছু ভুলে গিয়ে মনে পড়ে যায় সেই দিন গুলি | আবার বাস্তবতায় ফিরে আসেন সন্তান বা পরিবারের মানুষের ডাকে আর আপনি এগোতে থাকেন এই বলে “আজ আসি রে ,অন্য একদিন কথা হবে | আজ একটু ব্যস্ত” অন্য আরেকদিন দেখা হয়তো হবে না ,হয়তো এভাবেই অতিবাহিত হয়ে যাবে পুরো জীবনটা | স্কুলের জীবনের যে রস তা বোধহয় আর পুনরাবৃত্তি হয়না | তাই স্কুলের জীবন আবারও মনে করতে ,উপভোগ করতে বারে বারে ফিরতে হয় “পুনর্মিলন(রি-ইউনিয়ন)” এ |