Friday, 8 December 2017

রূপেশ্বরী রূপকুন্ডের অভিজ্ঞতা :-

প্রায় 1 বছর আগে ঠিক করেছিলাম হাই অলটিটিউডের ট্রেক করবো | আর প্রায় 3-4 বছর আগে থেকে ইচ্ছা ছিলো ট্রেক করার |
এবছর ঠিক হয়েছিলো গোচেলা ট্রেকে যাবো সেইমতো প্রায় 5 মাস আগে টাকা এডভান্স করা হয়েগেছিলো | কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সিকিমের ঝামেলার জন্য শেষমুহূর্তে এসে প্ল্যান পাল্টাতে হয় | ভেবেছিলাম গঙ্গোত্রী-গোমুখ তপোবন ট্রেক করবো কিন্তু ধস নামায় তা বন্ধ করা হয় | অবশেষে এমারজেন্সি স্পিডে রূপকুন্ড ঠিক করে সমস্ত কিছু তৈরি করি |
    13 তারিখ ট্রেনে উঠি ,লালকুয়া এক্সপ্রেস | প্রায় 4.30 মতো লেট করে ফলত শেয়ায় জিপ মিস করি এবং আমাদের(আরও 2 জনকে) 6000 টাকা দিয়ে গাড়ি বুক করতে হয় | প্রায় রাত 1 টায় আমরা ওয়ান গ্রামে পৌঁছাই | রাস্তায় স্বাভাবিকভাবেই প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছিলাম | জিপে বসেই তিনজন তিনটে বিয়ার খেয়ে নি ,তারপর তো স্বর্গসুখ | সন্ধ্যে হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাস্তার প্রকৃতরূপ পরিস্কার হয়ে যায় | ভীষণ বাজে রাস্তা এবং এতো বড়ো টার্নিং যে মনে হচ্ছে এই বুঝি গড়িয়ে খাদে পড়বো | কিছু জায়গায় মনে হচ্ছে গাড়ির বাঁ দিকে যাওয়া উচিত কিন্তু ওমা দেখি ডান দিকে যাচ্ছে ,কখনও কখনও আবার উল্টো | সামনের সিটে যে বসেছিলো ভয়ে সে একদম পিছনের সিটে চলে যায় | ওয়ান ভিলেজে নামার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের গাইড ওখানে চলে আসে এবং আমাদের নিয়ে বেস ক্যাম্পে যায়(এটা কাঠের তৈরি কটেজ এবং তিনদিকে পাহাড় দিয়ে ঘেরা ও ফুলদিয়ে ডেকরেট করা ) | আমরা সবাই হাল্কা প্যান্ট জামা পড়েছিলাম আর আমি তো হাফ প্যান্ট পরেছিলাম | নেমেই হাঁড় কাঁপানো ঠান্ডা | এমনিতেই দুদিনের জার্নি তারউপর এমন ঠান্ডা | প্রায় 20 মিঃ ওই অবস্থাতেই আমাদের ট্রেক করে বেসক্যাম্প যেতে হয়েছিলো ,উত্তেজনায় আমি কষ্ট না বুঝতে পারলেও আমাদের একজনের বেশ কষ্ট হয়েছিলো | গরম গরম খাবার(খিদের জন্য কিনা জানিনা তবে খাবারগুলো অমৃত মনে হচ্ছিল) খেয়ে আমরা রাতে শুয়ে পরি |
       পরেরদিন 7.30 নাগাদ ঘুম থেকে উঠে পরি আমরা ,দুর্দান্ত ঝলমলে ওয়েদার ছিলো | ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে আমরা একটু দেরী করেই ওই 10 টা নাগাদ আমরা আমাদের দ্বিতীয় ক্যাম্প মানে ঘেরোলি পাতাই(10000 ফুট এর আশেপাশে) এর ক্যাম্পের জন্য এগোনো শুরু করি | প্রায় 8 (আট) কিমি রাস্তা ছিলো এবং অধিকাংশই খাঁড়া কিন্তু উত্তেজনার বশে তখন এর মর্ম বুঝিনি বেশ তাড়াতাড়িই কম