Thursday, 21 April 2016

সুখ দুঃখের সমাহার -একদিনের অভিজ্ঞতা

গতকাল খুব ক্লান্ত ছিলাম তাই সারাদিনের কার্যকলাপ লিখে উঠতে পারিনি | পূর্বে এরকম বাজিয়ে ,গলা হাঁকিয়ে , কোনো দিনের অভিজ্ঞতার কথা লিখিনি | তবে যে জন্য লিখতে ইচ্ছে করল তা নিতান্ত সামান্য কারণে | জীবনের চড়াই উতরাই একসঙ্গে বহুবার দেখছি ..

        গতপরশু বলেছিলাম গতকাল অনেক প্ল্যান রয়েছে | আমার ঘুম সহজে ভাঙেনা ,একাধিক এলার্ম বারবার বেজে গেলেও নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকি | তাই যেদিন খুব দরকারে সকালে উঠতে হয় সে 8 টায় হোক কিংবা 10 টায় আমার এক বান্ধবী আমায় বারংবার টানা ফোন করে যায় যতক্ষণ না আমি ফোন তুলে কথা বলি | জঙ্গল বুক সিনেমার টিকিট কাটা ছিল ,সকাল 11.05 এ শো ,স্বাভাবিক নিয়মে বান্ধবী আমায় সকালে ফোন করে কিন্তু জানতে পারি তার বমমা (জ্যাঠার বৌ)  মারা গেছেন |

     ফ্ল্যাশব্যাক ……….

আমার ভুলে যাওয়া অভ্যেস রয়েছে তা সঠিক মনে নেই তবে যতদূর মনে পরে  দুইবছর বয়েস কিংবা ক্লাস টুয়ে থাকাকালিন বান্ধবীর বাবা মারা যায় | আদরের জ্যাঠামশাই জড়িয়ে বলেছিল ‘চিন্তা কি ! আমি তো আছি |’ কালের অমোঘ নিয়মে বা ভাগ্যের পরিহাসে সেও চলে যায় ,শেষ জীবনে বোধহয় পাগল হয়ে গিয়েছিলেন ,ঠিক মনে করতে পারিনা | জ্যাঠার ছেলে ‘ভাইদা’ এর সংসারের দায়িত্ব | সরকারি চাকুরে | পরিবারের লোক বলতে ভাইদা ,তার স্ত্রী ও বাচ্চা মেয়ে  ,ভাইদার মা (বমমা) ,আমার বান্ধবী ও বান্ধবীর মা | পারিবারিক স্বচ্ছলতা বরাবরই ছিল , যেটা ছিলনা পারিবারিক শান্তি | ভাইদার স্ত্রী আমার বান্ধবীকে পছন্দ করেন না ,বলা যেতে পারেন দেখতেই পারেন না | স্বাভাবিক ভাবেই বান্ধবীটি তাকে পছন্দ করেনা (অন্তত এটা না বললে আমায় একপাক্ষিক ভাবতে পারেন তাই উল্লেখ করলাম ) | আমি জানিনা ভাইদার বৌ বাড়ীতে কোনো কাজ করেন কিনা ! তবে এটুকু জানতাম আমার বান্ধবী টি ঘুম প্রিয় হলেও সকাল সকাল উঠে রান্না করে ঘর মুছে ,কলেজ গিয়ে ,টিউশন পড়িয়ে ,টিউশনি করে , অর্নাসের পড়াশুনা করে ,রান্না করে ,বিছানা ঘুচিয়ে ,খেয়ে ,1 টা অবদি ফেবু করতো | অনেকে এটা ভাবতেই পারে যার বাবা নাই তাদের এরকম করুন পরিণতি হয় বরং তার কৃতঞ্জ থাকা উচিত তার পরিবারের কাছে পড়াশুনার খরচ ও খাওয়া দেওয়ার জন্য | এক্ষেত্রে কিছুটা হতাশ করবো কারণ আমার বান্ধবীর বেশ খরচ তার ভাইদা দিলেও সে কিন্তু টিউশন পড়িয়ে অনেকটা চালাতো | উপরন্তু বেশ কিছুদিন হলো বান্ধবীদের বাড়ীতে সমান অধিকার থাকলেও তাদের নীচের তলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় ,আলাদা গ্যাস , থালা বাসন দিয়ে দেওয়া হয় বলা হয় চাল ,ডালের খরচ দিয়ে দেওয়া হবে বাকি মাছ ,মাংস নিজেকে কিনতে হবে | এতদিন একই জায়গায় রান্না হতো | হাঁড়ি আলাদা হলো |  বর্তমানে নানারকম খোঁটা ,বিয়ে দিয়ে দেওয়া প্ল্যানের মাঝেও যেটুকু বেঁচে থাকতো বমমার মারা যাওয়ায় তার সলিল সমাধি ঘটল |  আমি শালা একটু কঠোর কিনা জানিনা দূরে থাকলে রিচার্জ করতে হলে ওকেই বলি ,সে ঠিক ভরেই দেয় | শুধু তাই নয় বহু ভালো খাবার খাওয়ার বায়না ধরি আর সে আমায় বানিয়েও দেয় | একবার তো আমি চাও বানাতে বলেছিলাম ,সে বানিয়েছিল কিন্তু আমি দেখা করে না নিতে পারায় চাওমিনকে সমাধিস্থ হতে হয় | “এটা দেখে কেও যদি ড্যামনামো করে তার কাছ থেকে খাওয়ার  কথা ভাবে কিংবা রিচার্জ করানোর কথা চিন্তা করে তাহলে বলবো নিশ্চিন্তে থাকুন আমি জানতে পারবো এবং তা হতে দেবো না | তাতে আমার ও আপনার নয় বরং বান্ধবীর সাথে আপনার সম্পর্ক খারাপ হবে | আমিই সেই ব্যাবস্থা করবো | না ,অধিকার ফলানো টলানো কিছুই নয় ,গাঢ় বন্ধুত্বের জন্যও নয় , ওই মানুষটিকে ভালো রাখার জন্য |” ডবল কোটেড লেখাটা আমি নাই লিখতে পারতাম কিন্তু ড্যামনা মানুষের অভাব তো নেই তাই স্পষ্ট ভাবেই উল্লেখ রাখলাম |

