"Reality is stranger than fiction”
yes miracles happen..
প্রচন্ড উদ আর হঠকারিতায় বাইক নিয়ে নেপাল , ভুটান ঘুরতে বেরিয়ে পরেছিলাম | সব কিছুই কঠিন ছিলো কিন্তু আমরা করতে পেরেছি | সবচেয়ে বড়ো ভুল ছিলো আমি বাইক চালাতে পারিনা যেটা বড়ো একটা ড্রব্যাক ছিলো | ড্রাইভার পবসময় দু-জন হওয়া উচিত এবং লং ট্যুরে হাতের পায়ের গার্ড পরা উচিত এবং অবশ্যই পায়ে বুট | কোনোটাই আমরা নেয়নি |
ষষ্ঠীর দিন রাতে বেরোই কিন্তু বেরোনোর সঙ্গেই ব্রেক ঠিক মতো কাজ করছিলোনা অগত্যা নাগেরবাজার এ পার্টনার বাইক ঠিক করে | 11 টা নাগাদ আমরা জাগুলি পৌঁছাই এবং আমরা কিছু খাওয়া দাওয়া করি | প্ল্যানিং মাফিক রাত 2 টো নাগাদ পলাশীতে পৌঁছানোর কথা কিন্তু হাইরোডে গাড়ি চালানো এবং সিটিতে চালানো কতটা তফাত্ ওই দিনেই বুঝে গিয়েছিলাম | লরি এবং বাস ধুমের স্পিডে গাড়ি চালায় এবং সামনের কারোর তোয়াক্কা করেনা | আর অপজিট লেন থেকে যে গাড়ি গুলো আসে তার আলো চোখে পরে ফলে চালানো আরো কঠিন হয়ে যায় | জাগুলিতে ডোকার আগেই একটা একসিডেন্ট হয়ে যাচ্ছিল - একটা বাস প্রচন্ড গতিতে আমাদের ওভারটেক করতে গিয়ে আমাদের একদম বাঁ দিকে চেপে দেয় ,কোনো মতে সামলে নেওয়া গেছিলো সেইবার |
কৃষ্ণননগর এ ধাবায় বসে খাবার খেলাম তারপর প্রায় ভোর 4 টে নাগাদ পলাশীতে বন্ধুর বাড়ী পৌঁছাই | খুব অল্প সময় আমরা এখানে ঘুমিয়েছিলাম পরেরদিন অনেকটা পথ যেতে হবে বলে | প্রায় 10 এর আশেপাশে আমার পলাশী ছেড়ে শিলিগুড়ির দিকে যেতে থাকি এবং সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম ,প্রচন্ড খাওয়া দাওয়া করে রাত প্রায় 10 টার আশেপাশে ইসলামপুর পৌঁছাই | ওখানে রাতে থেকে পরদিন সকালে ভুটানের দিকে রওনা দিয়েছিলাম | প্রায় 6 টা নাগাদ আমরা ভুটান ডুকি কিন্তু ততক্ষণে ইমিগ্রেশন অফস বন্ধ হয়ে গেছিলো | তাই আমরা ওখানে একটা হোটেল ভাড়া নিয়েনি | সারারাত নাচ ,খাওয়া দাওয়া এবং পরেরদিন সকালেও তাই করে ভুটান ছেড়ে বিকেল নাগাদ শিলিগুড়ি পৌঁছাই | সেদিন রাতে একটা হোটেলে থেকে যাই এবং সকালে নেপালের জন্য বেরিয়ে পরি | নেপাল ডুকে পায়মিশন করিয়ে এলাম কনডেমের দিকে যেতে থাকি | 125 সিসি গাড়ি প্রচন্ড সমষ্যা হচ্ছিল তারসঙ্গে মেঘে ডেকে পাহাড়ে দেখা খুবই সমষ্যার হচ্ছিল | কোনোমতে পৌঁছাই | তারপর টানা গাড়ি চালিয়ে রায়গঞ্জ এসে আর শরীর দিচ্ছিলনা তাই আমারা একটা সস্তার হোটেলে রাতটা কাটিয়ে দিয়েছিলাম | সকালে বেরিয়ে বিকেল নাগাদ পলাশীতে | রতে পলাশীতে ঘুরে পরদিন ভোর নাগাদ বেরিয়ে পরি | একেবারে আমি জাগুলি এসে এখানকার ভাসানের জন্য গতকাল থেকে যাই এবং পার্টনার বাড়ি চলে যায় |
পুরো ট্যুরটায় দুটো একসিডেন্ট হয় ..একটায় গাড়ি রাস্তায় তেল থাকার জন্য স্কিড করে যায় ,সেই সময় আমি হেলমেটও পরেছিলাম না | তবে কেবল দুজনের হাঁটু কেটে গেছিলো আর ওর ফোনের টেম্পারগ্লাসটা ফেটে গেছিলো | আমারা কিছুটা দুরেই হসপিটাল পেয়ে যায় এবং ড্রেসিং করিয়ে ,ইনজেকশন দিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ নিয়ে নি | হাসপাতাল থেকে ভীষণ সাহায্য করেছে এবং আমাদের পিছন থেকে আরেকটা গাড়ি আসছিল তারা বেশ মানবিকতা দেখিয়েছে | তবে হওয়ার পরে আমরা একদমই প্যানিক করিনি | স্কিড করার পরই আমি উঠে দাঁড়িয়ে দেখেনি আমার কোথায় কি হয়েছে ,তেমন কিছু হয়নি বুঝে গিয়ে পার্টনার কে জিজ্ঞাসা করি হাঁড়ে লেগেছে কিনা | ও বলে না লাগেনি | আমরা চাপ নেয়নি |
দ্বিতীয়বারটা বড্ড বোকা | নেপালের পাহাড়ে একজনের সাথে কথা বলার জন্য দাঁড়াতে গিয়ে পড়ে যাই এটাই লাগিনি তবে আমার নতুন ফোনের টেম্পারগ্লাসটা ফেটে গেছে |
ভুটান এবং নেপাল ভীষণ সুন্দর | শারীরিক গঠন দিক দিয়েও প্রত্যেকে সুন্দর | মদ ভুটানে অতিরিক্ত সস্তা |
পুরো জার্নিতে যত জেলার উপর দিয়ে গিয়েছি তাতে সবজেলা খুব সুন্দর লেগেছে |
ভীষণ রিস্কফুল ট্যুর ছিলো কিন্তু পাগলামোটাও সেরকম লেভেলের ছিলো | এরকম আর জীবনে পারবো কিনা জানিনা ! অসংখ্য অভিজ্ঞতা যা বলা যায়না … মানুষদের জানা ..দেশ দেখা … নিজেকে চেনা ...গান্ডে পিন্ডে গেলা ...সার্থক এই পাছায় ব্যাথা আর পরিশ্রম |
No comments:
Post a Comment