বিশ্রাম নিয়েই আমরা ওখানে চলে যাই | টেন্ট লাগানো হয়ে গেলে কিছুক্ষণ আমরা বিশ্রাম নিয়ে খাওয়া দাওয়া করে ফেলি | ওখানে একটা মন্দির আছে এবং তাকে নিয়ে একটা গল্প রচিত আছে সেই গল্প ওখানে সিজনাল দোকান দেওয়া এক ব্যক্তির কাছে থেকে শুনে নিয়েছিলাম | তারপর উনুনের আগুনের ধারে বসে গরম হাওয়া খেয়ে ,রাতের খাবার ঠুসে নিয়ে ঘুমাতে চলে যাই | পাহাড়ে তাঁবুতে শোওয়ার সময় উঁচু মানে খাঁড়া দিকে মাথা দিতে হয় এবং নিচু দিকে পা | আমরা ঠিক এর উল্টোট করি ফলত সারারাত ঠান্ডা হাওয়া আমাদের মাথায় লাগে সর্বোপরি বাকি দুজনের মাথাব্যাথা হয় | আমরা শুয়ে পড়ায় গাইড আর আমাদের বলার জন্য ডাকেনি | প্রথমবার স্লিপিং ব্যাগ এ শোওয়া খুব এটা সুখদায়ক না হলেও খুব দুখদায়ক ছিলোনা | কিন্তু হাত পা ছুঁড়ে শোয়া অভ্যাসের দরুন কেও শান্তিতে ঘুমাতে কিন্তু পারবেনা | যাইহোক পরেরদিন সকাল থেকে শুরু হলো টয়লেট পেপারের ব্যবহার ,জল ছাড়া এটার ব্যবহার অনেকেই নাঁক সিটকোবে ,আমিও তাদের একজন ছিলাম প্রথম ব্যবহার পর্যন্ত কিন্তু প্রথমবার ব্যবহার করার পর এয় মহাত্মা বুঝে গেলাম | ঠান্ডা থেকে বাঁচায় ,জলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়না ,নোংরা কম ছড়ায় ইত্যাদি |
     প্রায় 5 কিমি রাস্তা (অধিকাংশই সমান রাস্তা) চলে আমরা আমাদের তৃতীয় ক্যাম্প বেদেনী বুগিয়াল আসি | প্রসঙ্গত বলে রাখি রাস্তায় আলি বুগিয়ার পরবে যার সৌন্দর্য্য অবিশ্বাস্য | ভালো ওয়েদার থাকলে পোয়াবারো নাহলে ঠান্ডায় কাঁপতে হবে | প্রথম দিন এবং এই দিন সাধারন টি-শার্টি পড়েই ট্রেক করি কিন্তু হাঁটা থামালেই হাঁড় হিম করে দিচ্ছিলো | এই দিন পরিশ্রম সবথেকে কম হয় এবং বেদেনী গিয়ে ভয়ঙ্কর রকমের সৌন্দর্য্য দেখতে পাই | আমাদের পুরো জার্নিটাতেই ওয়েদার ভীষণ ভালো ছিলো ,মেঘমুক্ত পরিস্কার ঝলমলে আকাশ | বেদেনীকে ঘিরে এক দিকে মাউন্ট ত্রিশূল ,নন্দাদেবী অন্যদিকে চৌখাম্বা বেস ,নীলকন্ঠ ইত্যাদি পর্বত রয়েছে | যেনো স্বর্গলোক একে ঘিরে আশীর্বাদ করছে | প্রকৃতির রূপ যেনো ফেটে পড়ছে |  আমরা তাঁবুতে ডুকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বাইরে বসে ত্রিশূলের দিকে মুখ করে বসে দেখতে থাকি ও আমি এক বোতল হুইস্কি ছিলো সেটা খেতে থাকি |
    এতক্ষন আমরা বেশ মজাতেই কাটাচ্ছিলাম এবার আসলো আসল টুইস্ট সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই যে ঠান্ডাটা পরা শুরু করলো তার জন্য আমরা কেও প্রস্তুত ছিলামনা বিশেষত আমি | এবার একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যাই …
সৌরভ কোনাই নামে আমার এক অভিজ্ঞ ট্রেক বন্ধু বলে হাঁটার সময় ঘামবি এটার জন্য আমি ভেবেছিলাম ঠান্ডা বেশী পড়বেনা | এছাড়া মনে হয়েছিলো এখন সবজায়গায় গরম কত আর ঠান্ডা থাকবে !! ব্যাস কলকাতার শীত মানায় কেবল এরকম একটা জ্যাকেট নিয়েছিলাম আর সব সাধারন গেঞ্জি ,কোনো শোয়েটার বা থার্মাল নেইনি |
  আবার যেখান থেকে ফ্ল্যাশব্যাকে গিয়েছিলাম সেখানে ,তা সূর্যাস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাঁড় কাপানো ঠান্ডা শুরু সঙ্গে হাওয়া | আমরা সেই যে তাঁবুতে ডুকেছিলাম বেরিয়েছিলাম খাবার খাওয়ার সময় | তাও বেরোনোর কোনো ইচ্ছা ছিলোনা ঠান্ডায় ,প্রায় জোর করেই গাইড আমাদের খাওয়াতে নিয়ে গিয়েছিলো | আর যেই বেরিয়েছি অমনি আমার আরেক বন্ধু বলেই দিলো “কৃষ্ণা ভাইয়া ডার লাগরা হ্যায়(কৃষ্ণা আমাদের গাইড)” | যাইহোক শোওয়ার সময় মাথায় কাছে বোতল নিয়ে শুয়েছিলাম এবং উপযুক্ত ব্যবহারও করেছিলাম :3 | এরপর থেকে রোজই আমরা রাতে ঠান্ডার ভয় এটাই করতাম |
    আবার 5 কিমি ট্রেক কয়ে পাথারনাচানি তে | ঠান্ডার ভয় দেখে আমাডের গাইড ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের যে কাঠের-স্টিলের সবুজ টেন্ট থাকে তাতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলো | এই রাস্তাও সহজ ছিলো | এতদিন পর্যন্ত বিন্দাস হেঁটে গিয়েছি এবং সবায় আগে আগে হেঁটেছি এমনকি গাইডকেও ছাড়িয়ে গিয়েছি বেশ কয়েকবার | মনে তুচ্ছতা চলে এসেছিলো যে এতটা সহজ !! অবজ্ঞায় গাইড কে বলেই দিলাম যে ট্রেক করছি মনেই হচ্ছেনা | এই কদিন রোজ রোজ নতুন নতুন খাওয়ার খাচ্ছিলাম ,দৃশ্য গুলিও বেশ সুন্দর | পরেরদিন ভোরবেলা উঠে দেখি চারিদিকে বরফ | ব্যাপারটা হেবি লেগেছিলো |
      এবার আরেক টুইস্ট ,পাথারনাচানি থেকে বাগুবাসা 5 কিমি | এই রাস্তা হেঁটে যাওয়ায় সময় আমার হেডেক শুরু হলো ,সবার শেষে হাঁটতে লাগলাম | গনেশ মন্দিরেয় কাছে এসে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিলাম | ভীষণ কষ্ট হয়েছিলো এই রাস্তায় | কোনোমতে বাগুবাপা এসেই ক্যাম্পে বডি এলিয়ে দিয়েছিলান | এতদিন মাথায় ছিলো কেবল আনন্দ এবং প্রকৃতি উপলব্ধি কিন্তু এখন মনে হলো সামিটটাও করে যাবো -মদ ছুঁলামনা | তাড়াতাড়ি খেয়ে নিলাম সবাই ,যত জামাকাপড় ছিলো পরে ফেললাম ,আমার দুটো প্যান্ট ছিলো ,দুটোই পরে নিলাম | এদিকে অনবরত আমার মাথাব্যাথা হয়েই চলেছে | রাতে ঘুম হলোনা ,ভোর 4 টেয় উঠে ঠান্ডায় আমরা কেও বেরাচ্ছিলামনা ভয়ে | তারপর অনেক সাহস করে একটু পর চা খেয়েই সামিটে বেরোলাম | এতক্ষণ রাস্তা অবদি আমার লাঠি লাগিনি ,যতক্ষণ যেতে থাকলাম ততই অসুস্থ হতে লাগলাম ,কখন আলো ফুটবে মাথায় এটা ঘুরতে লাগলো | অফিসিয়ালি 2.5 দূর বাগুবাসা থেকে রূতকুন্ড কিন্তু আমার মনে হয় অনন্ত 3.5 হবে | হাইহোক একটা বন্ধু লাঠি ব্যবহার করছিলো ওর লাঠি নিয়ে হাঁটা শুরুকরলাম | ঠান্ডায় হাতের আঙুল ফিল করতে পারছিলাম না(ট্রেক গ্লাবস নিয়ে যাইনি আমি),গাইড আমার আঙুল গরন করার চেষ্টা করলো ,ফল পেলামনা ,নাক দিয়ে জল পরায় সেটা মুছতে মুছতে ঘা হয়ে গিয়েছিল ,ঠোঁটে এবং আঙুলে কালো দাগ হয়ে গেছিলো ,সব মিলিয়ে একটা বাজে অবস্থা | অনেকটা হাঁটার পর প্রথমবার বমি হলো ,একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার চলা শুরু করলাম এদিকে প্রচন্ড মাথাব্যাথা | যত স্ট্রেস পরছে ততবেশি মাথা করছে | বেশ কিছুটা এগোনোর পর আবার বমি-কেবল জল বেরোলো| একটু বিশ্রাম নিয়ে হাঁটা শুরু করলাম ,এবার শ্বাস নিতে সমষ্যা শুরু হলো | একটু পরে হাঁটতে গিয়ে মনে হলো হার্ট যেনো ফলস খেলো | ব্যাস প্রচন্ড ভয় পেলান ,বুঝতে পারছিলামনা যে এগোবো নাকি থেমে যাবো | আবারা এগোতে গিয়ে একই ফিলিং ,ভীষণ ভয় হলো ,বুকের কাছে হাত দিয়ে দেখলাম ‘ধুক ধুক’ করছে কিনা | তারপর নিজেই বললাম আমি নেমে যাচ্ছি | হতাশ লাগলো বলার পরই | আবার এগোনোর চেষ্টা করলাম কিন্তু পারলামনা | ফিরে আসার সময় পুরোটা রাস্তা কান্না পাচ্ছিল | এতোটা রাস্তা এগিয়েও পারলাম না | একেই আমি তুচ্ছ জ্ঞান করেছিলাম | আমার পুরো অহংকার নিংড়ে নিলো | বাগুবাসায় এসে রেস্ট নিলাম ,মাথাব্যাথা বাদে বাকিসব কমে গেলো | ওরা প্রায় 12.30 নাগাদ ক্যাম্পে ফিরে আসে | আমরা 1.30 নাগাদ নীচে নামবার জন্য ক্যাম্প ছেড়েদি | সবাই ফেরার সময় সাধারনত বেদেনীতে ক্যাম্প করে কিন্তু সেদিন আমরা ঘেরোলি পাতাই ফিরবো ঠিক করেছিলাম কারন ওঠার দিনই আমার প্ল্যান করে নিয়েছিলাম দিওয়ালী উপলক্ষে আমরা পার্টি করবো ক্যাম্পফায়ার করে ও খাওয়াদাওয়া করে |বাগুবাসা থেকে 15 কিমি ঘেরোলি পাতাই| দুপুরবেলায় হাঁটা শুরু করি ও ননস্টপ হেঁটে প্রায় রাত 8 এর আশেপাশে আমরা পৌঁছাই | রাস্তা নীচু হলেও অন্ধকারে দেখতে না পাওয়ায় ও এবড়ো খেবড়ো হওয়ায় এতো দেরী হয় | আমার হাঁটুর ক্যাপ একটু ডিলে হওয়ায় অসুবিধা হচ্ছিল তাই রাস্তায় খুলেনি যেটা একটা ঐতিহাসিক ভুল | সারারাস্তা ভীষণ ব্যাথায় ভুগেছি এই জন্য হাঁটুতে ,উপরন্তু বুট পরে টানা কয়েকদিন হাঁটার ফলে এমনিতেই ক্লান্তি ছিলো এবং পা ফুলে ছিলো | লাস্টের কিছুটা রাস্তা ক্লান্তির চোটে আমরা সবাই টাল খাচ্ছিলাম | একদিকে খাদ ,তায় জঙ্গলের রাস্তা এবং এবড়ো খেবড়ো | সব মিলিয়ে এক কঠিন সময় | এরই ফাঁকে আমার রুকস্যাকের কবার টা হারিয়ে যায় | যাদের সাথে পার্টি করবো তারা কিছুটা এসে আমাদের জন্য আওয়াজ দিচ্ছিল আমরা ভাবলাম চলেই এসেছি ,ওমা এগোতেই থাকি এগোত থাকি রাস্তা আর আসেনা | পরে বুঝলাম চুপচাপ পরিবেশ তাই আওয়াজ এতো স্পষ্ট আর দূরে আসছে | যাইহোক সেই চরম মুহূর্ত যখন ক্যাম্প দেখতে পেলাম | কোনোমতে বডি এনে ফেলে দিলাম ,ওদের বাজি ফাটানো ,আগুন জ্বালানো ও রান্না শুরু হয়ে গেছে | আমার কোনোমতে রান্নার আগুনের সামনে বসে ঠুঁসে চিকেন খেলাম সঙ্গে গান ,নাচানাচি ,পানীয় |
      ভীষণ ক্লান্ত থাকায় তাড়াতাড়ি শুয়ে পরি কিন্তু স্লিপিং ব্যাগের জায়গায় কম্বল চেয়ে নি | এইদিন সবচেয়ে শান্তির ঘুম হয়েছিলো | সকালে দেরি করে উঠলাম ,ফ্রেশ হয়ে সব গুছিয়ে খেয়েই বেরিয়ে পরলাম | এখানে আসার পর আমার খিদে প্রায় 2 গুন হয়ে গিয়েছিলো অজ্ঞাত কারনে | বাগুবাসায় পৌঁছানোর পর থেকে খাওয়ার ইচ্ছাই কমে গেছিলো | এদিন আবার খিদে যেনো ফিরে এলো | 8 কিমি রাস্তা আসতে কষ্ট হয়নি তবে নীলগঙ্গায় স্নান করতে এবং দেরী করে বেরোনোয় ওয়ান ডুকতে অলমোস্ট বিকেল হয়ে যায় | এই রাস্তায় ফেরায় সময় আমি ভীষণ দ্রত নামছিলাম ফলে সবাই পিছনে পরে যায় | আমি একটা জায়গায় থেমে আওয়াজ দিতে থাকি কিন্তু কারোর থেকে কোনো উত্তর পেলামনা | চারিদিকে জঙ্গল ভাল্লুক থাকে এমনকি মাংসাশী প্রানীও থাকে এটা জানি | ঘেরোলি পাতাই এ একজন বলছিলো কালীপুজোর আগের দিন আমাদের জন্য মাংস আনতে গিয়ে নাকি সে এটা গরুর বাচ্চাকে একটা চিতা টাইপের প্রানী গলায় কামড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে | বেশ ভয় পেয়েছিলাম | আরো স্পিডে প্রায় লাফিয়ে বেশ কিছুটা এগিয়ে যেতে দেখি একটা দোকান যেখানে আমরা ওঠার দিন (রডোডেনড্রনের লাল রঙের সরবত খেয়েছিলাম)বিশ্রাম নিয়েছিলাম | ওয়ান গিয়ে আমরা হালকা খাবার মানে পপকর্ন ,চা বিস্কুট খেয়ে কেনাকাটা করতে বেরিয়ে যাই | মন ভরে কেনাকাটা করি মোটামুটি | তারপর ফেরার পোগ্রাম | মনখারাপের পালা | এর আগেও কিছু ঘটনা বাকি | আমাদের এজেন্সি  বলেছিলো যাওয়ার ও আসার শেয়ায় জিপ ওরা ঠিক করে দেবে যা 700 মতো পরবে | কিন্তু পূর্ব অভিজ্ঞতায় বুঝেগিয়েছিলাম এরা শুধু ব্রোকারের কাজ করেছে গাইডের সাথে দেখা করানোর কাজে ,সব কিছুতেই গাইডের অবদান | স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্বহীনতা পেলাম ,ওদের সাইড থেকে কোনো যোগাযোগ নেই | আমরা অতো মাথা ঘামাইনি | একজনের সাথে কথা বললাম সে বললো 1500 দিলে দেবাল পর্যন্ত পৌঁছে আরেকটা গাড়িতে তুলে দেবে ,তাকে পারহেড আবার 500 দিতে হবে | মানে পারহেড 1000 করে হালদিওয়ানি ফিরতে | অনেক রিকুয়েস্ট করায় মাত্র 100 টাকা কমালো ,সত্যিই বেকার খরচের জন্য এবং প্রথম দিনের গাড়ি ভাড়ার জন্য