    আবার বর্তমানে ………

সহানুভূতি আমার খুব সহজে আসে না ,দিতে যে পছন্দ করি তাও নয় | স্বাভাবিক কথাবার্তার পর ফোন রেখে তৈরি হয়ে বেরিয়ে পরি গন্তব্যের দিকে -জঙ্গল বুক | থ্রী ডি পিকচার নয় ইরফান খান ,আমায় প্রায় 1 ঘণ্টা চুপটি করে বসিয়ে রেখেছিল ওই মিষ্টি ভাল্লুকের ছদ্মবেশে | নানাজী কম যায় নি ,আওয়াজ টি অনবদ্য মানিয়েছে শের খাঁ কে | আর একজম মন কেড়েছে সে হল প্রিয়াঙ্কা | অল্প তবে মারাত্নক ভাবে উপস্থিতি বুঝিয়েছে | গল্প বা বাকি সব কিছু হলে গিয়েই দেখতে হবে ,আমি বলে মজা নষ্ট করবো না | তারপর বেরিয়ে গরমে ঘেমে নেয়ে জয়া হলে আসি এবং একপ্লেট মোমো গরমে নিশ্চিন্তে হজম করে ফেলি তারপর ফ্যানের রাত্রের টিকিট কেটে বাড়ী চলে আসি |

বাড়ীতে বিরিয়ানী হওয়ার কথা ছিল এবং সমস্ত উপকরণ আনা হয়েছিল কিন্তু বাধ সাদলো এই অচেনা গরম | মনক্ষুন্ন হলো আমার | এমনিতে মায়ের রান্না আমার ভালোলাগেনা | মাংস আর চাউমিন ছাড়া মার কোনো রান্না আমার পছন্দ হয়না | যাই হোক দিদি আবার অনবদ্য রান্না করতে পারে ,বিরিয়ানী তারই করার কথা ছিলো শেষ অবদি মাংস ,মাছ এবং মাছের তেলের কি একটা বানিয়েছিল | বিশ্বাস করুন আমি বহু ভালো স্বাদের এই আইটেম গুলি খেয়েছি কিন্তু এরকম ইউনিক আর সুস্বাদু কোনোদিনও খাইনি কিন্তু  গরমের জন্য বারবার হাঁপিয়ে যাচ্ছিলাম  | বহু সময় লেগেছে এবং খাবারের পর উপলব্ধি করলাম বিরিয়ানী খেলে বাঁচতাম না অথচ মাংস মাত্র এক টুকরো খেয়েছি | খাসী খেলে কেনো জানিনা অসুস্থ বোধ করি |  তারপর তো আমায় দেখে কে ,পুরো দুপুর শুয়ে কাটালাম নড়চড়া বন্ধ | পরিবারের সাথে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে সন্ধ্যে বেলার পর বেরিয়ে পরি ফ্যান দেখতে | গুরদেব যতই যা করুক আমার কাছে কেনো জানিনা কম মনে হয় | আরও বেশী আশাকরি সমস্ত বিষয়(স্টোরি) নিয়েই | যাই হোক প্যাটিস আর ফ্যান এই দুই কম্বো ভালোই সময় উপহার দিয়েছে | পেট ভর্তি ছিল প্রায় এবং শরীর ক্লান্ত তাই রাত্রে এসে প্রায় না খেয়েই বডি খাটে লাগিয়ে দিনের দ্যি ইন্ড ঘটাই |

