Friday, 15 April 2016

সন্দেশখালি-ভোলাখালি-আগরাতলা ও তার পার্শবর্তী অঞ্চলের বর্তমান অবস্থা

40° সেন্টিগ্রেড | ওদের মাথার উপর দো-তলা পাকা বাড়ী নেই | এসি তো দূর কি বাত | রাতের খাবার জুটবে কিনা তা তারা জানেন না ,ভাবেও না | ইঁদুর পুড়িয়ে বা চোলাই বেচে জীবন যুদ্ধে টিকে থাকে | তাদের উপস্থাপনা করে যে মানুষ সে ভোটে দাঁড়িয়ে ,বাইক কিনে , এসি লাগিয়ে নেতা হয়ে গিয়েছে | ভোলাখালি থেকে কালিনগর ঘাট পর্যন্ত একটি মাত্র কলেজ ও হাইস্কুল | সন্দেশখালি-ভোলাখালি দিক থেকে যারা আসে তাদের কাঠ ফাটা রোদে অন্তত 4 কিলোমিটার হেঁটে বা সাইকেলে আসতে হয় টাকা বাঁচানোর তাগিদে কিংবা অভাবে | জলের সমস্যা এখন সব জায়গায় ,তা বলার এখন আর প্রয়োজন নেই | পানীয় জলের গুণগত মান কতটা তা স্বাদেই বোঝা যায় |
           আয়লা এই অঞ্চল টিকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল | দ্বীপ টি এর এক অংশ বাদে বাকি সমস্ত অংশের বাঁধ ভেঙ্গে যায় , ফলাফল ইতিহাস |  আগরাতলায় আমার মামার বাড়ী ,এখান থেকে 25 মিঃ দূরেই | মামার মাটির বাড়ী ভেঙে যায় ,সরকারের তরফে বাড়ী তৈরীর সাহায্য পাঠালেও তা মাঝের পথে কোনো রাজনৈতিক ব্যাক্তি আত্মসাত্ করে | কয়েক বছর আগেও ভোলাখালি অঞ্চল ঠিক যেরকম দেখেছি তার অবস্থার উন্নতি কোনো রকম হয়নি |
          দাদার বক্তব্য অনুযায়ী কালিনগর মহাবিদ্যালয়ের শেষ বারের ভোটের রূপ তারা আগে কখনও দেখেনি | ভোটের আগের দিন বন্দুকধারী কিছু বহিরাগত এসে হাতে বন্দুক নিয়েই মিছিল করে যা এই তল্লাটে প্রথম | এই স্থানটির রাজনৈতিক পরিচিতি বরাবরই নিন্মমানের | এছাড়া বরংবার সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে খুন ও ছাত্র নেতার হাতে শিক্ষক নিগ্রহ |
          এখানকার নিরপেক্ষ  শিক্ষিত ও সচেতন সমাজের সাথে কথা বলে যা বুঝলাম তাতে খুব বেশী অবাক হয়নি | প্রত্যন্ত গ্রাম গুলির মতো এখানকার মানুষ গুলির মধ্যেও চরম মুসলিম বিদ্বেষ রয়েছে যার দরুন স্থানীয় মুসলিমরা স্বাভাবিক ভাবেই হিন্দু বিদ্বেষ পোষণ করে | পরিস্থিতি না বুঝে সমকামী তার পক্ষ নেওয়ায় জনা চারেকের সাথে বিতর্কে যেতে হয় |  আলোচনায় তারা একই বিষয়ে আটকে থাকে এবং সমকামী রা “ এবনর্ম্যাল” এরকম বক্তব্য প্রকাশ করে যায় | একজন আর .এস .এস কর্মীকে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টিতে আর .এস .এস এর ভূমিকা বোঝাতে গেলে যেমন হয় ঠিক সেরকম অবস্থা আমার ছিল ,আমার  অপরিপক্ক বক্তব্য আংশিক দায়ী অবশ্য |
          বিদুত্ প্রসঙ্গে :- বরাবরই এখানে বিদুত্ নিয়ে নানা সমস্যা ছিল | ওভারহেড ট্রান্সমিশান লাইন হওয়ায় জন্যই মূলত ঝড় বৃষ্টি  হলে বিদুত্ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয় | এছাড়া গরম কালে দিনে 3-4 বার তো বটেই উপরন্তু শীতকালেও কারেন্ট যাওয়ার বিরাম থাকে না | সমাজ বিছিন্ন বা পিছিয়ে পরা বহু মানুষের বাস হওয়ার এবং শিক্ষাগত ব্যবস্থার পর্যাপ্ত ব্যাপ্তি না হওয়ায় সরকারি চাকরী থেকে এদের সম্পর্ক বহু গুণ দূরে | এখানকার মানুষজন এস .সি ,এস .টি সার্টিফিকেট কিভাবে কাজে লাগানো যায় তা বহু অংশে তাদের অজানা | চাকরী পাওয়ার প্রতিকূল পরিবেশে বাস করায় জীবিকা নির্বাহ করার জন্য তুলনামূলক মফঃস্বল অঞ্চলের মানুষরা ছোট ছোট ব্যাবসা করে থাকেন | কারোর চায়ের দোকান ,কেও সাইকেল সারানোর দোকান চালায় আবার কারোর আইসক্রিম বা ইলেকট্রনিক্সের দোকান | প্রসঙ্গত ,দ্বীপে এই দোকানগুলি হওয়ায় নদী পার হয়ে কেও এই দোকান গুলি তে আসতে চায় না ,শহরকেন্দ্রিকতা তারা পছন্দ করেন | যারা এই দ্বীপে ছোটো ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা সরবরাহ করে তাদেরও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বিদুত্ এর জন্য | 2-3 দিন কারেন্ট না থাকলে আইসক্রিমের দোকান ,প্রিন্টের দোকান কিংবা মোবাইল রিচার্জের দোকান গুলি বিশেষ সাহায্য করতে পারেনা | এখান থেকে সামান্য দূরে একটি জায়গায় কারেন্ট একদিম ই যেতো না তাই এক মাস্টারমশাই নিজের খরচে কাঠ থেকে বিদুত্ বানানোর একটি প্ল্যান্ট মতো তৈরি করেন যা প্রথম দিকে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করলেও বর্তমানের খবর অনুযায়ী এখন সারাদিন কাজ করছে |
    বাংলাদেশের বর্ডার ঘেঁষা এই জায়গার মানুষরা বেশ মুসলিম বিদ্বেষি তাই এই স্থান গুলি বিজেপির খনিজ সম্পদ এবং তাদের পতাকার আধিক্য আমায় অন্তত সেই প্রমাণ ই দিয়েছে এবার |
           এখানকার অনিশ্চয়তার মাঝেও পরম প্রাপ্তি হলো অসংখ্য অভিজ্ঞতা ও দিনের শেষে ঘাটের ধারের হিম শীতল হাওয়ার স্ত্রোত |

No comments:

Post a Comment