টাকার সেটিংটা উলটোপাল্ট হয়েছিলো | রাতে খাওয়ায় সময় লোকটা ফোন করে জানায় আপনারা 1200 ই দিন ,আমি 1000 টাকা রাখবো আর 200 টাকা আরেকটা যে গাড়ি যাবে সে একটু উপরে আসবে তাকে দেবো | আমাদের কি এইসব নিয়ে ভেবে ! আমাদের টাকা কম হলেই হলো | তো ভোর 4.30 এ এলার্ম দিলাম ,জ্বালা আমার বেশী ছিলো কারন আমার হালদিওয়ানি থেকে দিল্লির বাসের টিকিট কাটা ছিলো | আমার ব্যাগে একটু পানীয় বাকি ছিলো | তিনজনে ওটা চিয়ারস করে মেরে ঘুমিয়ে পরলাম | সকালে 4.30 উঠে রেডি হয়েনি ,গাইড টাইম মতো চলে আসে | আমরা ব্যাগ নিয়ে ওয়ান স্টেশন আসি | বিদায় পালা ,আমাদের গাইড ভীষণ ভালো ছিলো | একটা মনের টান চলে এসেছিলো ,ঠিক যেরকম রতনের প্রতি পোস্টমাস্টারের কিংবা দেওঘরের স্মৃতি | একটু কষ্ট করে মুখ ফিরিয়ে নিলাম ,গাইডের জন্য আমরা একটা গিফট কিনেছিলাম সেটা এবং আরেকটা জ্যাকেট(এটা গাইডের পছন্দ হয়েছিলো-একটা বন্ধুর জ্যাকেট) তাকে আমরা দিয়েছিলাম | কোলাকুলি … অজ্ঞতা …
          আলমোড়ার মিষ্টি নাকি ভীষণ বিখ্যাত | তাই খাওয়ার ইচ্ছাছিলো আমাদের সকলের | গাড়ি চেজ্ঞ করার সময় প্রথম ড্রাইভারটা দ্বিতীয়(শেয়ার জিপের) ড্রাইভারকে সেটা বলে দেয় | আমরা পথে একজায়গায় থেমে গান্ডেপিন্ডে ব্রেকফাস্ট করি তারপর মনখারাপ নিয়েই আলমোড়া নামি | মিষ্টি খেলাম ,তেমন কিছুই না | তাও বিখ্যাত তো ,বন্ধুরা 2 কেজি নিলো বাড়ি ও অফিসের জন্য আমি কেবল চেখে দেখলাম | তারপর গাড়ি রাস্তা দিয়ে আমাদের নাঁচাতে নাঁচাতে ভীমতাল হয়ে হলদিওয়ানি এসে পৌঁছালো | তখন 5 টা | আমার দুই বন্ধু নৈনিতাল যাবে আর আমি দিল্লী | ওরা একটা হোটেল ভাড়া করলো (আমি 4* রেটিং দেবো এবং ভীষণ সস্তা-এটা বাস স্ট্যান্ডের ওখানে) | আমি ওখানে ফ্রেশ হয়ে নিলাম | অনেকদিন পর শান্তিতে স্নান করলাম ,জামা প্যান্ট পাল্টালাম ,তারপর তিনজনেই খেতে বেরোলাম | ওখানকান বিখ্যাত দোকানে(শ্যাম বোধহয়) কাবাব সহযোগে বিরিয়ানি খেয়ে তারপর হোটেলে ফিরলাম |
    আবার বিদায়ের পালা -”মিলনের সুখ ক্ষনস্থায়ী ,,.বিরহের দুঃখ দীর্ঘস্থায়ী” |
বিদায় জানালাম | আমায় বাসস্ট্যান্ডে ছাড়তে এলো | আমি বাসে বসে পড়লাম | তারপর সুন্দর একটা হাসি দিয়ে আমরা টাটা করে বিদায় নিলাম ,জানিনা আবার এদের সাথে দেখা হবে কিনা ! ট্রিপ শুরুর আগে ভাবনা ছিলো কারা আসবে ,কেমন হবে ! যাওয়ার সময় মনে হলো এদের ছেড়েও থাকতে হবে |
আমি বহুবার হার মেনেছি পাহাড়ে ,প্রকৃত বন্ধুর ন্যায় খেয়াল রেখেছিলো ,আমার জন্য বহুকম্প্রোমাইজ করেছে | সত্যি বলতে এমন করতে আমি পরিবার ছাড়া কাওকে দেখিনি |
ভালো থাকুক …
আবার আসছি পাহাড় …

No comments:

Post a Comment