     কাঁটা কিন্তু প্রথমেই গলায় বেঁধেছিল |

বহুদিন পর আজ কলেজ গেলাম ,ম্যাডামরাও খুব ভালো মুডে ছিলেন | ভালো সময় আড্ডা দিয়ে কাটালাম ম্যাডামদের  ও বন্ধুদের সাথে | কিন্তু প্রাপ্তি হলো পুরানো এক বন্ধুর সাথে অনেকদিন পর দেখা হওয়া | তার সাথে আড্ডা ,খাওয়া দাওয়া এক অন্য জগতে নিয়ে গিয়েছিলো আমায় | আমি জানি সে অনুভূতি কিরকম | কিছু জিনিস বুকে এঁকে রাখাই শ্রেয় |

শুভরাত্রি ...

Friday, 15 April 2016

সন্দেশখালি-ভোলাখালি-আগরাতলা ও তার পার্শবর্তী অঞ্চলের বর্তমান অবস্থা

40° সেন্টিগ্রেড | ওদের মাথার উপর দো-তলা পাকা বাড়ী নেই | এসি তো দূর কি বাত | রাতের খাবার জুটবে কিনা তা তারা জানেন না ,ভাবেও না | ইঁদুর পুড়িয়ে বা চোলাই বেচে জীবন যুদ্ধে টিকে থাকে | তাদের উপস্থাপনা করে যে মানুষ সে ভোটে দাঁড়িয়ে ,বাইক কিনে , এসি লাগিয়ে নেতা হয়ে গিয়েছে | ভোলাখালি থেকে কালিনগর ঘাট পর্যন্ত একটি মাত্র কলেজ ও হাইস্কুল | সন্দেশখালি-ভোলাখালি দিক থেকে যারা আসে তাদের কাঠ ফাটা রোদে অন্তত 4 কিলোমিটার হেঁটে বা সাইকেলে আসতে হয় টাকা বাঁচানোর তাগিদে কিংবা অভাবে | জলের সমস্যা এখন সব জায়গায় ,তা বলার এখন আর প্রয়োজন নেই | পানীয় জলের গুণগত মান কতটা তা স্বাদেই বোঝা যায় |
           আয়লা এই অঞ্চল টিকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল | দ্বীপ টি এর এক অংশ বাদে বাকি সমস্ত অংশের বাঁধ ভেঙ্গে যায় , ফলাফল ইতিহাস |  আগরাতলায় আমার মামার বাড়ী ,এখান থেকে 25 মিঃ দূরেই | মামার মাটির বাড়ী ভেঙে যায় ,সরকারের তরফে বাড়ী তৈরীর সাহায্য পাঠালেও তা মাঝের পথে কোনো রাজনৈতিক ব্যাক্তি আত্মসাত্ করে | কয়েক বছর আগেও ভোলাখালি অঞ্চল ঠিক যেরকম দেখেছি তার অবস্থার উন্নতি কোনো রকম হয়নি |
          দাদার বক্তব্য অনুযায়ী কালিনগর মহাবিদ্যালয়ের শেষ বারের ভোটের রূপ তারা আগে কখনও দেখেনি | ভোটের আগের দিন বন্দুকধারী কিছু বহিরাগত এসে হাতে বন্দুক নিয়েই মিছিল করে যা এই তল্লাটে প্রথম | এই স্থানটির রাজনৈতিক পরিচিতি বরাবরই নিন্মমানের | এছাড়া বরংবার সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে খুন ও ছাত্র নেতার হাতে শিক্ষক নিগ্রহ |
          এখানকার নিরপেক্ষ  শিক্ষিত ও সচেতন সমাজের সাথে কথা বলে যা বুঝলাম তাতে খুব বেশী অবাক হয়নি | প্রত্যন্ত গ্রাম গুলির মতো এখানকার মানুষ গুলির মধ্যেও চরম মুসলিম বিদ্বেষ রয়েছে যার দরুন স্থানীয় মুসলিমরা স্বাভাবিক ভাবেই হিন্দু বিদ্বেষ পোষণ করে | পরিস্থিতি না বুঝে সমকামী তার পক্ষ নেওয়ায় জনা চারেকের সাথে বিতর্কে যেতে হয় |  আলোচনায় তারা একই বিষয়ে আটকে থাকে এবং সমকামী রা “ এবনর্ম্যাল” এরকম বক্তব্য প্রকাশ করে যায় | একজন আর .এস .এস কর্মীকে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টিতে আর .এস .এস এর ভূমিকা বোঝাতে গেলে যেমন হয় ঠিক সেরকম অবস্থা আমার ছিল ,আমার  অপরিপক্ক বক্তব্য আংশিক দায়ী অবশ্য |
          বিদুত্ প্রসঙ্গে :- বরাবরই এখানে বিদুত্ নিয়ে নানা সমস্যা ছিল | ওভারহেড ট্রান্সমিশান লাইন হওয়ায় জন্যই মূলত ঝড় বৃষ্টি  হলে বিদুত্ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয় | এছাড়া গরম কালে দিনে 3-4 বার তো বটেই উপরন্তু শীতকালেও কারেন্ট যাওয়ার বিরাম থাকে না | সমাজ বিছিন্ন বা পিছিয়ে পরা বহু মানুষের বাস হওয়ার এবং শিক্ষাগত ব্যবস্থার পর্যাপ্ত ব্যাপ্তি না হওয়ায় সরকারি চাকরী থেকে এদের সম্পর্ক বহু গুণ দূরে | এখানকার মানুষজন এস .সি ,এস .টি সার্টিফিকেট কিভাবে কাজে লাগানো যায় তা বহু অংশে তাদের অজানা | চাকরী পাওয়ার প্রতিকূল পরিবেশে বাস করায় জীবিকা নির্বাহ করার জন্য তুলনামূলক মফঃস্বল অঞ্চলের মানুষরা ছোট ছোট ব্যাবসা করে থাকেন | কারোর চায়ের দোকান ,কেও সাইকেল সারানোর দোকান চালায় আবার কারোর আইসক্রিম বা ইলেকট্রনিক্সের দোকান | প্রসঙ্গত ,দ্বীপে এই দোকানগুলি হওয়ায় নদী পার হয়ে কেও এই দোকান গুলি তে আসতে চায় না ,শহরকেন্দ্রিকতা তারা পছন্দ করেন | যারা এই দ্বীপে ছোটো ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা সরবরাহ করে তাদেরও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বিদুত্ এর জন্য | 2-3 দিন কারেন্ট না থাকলে আইসক্রিমের দোকান ,প্রিন্টের দোকান কিংবা মোবাইল রিচার্জের দোকান গুলি বিশেষ সাহায্য করতে পারেনা | এখান থেকে সামান্য দূরে একটি জায়গায় কারেন্ট একদিম ই যেতো না তাই এক মাস্টারমশাই নিজের খরচে কাঠ থেকে বিদুত্ বানানোর একটি প্ল্যান্ট মতো তৈরি করেন যা প্রথম দিকে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করলেও বর্তমানের খবর অনুযায়ী এখন সারাদিন কাজ করছে |
    বাংলাদেশের বর্ডার ঘেঁষা এই জায়গার মানুষরা বেশ মুসলিম বিদ্বেষি তাই এই স্থান গুলি বিজেপির খনিজ সম্পদ এবং তাদের পতাকার আধিক্য আমায় অন্তত সেই প্রমাণ ই দিয়েছে এবার |
           এখানকার অনিশ্চয়তার মাঝেও পরম প্রাপ্তি হলো অসংখ্য অভিজ্ঞতা ও দিনের শেষে ঘাটের ধারের হিম শীতল হাওয়ার স্ত্রোত |