দূর্জেয় কারন ৩০ ঘন্টার মধ্যে মেদেনীপূর গিয়ে আবার ফিরে আসা তাও বাইকে একপ্রকার বিস্ময়ের ব্যাপার ।
মন কিছুদিন গ্রাম গ্রাম করছিলো , সবার মন কেমন কেমন করে আর আমার ঘোরা ঘোরা।
বাইক রাতে চালাতে পছন্দ করিনা তায় আমার মরতে ভীষন ভয় , অনেককিছু অদেখা যে । অতৃপ্ত হয়ে মরলে ভূত অবশ্যই হবো তাই আরকি রাতে বাইক চালানো এড়িয়ে চলি । কিন্তু কপালের দোষ থাকলে কি আর করা যায় । ভেবেছিলাম শনিবার দুপুরের মধ্যে কাজ করে বেরিয়ে পড়বো । ওই যে অরন্যের প্রাচীন প্রবাদ , যেদিন তাড়া থাকবে সেদিন বেশি করে কাজ পড়বে আর দেরি হবে ।
বাড়ি ফিরে বেরোনোর সময় দেখি ৫.৩০ বাজে , নন্দকুমার থেকে আবার সিঙ্গেল লেন । ৪৫ মিঃ আলো পাবো তাই ওই টুকু সময় যথাসম্ভব জোড়ে চালিয়ে এগিয়ে গেলাম । সন্ধ্যের পরও খুব একটা সমষ্যা হচ্ছিলোনা কোলাঘাট অবধি দুদিকে আলো থাকায় কিন্তু কোলাঘাট পেরোতেই বিপত্তি । কোনো আলো না থাকায় অন্য লেনের আলো চোখে লাগায় রাস্তা একদমই দেখা যাচ্ছিলোনা । আমি এভারেজ স্পিড নিয়ে যথাসম্ভব সাইড করে ডিপারের আলো জ্বালিয়ে আর হর্ন মারতে মারতে এগোচ্ছিলাম । বহুসময় রাস্তা দেখতে পাচ্ছিলামনা , আন্দাজ করে চালাতে হচ্ছিলো । রাস্তার ধার দিয়ে গেলে, থাকে আরেক চিন্তা, সেটা হলো হুট করে কোনো প্রানী বা মানুষ চলে আসতে পারে , এমনিতে এই অবস্থা তায় সেরকম কিছু হলে গোঁদের উপর বিষফোঁড়া হতো তবে তেমন কিছু ঘটেনি । নন্দকুমার এসে চা খেলাম , রাস্তা এখান থেকে সিঙ্গেল লেন । ৩০-৪০ গতি রেখে এগিয়ে গেলাম , রাস্তার কাজ হওয়ায় এদিকে রাস্তাটা একটু খারাপ । চালিয়ে চলে এলাম বাজকুল , এখানে এক দাদার বাড়িতেই থকাবার কথা । বাজকুল থেকে প্রায় ১৬ কিঃমিঃ দূরে তাদের বাড়ি । একটা লোকের ওদিকেই যাওয়ার কথা ছিলো , সে ছেড়ে দিতে বলায় তাকে নিয়ে নিলাম । যখন দাদাটার বাড়ি ডুকলাম তখন বাজে ১০ ।
ফ্রেশ হয়ে খাওয়ার সময় পেলাম গ্রামের সেই আতিথেয়তা যার জন্যই এখানে আসা । এত পদ যে রুটি মাত্র ২ টো খেতে পারলাম , সব্জি মিষ্টি খেয়েই পেট ভরে গিয়েছিলো ।
অনেকক্ষন আড্ডা মেরে ঘুমাতে গেলাম , ভোরভেলা দাদাটা উঠে চলে যায় ধান ঝাড়তে । আমি উঠে একটু পর ধান ঝাড়া দেখতে মাঠে গেলাম । তবে ধান ঝাড়া কম আর সাপ দেখা বেশি হলো, এদিক ওদিক ছড়িয়ে বহু সাপ । আমার আবার বড্ড অপছন্দের এই সাপ । ওরা বললো এদের বিষ নাই তবুও সাপের চুমু খাওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিলোনা তাই ঘরে চলে এলাম । চা বিস্কুট আর তারপর মেদেনীপুরের ট্রাডিশনাল খাওয়ার মুড়ি , ঝুরিভাজা, আলু ভাজা, ডিম ভাজা ,শসা কুচি। সে পুরো অমৃত ।
এতদূর এলাম আর দীঘা যাবোনা ? তাড়াতাড়ি দেশী মুরগীর দিয়ে ভাত খেয়ে একেবারে দীঘাতট ।
পরেরদিন আবার অফিস ধরতে হবে তাই রাতে ফেরা জরুরি , অল্পসময় থেকে বেরিয়ে পড়লাম । বাজকুলে দাদাটিকে নামিয়ে নন্দকুমার ডুকছি যখন তখন আলো একদমই নেই। ধীর গতিতে ডিপার জ্বেলে আর হর্ন বাজিয়ে কোলাঘাট এসে চা খেলাম । মুম্বাই রোড অধিকাংশ আলো জ্বলে থাকার বদলে বন্ধ ছিলো । নিয়ন্ত্রিত গতিতে একেবারে উলুবেড়িয়া গিয়ে থেমে চা খেলাম । কনুইয়ের উপরটা তখন ব্যাথা করছে । পুরো জার্নির একটা ভুল করেছিলাম সেটা ফেরার সময় । একটা সময় রাস্তার মাঝ বরাবর গাড়ি চালাচ্ছিলাম পিছন থেকে একটা গাড়ি এসে ডিপার মারচ্ছিলো কিন্তু মিরর দেখে বুঝতে পারছিলামনা কোনদিকে যাবো কারন দুদিকে দুটো লরি । একটু রিস্ক নিয়েই বাঁদিকে গেলাম সামান্য , গাড়িটা সাইড থেকে বেরিয়ে যায়। আর অসুবিধা হয়নি। একেবারে বালি হয়ে ডানলপ ধরে ১০ টা নাগাদ বাড়ি ।
শহরের কোলাহল , কাজ ,চাপ, যখন মাথাব্যাথা হয়ে ওঠে তখন গ্রামের স্নিগ্ধতা মনে শান্তি আনে, যেমনটা আনে মায়ের কোল ।
সবার মন কেমন কেমন করে আর আমার টা ঘোরা ঘোরা ......
Hello Visiter, this is my personal blogging site. The contents are purely my own view on respective topics. Please leave your opinion on my post whenever you visit this page. This will help me to communicate with the thinking of everybody. Thanks !
Monday, 9 July 2018
দূর্জেয় মেদেনীপূর....
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment